আহসান রাজীব বুলবুল, প্রধান সম্পাদক, প্রবাস বাংলা ভয়েস :: বাঙালির হৃদয়ের চির জাগ্রত ও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী দ্রৌপদী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম জয়ন্তী পালন করেছেন কানাডা প্রবাসীদের সংগঠন “ক্যালগেরি টেগোর সোসাইটি”। আয়োজকরা বলেছেন, বাঙালি সংস্কৃতিকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিতে এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার ছিল চ্যানেল আই এবং প্রবাস বাংলা ভয়েস।
বরফাচ্ছন্ন কানাডার প্রকৃতি বছরের এই সময়টায় ভিন্ন রূপে সেজে ওঠে। চারদিকে গাছগাছালিতে দেখা দেয় নতুন রূপ। এমন এক পরিবেশে ক্যালগেরি’র বরেণ্য রবীন্দ্র সঙ্গীতশিল্পীরা রকিরিজ সেইন হোমস ওয়াইএমসিএ বিএম ও থিয়েটারে গাইলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের গান।
রবীন্দ্র জয়ন্তী সন্ধ্যা প্রবাসী বাঙালিদের মননকে মুগ্ধতা আর আবেগে ভরিয়ে তোলে। বিদেশীদের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে। যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন, আমার রাত পোহাল, হে নূতন দেখা দিক বার বার, মেঘের পরে মেঘ জমেছে, শুধু তোমার বানী, সহ নানা গানের সুর ও সঙ্গীত আয়োজনটিকে বর্ণিল করে তোলে।
রবীন্দ্র জয়ন্তী সন্ধ্যা প্রবাসীদের মাঝে মাতৃভূমির জন্য ভালোবাসা আর বাঙালি সংস্কৃতির চর্চার ধারাকে আরো সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করেন আয়োজকরা। অনুষ্ঠানে সম্মিলিত ও দ্বৈত গানের পাশাপাশি একক গান পরিবেশন করেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রীতা কর্মকার, সুলতা সাহা, তীর্থ সাহা, শুভাশিস চক্রবর্তী, কেকা সেনগুপ্ত এবং চন্দ্রিমা পোদ্দার ঐশী। সুরের ধারার সাথে নাচের নান্দনিক ছন্দে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন সীমানা রায় ও রামিশা হক। কবিতা আবৃত্তিতে অংশ নেন কিরিটী রায় ও মুশফিক সালেহীন।
এবারের আয়োজনে যন্ত্রসঙ্গীতে এক অনন্য মাত্রা যোগ করেছিলেন একদল দক্ষ শিল্পী। তবলায় বাপ্পি দেবরয়, কিবোর্ডে জয় চৌধুরী এবং গিটারে ছিলেন প্রশান্ত মাইকেল জন। পাশাপাশি ভায়োলিনে পিটার ফেলস্টেইন ও চেলোতে মার্ক স্কোলজের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আন্তর্জাতিক রূপ দেয়। পুরো আয়োজনের সাউন্ড ও লাইট ডিজাইনে ছিলেন অয়ন সরকার। কমিউনিকেশন, গ্রাফিক ডিজাইন ও অ্যানিমেশনে কাজ করছেন মুশফিক সালেহীন। অনুষ্ঠানটির সার্বিক পরিকল্পনা ও পরিচালনায় রয়েছেন খায়ের খোন্দকার রুবেল। রবীন্দ্র অনুরাগীদের জন্য এই আয়োজনটি ক্যালগেরির সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক নতুন মাত্রা যোগ করে।
ক্যালগেরি টেগোর সোসাইটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম রিপন বলেন, প্রবাসে রবীন্দ্র জয়ন্তী সঙ্গীত সন্ধ্যার এই আয়োজনে প্রবাসীদের উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখে আমি অভিভূত। ক্যালগেরির প্রবাসী বাঙালিদের দেশপ্রেম ও সংস্কৃতির প্রতি যে ভালোবাসা তা গভীরভাবে লক্ষ্য করেছি। আশা করি ভবিষ্যতেও এই চর্চা অব্যাহত থাকবে এবং আমাদের নতুন প্রজন্মের হাতে রবীন্দ্রনাথের রচনা, সৃষ্টি, ভালো অনুবাদের মাধ্যমে তুলে দিতে হবে।
ক্যালগেরি টেগোর সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক খায়ের খোন্দকার রুবেল বলেন, বাঙালি জাতিসত্তার প্রকৃত পরিচয় ও বাঙালিয়ানাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ধরে রাখতে এবং আবহমান বাংলার কৃষ্টি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাথে সেতুবন্ধ তৈরি করতে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীতে আমাদের আজকের এই আয়োজন। দর্শকদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।
প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/১১ মে ২০২৬/এএ




