বাংলানিউজসিএ ডেস্ক :: সব ধরনের ক্রিকেট থেকে সাকিব আল হাসানের এক বছরের নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে আগামী ২৯ অক্টোবর। করোনাভাইরাসের কারণে কয়েক মাস ধরে খেলা না থাকায় সাকিব খুব বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ মিস করছেন না।
তবে আইসিসি দুর্নীতি দমন কর্মকর্তাদের সব জানিয়ে না দিলে তার ক্যারিয়ারই শেষ হয়ে যেতে পারত বলেই মনে করছেন সাকিব। জুয়াড়িদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার বিষয়টি আইসিসিকে না জানালে এই বাঁ-হাতি অলরাউন্ডার ৫-১০ বছর নিষেধাজ্ঞা পেতে পারতেন।
একটি ক্রিকেট ওয়েবসাইটে জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলের সঙ্গে ফেসবুক লাইভে সাকিব জানান, জুয়াড়িদের সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি তিনি হালকাভাবে নিয়েছিলেন। তবে এখান থেকেই শিক্ষা পেয়েছেন একসময়ের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। ক্যারিয়াও লম্বা করতে চান।
আইসিসির কাছে নিজের দোষ স্বীকার করার বিষয়ে সাকিব বলেন, ‘বিষয়টা তখন হালকাভাবে নিয়েছিলাম। দুর্নীতি দমন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর সব বললাম। খুঁটিনাটি প্রমাণ দিলাম। তারাও সব জানে, এ কারণেই মাত্র এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছি। তা না হলে ৫-১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হতে পারতাম।’ সাকিব একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। দুর্নীতিবিরোধী অনেক ক্লাসই তিনি করেছেন। অতীতের কথা ভেবে আফসোস হয় তার।
এই অলরাউন্ডার বলেন, ‘বোকার মতো ভুল করেছিলাম। আমি অভিজ্ঞ, অনেক আন্তর্জাতিক ম্যাচও খেলেছি এবং দুর্নীতি দমন ধারা নিয়ে অনেক ক্লাসও করেছি, এ ভুল করা উচিত হয়নি। সেটা নিয়ে আমি অনুতপ্ত।’ তিনি বলেন, ‘অনেক ফোনকল, বার্তা আসে আমাদের কাছে। ওই লোকটি (জুয়াড়ি) যখন শেষবার ম্যাসেজ পাঠিয়েছিল,
জবাব দিয়েছিলাম, ‘সরি, কার সঙ্গে কথা বলছি?’ সে কে মনেই ছিল না। তার সঙ্গে আগে কথা বলেছি দুই-তিন বছর আগে। জানতামও না লোকটা কে, তার নম্বরও আমার কাছে ছিল না। যা হোক দুর্নীতি দমন কর্তাদের জানানো উচিত নিরাপদে থাকতে হলে। এই শিক্ষা পেয়েছি, বড় শিক্ষা এটি।’
সাকিবের ধারণা অতি আত্মবিশ্বাস থেকেই তার এই ভুল হয়েছে। তিনি মনে করছিলেন, তার কিছুই হবে না। এদিকে নিষেধাজ্ঞা সাকিবের স্বপ্নকে আরও বড় করেছে। আগে সাকিব ভেবেছিলেন আর দুই-তিন বছর ক্রিকেট খেলবেন তিনি। পাল্টে গেছে সেই ভাবনা। তিনি বলেন, ‘আরও কিছু বছর বাকি আছে আমার।
নিষেধাজ্ঞা আশা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। পরিবার ও অন্য সবকিছু মিলিয়ে একটা সময় ভাবছিলাম, হয়তো আর বছরদুয়েক খেলব। এখন মনে হচ্ছে অন্তত আরও তিন থেকে পাঁচ বছর খেলতে পারি। নির্ভর করছে পারফরম্যান্স ও ফিটনেসের ওপর। যতদিন উপভোগ করব, খেলে যাব।’
এখন সমর্থকদের প্রতিদান দেয়ার কথা ভাবেন সাকিব, ‘এখন ভাবি সমর্থকদের প্রতিদান কীভাবে দেব। গত ১২-১৫ বছর যে মানুষগুলো আমাকে সমর্থন দিয়েছেন আমার এই কাণ্ডে তারা হতাশ হয়েছেন। এখন তাদের শুধু প্রতিদান দেয়ার কথাই ভাবি।’
বাংলানিউজসিএ/ঢাকা/ ২৫ জুন ২০২০ /এমএম





