প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: কোপার ফাইনালের পর ব্রাজিল–আর্জেন্টিনাকে আবারও লড়তে দেখতে মুখিয়ে ছিল ফুটবল সমর্থকরা। নির্ধারিত সময়ে খেলা শুরুও হল বটে, কিন্তু বন্ধ হল সাত মিনিটের মাথায়! ম্যাচ চলাকালীন সময়েই কোভিড প্রোটোকল ভাঙা চার আর্জেন্টাইনকে ধরতে সরাসরি মাঠে ঢুকলেন ব্রাজিলের স্বাস্থ্য কর্তারা। এমন সিনেমাটিক কাণ্ডে স্থগিত হয়ে যায় ব্রাজিল–আর্জেন্টিনা ম্যাচটি। তাতে হতাশ হবার পাশাপাশি ক্ষুব্ধ ফুটবল সমর্থকরা।
ব্রাজিলের জাতীয় স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধান এজেন্সি আনভিসা’র একাধিক কর্তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে হানা দিলেই ঘটে বিপত্তি। এক পর্যায়ে কথা কাটাকাটি গড়ায় ধাক্কাধাক্কিতেও। খেলোয়াড়দের সঙ্গে স্বাস্থ্য সংস্থার কর্তাদের মধ্যে হাতাহাতিও হয়। অবশ্য মিনিট কয়েক বাদে মাঠ ছেড়ে ড্রেসিং রুমে চলে যান আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা। তবে ব্রাজিলের স্বাস্থ্য সংস্থার এহেন কাণ্ডের সমালোচনা করতে বিবৃতি জারি করেছে ব্রাজিল–আর্জেন্টিনা উভয়েই!এমন বিশৃঙ্খলায় শঙ্কিত ছিল নেইমার-সেলসোদের কোচ তিতে। তিনি আনভিসা এজেন্টদের এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করায় এক হাত নিলেন। ‘ম্যাচ শুরু আগে তাদের হাতে ৭২ ঘন্টা সময় ছিল। ম্যাচের সময় তাদের এটা করতে হবে কেন!
চ্যানেল টাইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ম্যাচ নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনিও। ম্যাচটি ব্রাজিলিয়ানদের মতো নিজেরাও খেলতে চেয়েছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা খুব কষ্ট দিচ্ছে। আমি কোনো দোষী খুঁজছি না। যদি কিছু ঘটে অথবা না ঘটে, এটা উপযুক্ত সময় না থামানোর। আমাদের কখনই জানানো হয়নি যে তারা ম্যাচ খেলতে পারবে না। আমি চাই আর্জেন্টিনার লোকেরা বুঝুক, একজন কোচ হিসেবে আমাকে আমার খেলোয়াড়দের রক্ষা করতে হবে। যদি কেউ এসে বলে যে তাদের নির্বাসন দিতে হবে, আমি অনুমতি দেব না।’
আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা ব্রাজিলে এসে কোয়ারেন্টিন করলেন–ঘাম ঝড়ালেন অনুশীলনে। হোটেলে সময় কাটালেন। তখন কোয়ারেন্টিন না মানার জন্য অভিযুক্ত চার খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বরং ব্রাজিলের স্বাস্থ্যকর্তাদের হুঁশ হলো ম্যাচ শুরুর পর!তবে আনভিসার এমন কাণ্ডে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) প্রধান ক্লাওদিয়ো তাপিয়া।
তিনি বলেন, ‘আজ যা ঘটেছে তা ফুটবলের জন্য খুব দুর্ভাগ্যজনক। খেলাটির ভাবমূর্তির জন্য এটি খুবই খারাপ। চার জন মানুষ একটি নোটিশ দিতে খেলার বিঘ্ন ঘটাল এবং কনমেবল খেলোয়াড়দের লকার রুমে চলে যেতে বলল। কেউ কোনো মিথ্যে বলতে পারবে না। কারণ, স্বাস্থ্য নিয়ে আইন রয়েছে যার অধিনে লাতিন আমেরিকার টুর্নামেন্টগুলোর খেলা হয়। প্রতিটি দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এই প্রটোকল অনুমোদন করে আর এটি পুরোপুরি মেনে চলেছি।’
এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, জোভান্নি লো সেলসো, এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়াদের খেলানো যাবে না, তা জানানো হয়নি আর্জেন্টিনা কোচকে।ক্লাওদিয়ো তাপিয়া বলেন, ‘এই মুহূর্তে খেলোয়াড়দের দেশে ফিরিয়ে আনাই আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। ওদের আর্জেন্টিনায় ফিরিয়ে আনতে আমরা চার্টার ফ্লাইটের সময় এগিয়ে নিয়ে এসেছি।’
অন্যদিকে ব্রাজিলের স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা অ্যানভিসার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ম্যাচ শুরুর দুই ঘণ্টা আগে চার ফুটবলারের খোঁজে আর্জেন্টিনার টিম হোটেলে গিয়েছিলেন তাদের কর্মকর্তারা। কিন্তু ততক্ষণে দল রওনা হয়ে গিয়েছিল স্টেডিয়ামের উদ্দেশ্যে। স্বাস্থ্যবিধি হুমকিতে পড়ার কারণেই মাঠে ঢুকতে বাধ্য হয়েছেন তারা।
পরিস্থিতির তাৎপর্য বিচার করে ম্যাচ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন ম্যাচ কমিশনার ও রেফারি। এ বিষয়ে ফিফার শৃঙ্খলারক্ষা কমিটিতে রিপোর্ট জমা পরার পরেই এই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হবে। যদিও কনমেবলের নিয়ম বলছে, আর্জেন্টিনার কাছে তিন পয়েন্ট হারাবে ব্রাজিল। খেলোয়াড় ইস্যুতে সমস্যা থাকলে সেটা মেটাতে হবে ম্যাচে, ম্যাচ চলাকালীন সময়ে নয়। তবে এমনটি হলে যে দলের কারণে ম্যাচ থেমে যাবে, সে দল তিন পয়েন্ট হারাবে। প্রতিপক্ষ দল পাবে সেই তিন পয়েন্ট। সে হিসেবে ব্রাজিলের প্রশাসনিক ব্যর্থতায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে আর্জেন্টিনা।
প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ /এমএম





