প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: মৌসুমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসে ইংলিশ জায়ান্ট চেলসির পারফরম্যান্স যেন পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। প্রিমিয়ার লিগে ব্রাইটনের কাছে ৩-০ গোলে হারের পর শুধু পয়েন্ট টেবিলেই নয়, ইতিহাসের দিক থেকেও এক বিব্রতকর অবস্থায় দাঁড়িয়ে গেছে দলটি।
প্রিমিয়ার লিগে সপ্তম স্থানে থাকা চেলসি এখন পঞ্চম স্থানের থেকে সাত পয়েন্ট পিছিয়ে। সামনে মাত্র চারটি ম্যাচ বাকি থাকায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে।
তবে সংখ্যার চেয়েও বেশি কাঁপিয়ে দিচ্ছে একটি পরিসংখ্যান। লিগে টানা পাঁচ ম্যাচে কোনো গোল করতে পারেনি চেলসি। ক্লাবের ইতিহাসে এমন ঘটনা সর্বশেষ ঘটেছিল ১৯১২ সালে। সেই বছরই উত্তর আটলান্টিকে ডুবে গিয়েছিল টাইটানিক। এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর সেই সময়ের সঙ্গে নাম জড়িয়ে যাওয়া চেলসির বর্তমান অবস্থার গভীরতাই যেন তুলে ধরছে।
ব্রাইটনের মাঠে ম্যাচের চিত্রও ছিল হতাশাজনক। ফেরদি কাদিওগ্লু, জ্যাক হিনশেলউড ও ড্যানি ওয়েলবেকের গোল চেলসির দুর্বলতা স্পষ্ট করে দেয়। এই জয়ে ব্রাইটন উঠে গেছে ষষ্ঠ স্থানে, আর চেলসি আরও পিছিয়ে পড়েছে।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ আট ম্যাচে এটি তাদের সপ্তম হার। লিগে শেষ নয় ম্যাচে মাত্র একবার জয় পেয়েছে দলটি। আক্রমণভাগের এই স্থবিরতা এখন সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ।
প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে গড়া দলটির এই অবস্থা আরও বিস্ময়কর। এত বড় বিনিয়োগের পরও ফল না আসায় ক্লাবের সিদ্ধান্তগুলোও প্রশ্নের মুখে।
বিশেষ করে জানুয়ারিতে ক্লাব বিশ্বকাপজয়ী কোচ এনজো মারেস্কাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত এখন ভুল বলেই মনে হচ্ছে। তার জায়গায় দায়িত্ব নেওয়া লিয়াম রোজেনিয়রের অধীনে দলটির পতন আরও দ্রুত হয়েছে।
যদিও সামনে এফএ কাপের সেমিফাইনাল রয়েছে, তবে লিগে এমন ধারাবাহিক ব্যর্থতা পুরো মৌসুমকেই বিপর্যস্ত করে দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, চেলসি এখন এমন এক জায়গায় দাঁড়িয়ে, যেখানে শুধু ম্যাচ জেতাই নয়, নিজেদের পরিচয় ফেরত পাওয়াটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আর ১৯১২ সালের সেই পরিসংখ্যান মনে করিয়ে দিচ্ছে, এই পতন শুধু সাময়িক নয়, ইতিহাসেও দাগ রেখে যাবে।
প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/২৩ এপ্রিল ২০২৬/এএ





