Menu

আহসান রাজীব বুলবুল, প্রধান সম্পাদক, প্রবাস বাংলা ভয়েস :: কানাডার ইমিগ্রেশন বিভাগের কিছু কর্মীর বিরুদ্ধে গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

টরোন্টো স্টার জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কানাডা ও বিদেশি মিশনগুলোতে পরিচালিত তদন্তের ভিত্তিতে প্রকাশিত ইমিগ্রেশন বিভাগের বার্ষিক “মিস্ কন্ডাক্ট এন্ড রংডুইং”( “Misconduct and Wrongdoing Report”) -এ মোট ১০৫টি প্রমাণিত অসদাচরণের ঘটনা উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে উপ-ইমিগ্রেশন মন্ত্রী টেড গ্যালিভান বলেন, “১০ হাজারের বেশি কর্মী থাকা একটি প্রতিষ্ঠানে কিছু মাত্রার অনিয়ম ঘটতেই পারে। তবে যখন মানদণ্ড ভঙ্গ হয়, তখন জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০৫টি ঘটনার মধ্যে ৫৬টি ছিল প্রশাসনিক অসদাচরণ সংক্রান্ত। এর মধ্যে ৪৭টি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল কর্মঘণ্টা চুরি, দেরি করে আসা, অনুপস্থিত থাকা কিংবা অনুমতি ছাড়া ছুটি নেওয়া।

একটি ঘটনায় দেখা যায়, একজন কর্মী এপ্রিল ২০২০ থেকে অক্টোবর ২০২৩ পর্যন্ত ফেডারেল সরকারের অধীনে একই সময়ে দুটি পূর্ণকালীন চাকরি করেছেন। তিনি নিয়মিত কর্মঘণ্টা এবং ওভারটাইম উভয় ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ “টাইম থেফট” করেছেন। এমনকি সুপারভাইজারদের বিভ্রান্ত করতে নির্দিষ্ট সময়ে ইমেইল পাঠিয়ে নিজেকে কর্মরত দেখানোর চেষ্টা করেন।

আরও কিছু ঘটনায় দেখা গেছে—একজন কর্মী প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। একজন নিজের লগইন তথ্য পরিবারের সদস্যদের দিয়ে অফিসে উপস্থিত থাকার ভান করেছেন। আরেকজন ভুয়া মেডিকেল রিপোর্ট জমা দিয়েছেন।

অন্য প্রশাসনিক অনিয়মগুলোর মধ্যে ছিল কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করা, সুপারভাইজারের যোগাযোগের জবাব না দেওয়া, অনুমোদনহীন স্থান থেকে কাজ করা, গোপনীয়তা নীতিমালা ভঙ্গ করা এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১০টি ঘটনা ছিল আচরণবিধি লঙ্ঘনের সঙ্গে সম্পর্কিত। ২০২৩ সালে অটোয়ায় ইমিগ্রেশন বিভাগের সদরদপ্তরের এক নির্বাহীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়, যা পরে আরও দুই নির্বাহী কর্মকর্তাকে অন্তর্ভুক্ত করে বিস্তৃত হয়। তদন্তে উঠে আসে, প্রথম নির্বাহী কর্মকর্তা তার অধীনস্থ এক কর্মীকে — যিনি তার প্রেমের সঙ্গীও ছিলেন — পদোন্নতি পাইয়ে দিতে বিশেষ সুবিধা দিয়েছেন। ওই কর্মীকে অতিরিক্ত ওভারটাইম দেওয়া হয় এবং তার এক আত্মীয়কে চাকরির প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

আরেক নির্বাহী কর্মকর্তা বিভিন্ন ব্যক্তির জীবনবৃত্তান্ত অধীনস্থ কর্মীদের কাছে পাঠিয়ে নির্দিষ্ট লোকজনকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এর ফলে তার পরিবারের এক সদস্য চাকরি পান। এমনকি আরেক নির্বাহীর সুপারিশ করা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট বেতনে নিয়োগ দিতে চাপ দেওয়ার অভিযোগও উঠে আসে। তৃতীয় এক নির্বাহী কর্মকর্তা আরেক কর্মকর্তার ভাগ্নিকে চাকরি দেওয়ার বিনিময়ে নিজের পরিবারের সদস্যকে চাকরি দেওয়ার প্রস্তাব দেন, যদিও শেষ পর্যন্ত সেই “চাকরি বিনিময়” বাস্তবায়িত হয়নি।

আরেক ঘটনায়, এক কর্মী নিজেকে কানাডিয়ান কূটনীতিক পরিচয় দিয়ে একটি পাবলিক ব্লগ পরিচালনা করতেন। সেখানে তিনি দূতাবাসের অভ্যন্তরীণ আলোচনা, সহকর্মীদের ব্যক্তিগত কথোপকথন এবং যে দেশে কর্মরত ছিলেন সেই দেশের সরকার ও জনগণ সম্পর্কে মতামত প্রকাশ করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব কর্মকাণ্ড ইমিগ্রেশন বিভাগের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে পারত। আরও ১২ জন কর্মী তাদের ক্ষমতা ও সিস্টেম অ্যাক্সেস ব্যবহার করে নিজেদের, পরিবার, বন্ধু বা পরিচিতদের ইমিগ্রেশন ফাইলের তথ্য খোঁজ করেছেন বা কৌতূহলবশত বিভিন্ন ফাইলের অবস্থা দেখেছেন।

এক কর্মী চারবার ইমিগ্রেশন কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে প্রবেশ করে বিচ্ছিন্ন পরিবারের এক সদস্যের অবস্থান এবং যার বিরুদ্ধে তিনি আইনি ব্যবস্থা নিয়েছিলেন, সেই ব্যক্তির তথ্য অনুসন্ধান করেন।

প্রতিবেদনে ২২টি হয়রানি, সহিংসতা ও অসম্মানজনক আচরণের ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে। পাঁচজন কর্মীর আচরণ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কানাডার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করা হয়। এসব ঘটনার মধ্যে ছিল বর্ণবাদী ও বৈষম্যমূলক মন্তব্য, ভুল তথ্য উপস্থাপন এবং অনুপযুক্ত আচরণ।
এক কর্মীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে।

প্রমাণিত এ সকল ১০৫টি ঘটনার প্রত্যেকটির ক্ষেত্রে প্রশাসনিক বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব ব্যবস্থার মধ্যে ছিল সতর্কতামূলক চিঠি, প্রশিক্ষণ, সর্বোচ্চ ৩০ দিনের সাময়িক বরখাস্ত, লিখিত তিরস্কার এবং চাকরিচ্যুতি। এটি ছিল ইমিগ্রেশন বিভাগের দ্বিতীয় বার্ষিক অসদাচরণ প্রতিবেদন। গত বছর ৬২টি প্রমাণিত ঘটনার তথ্য প্রকাশ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৩৭টি ছিল প্রশাসনিক অসদাচরণ সংক্রান্ত।

প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/১৯ মে ২০২৬/এএ


Array

এই বিভাগের আরও সংবাদ