Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: দেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী পাঁচ দিন, অর্থাৎ ২১ থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এ সময় কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী এবং বিচ্ছিন্নভাবে অতি ভারী বর্ষণও হতে পারে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বর্তমানে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় রয়েছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরেও এর প্রভাব বজায় আছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দফায় দফায় বৃষ্টি হচ্ছে এবং এই পরিস্থিতি আগামী কয়েক দিন অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী এবং অতি ভারী বর্ষণও হতে পারে।

টানা বৃষ্টির কারণে নিম্নাঞ্চলে সাময়িক জলাবদ্ধতা, নগর এলাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন এবং পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ঢালে না যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

২১ থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত যদি পূর্বাভাস অনুযায়ী টানা বা স্বল্প সময়ের মধ্যে ভারী বৃষ্টিপাত হয়, তাহলে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে অল্প সময়ের মধ্যে অতিভারী বৃষ্টি হলে নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থা চাপে পড়ে যাবে।

ঢাকায় যেসব পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে
নিচু এলাকাগুলোতে হাঁটুসমান বা তারও বেশি পানি জমতে পারে।
মিরপুর, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, আগারগাঁও, তেজগাঁও, মালিবাগ, শান্তিনগর, বাড্ডা, রামপুরা, খিলগাঁও, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, বসিলা, কামরাঙ্গীরচরসহ জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকায় পানি দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে পারে।
প্রধান সড়ক ও সংযোগ সড়কে যানজট তীব্র হতে পারে এবং যানবাহনের গতি ধীর হয়ে যেতে পারে।
অনেক স্থানে রিকশা, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
নিচতলার বাসা, দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢোকার ঝুঁকি থাকতে পারে।
বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সেবায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং খোলা ম্যানহোল বা বিদ্যুতায়িত পানির কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
তবে জলাবদ্ধতার মাত্রা নির্ভর করবে বৃষ্টির তীব্রতা, কতক্ষণ ধরে বৃষ্টি হয়, জোয়ারের পরিস্থিতি এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কার্যকারিতার ওপর। যদি বৃষ্টি মাঝারি মাত্রার হয় এবং দীর্ঘ বিরতি দিয়ে হয়, তাহলে জলাবদ্ধতা তুলনামূলক কম হতে পারে। কিন্তু স্বল্প সময়ে ৫০–১০০ মিলিমিটার বা তার বেশি বৃষ্টিপাত হলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কয়েক ঘণ্টা থেকে আরও বেশি সময় জলাবদ্ধতা স্থায়ী হতে পারে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী কয়েক দিনের বৃষ্টিতে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে স্বল্প সময়ে ভারী বর্ষণ হলে নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা চাপে পড়বে, যার ফলে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়তে পারে।

এদিকে, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। তবে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি অনেক জায়গায় বজায় থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা প্রকাশ করা হবে। তাই ভ্রমণকারী, নৌযান চালক, কৃষক এবং সাধারণ মানুষকে সর্বশেষ আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/২০ জুলাই ২০২৬/এএ


Array