Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: টেনিস বিশ্বে নতুন এক সাম্রাজ্য গড়ে তুলছেন ইতালির তরুণ মহাতারকা ইয়ানিক সিনার। গত রোববার মন্টে কার্লো মাস্টার্সের হাইভোল্টেজ ফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন কার্লোস আলকারাজকে সরাসরি সেটে হারিয়ে ক্লে কোর্টে প্রথম মাস্টার্স শিরোপা জিতলেন তিনি। এই জয়ে স্প্যানিশ প্রতিদ্বন্দ্বী আলকারাজের কাছ থেকে বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থানও পুনরুদ্ধার করলেন তিনি।

মন্টে কার্লোর রোমাঞ্চকর ফাইনালে সিনার ৭-৬ (৫) ও ৬-৩ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেন। এই শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের পাতায় এক অনন্য কীর্তি গড়লেন এই ইতালিয়ান তারকা। ২০১৫ সালে কিংবদন্তি নোভাক জোকোভিচের পর বিশ্বের মাত্র দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে একই মৌসুমে ইন্ডিয়ান ওয়েলস ও মিয়ামিতে ‘সানশাইন ডাবল’ জেতার পর মন্টে কার্লো মাস্টার্স জয়ের বিরল নজির গড়লেন তিনি। এটি ২৪ বছর বয়সী সিনারের ক্যারিয়ারের টানা চতুর্থ মাস্টার্স ১০০০ শিরোপা এবং মোট অষ্টম মাস্টার্স খেতাব।

ম্যাচের শুরু থেকেই কোর্টে প্রতিকূল আবহাওয়া ছিল। ঝোড়ো ও দমকা বাতাসের মধ্যে দুই তারকা সমানে সমানে লড়াই চালিয়ে যান। প্রথম সেটে পালটাপালটি সার্ভ ব্রেকে খেলা গড়ায় টাইব্রেকে। সেখানে সিনারের শক্তিশালী প্রথম সার্ভ তাকে এগিয়ে দেয় এবং সেট পয়েন্টে আলকারাজের ডাবল ফল্টে প্রথম সেট নিজের করে নেন সিনার। দ্বিতীয় সেটে শুরুতে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিয়েছিলেন আলকারাজ। শুরুতে ব্রেক নিয়ে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যান তিনি। কিন্তু হাল না ছেড়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান সিনার। অবিশ্বাস্যভাবে টানা চারটি গেম জিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্টে আলকারাজের করা ভুলের সুযোগ নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন সিনার।

অন-কোর্ট সাক্ষাৎকারে সিনার বলেন, ‘আজ আমাদের দুই জনেরই খেলার মান খুবই উচ্চ পর্যায়ের ছিল। এই ফলাফল অসাধারণ, আবার এক নম্বরে ফেরা আমার জন্য অনেক কিছু।’ তবে র‍্যাংকিংকে তিনি গৌণ মনে করেন বলেও জানান। তিনি বলেন, ‘এই কোর্টে অন্তত একটি বড় ট্রফি জিততে পেরে আমি খুবই খুশি।’ পাশাপাশি নিজের উন্নতির রহস্য সম্পর্কে বলেন, ‘প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে আমি নিজেকে উন্নত করার চেষ্টা করি। প্রতিটি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কোন ধরনের খেলা সবচেয়ে ভালো, সেটা বোঝার চেষ্টা করেছি।’

পরাজিত আলকারাজ স্বীকার করেন যে, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সিনারই ভালো খেলেছেন। তিনি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আমি ভালো খেলতে পারিনি। ম্যাচে অনেক সুযোগ ছিল, যা আমি কাজে লাগাতে পারিনি।’ প্রতিদ্বন্দ্বীকে অভিনন্দন জানাতেও ভোলেননি স্প্যানিশ এই তারকা। বলেন, ‘ওপেন যুগে মাত্র একজন খেলোয়াড় সানশাইন ডাবল জিতে মন্টে কার্লো জিতেছে, তুমি দ্বিতীয়। এটি অবিশ্বাস্য কিছু।’ উল্লেখ্য, প্রায় পাঁচ মাস আগে এটিপি ফাইনালসের শিরোপা লড়াইয়ে সিনারের কাছেই হেরেছিলেন আলকারাজ।

প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/১৪ এপ্রিল ২০২৬/এএ


Array