প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণের অভিযোগে দায়ের করা এক মামলায় সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে আসামি করা হয়েছে। একই মামলায় এস আলম গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিসহ মোট ২০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংকের প্রধান শাখার সিনিয়র অফিসার মো. আবদুচ ছামাদ ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। বাদীর জবানবন্দি গ্রহণের পর আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
সোমবার (২৭ জুলাই) মামলার বাদী আবদুচ ছামাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মামলার তদন্ত এখনও চলমান। সর্বশেষ গত ২৩ জুন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারিত থাকলেও সেদিন দুদক প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। পরে আদালত আগামী ১১ আগস্ট নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
মামলার এজাহারে মো. সাহাবুদ্দিনকে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং তাকে ১২ নম্বর আসামি করা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, তিনি এস আলম ও ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল ওয়াহেদের সমর্থনে নির্বাচিত পরিচালক ছিলেন।
তবে এজাহারে উল্লেখিত ব্যক্তি সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি কি না, তা নিয়ে শুরুতে কিছু বিভ্রান্তি তৈরি হয়। আদালত-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা ও আইনজীবী বিষয়টি নিশ্চিত করতে না পারলেও মামলার বাদী আবদুচ ছামাদ দাবি করেন, এজাহারে যার নাম রয়েছে, তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনই।
এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যে তালিকা সরবরাহ করেছে, তার ভিত্তিতেই মামলা দায়ের করা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখিত সাহাবুদ্দিন সাবেক রাষ্ট্রপতি কি না, সে বিষয়ে তার কাছে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেড ইসলামী ব্যাংকের ৭ কোটি ৭৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৯৩টি শেয়ার অধিগ্রহণ করে, যার বাজারমূল্য প্রায় ২৫১ কোটি টাকা। অথচ প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত মূলধন ছিল ৫০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন মাত্র ৮ লাখ টাকা। এমন আর্থিক সক্ষমতাহীন একটি প্রতিষ্ঠানের নামে বিপুল অঙ্কের শেয়ার কেনা পরিকল্পিত অনিয়ম ও দুর্নীতির অংশ বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার ২৪টি কোম্পানির মাধ্যমে অধিগ্রহণ করা হয়, যাদের অনেকেরই এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে। শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের তারিখ ও অর্থের উৎস বিশ্লেষণে দেখা যায়, একই দিনে লেনদেন সম্পন্ন হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
মামলায় বলা হয়েছে, এস আলম গ্রুপ, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো এবং তাদের মনোনীত পরিচালকেরা সম্মিলিতভাবে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের কৌশল বাস্তবায়ন করেন। এতে ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বার্থসংশ্লিষ্ট লেনদেন এবং জনগণের অর্থের অপব্যবহারের মাধ্যমে ব্যাংকের সুশাসন ও স্বচ্ছতা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই মামলায় ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ ইসলামী ব্যাংকের একাধিক বর্তমান ও সাবেক পরিচালককে আসামি করা হয়েছে। তবে আদালত দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সাহাবুদ্দিন ছাড়া মামলার বাকি আসামিদের বিরুদ্ধে।
প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/২৭ জুলাই ২০২৬/এএ





