আহসান রাজীব বুলবুল, প্রধান সম্পাদক, প্রবাস বাংলা ভয়েস :: কানাডার টরন্টোর ফেয়ারভিউ লাইব্রেরি থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ হয়েছে বাংলাদেশের বহুল আলোচিত নাটক ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’। জার্মান নাট্যকার ব্রের্টল্ড ব্রেখটের নাটক অবলম্বনে নির্মিত এ নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন নাট্যব্যক্তিত্ব ও অভিনেতা মাহমুদুল ইসলাম সেলিম।
প্রবাসে নাটক মঞ্চায়নের নানা সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে দর্শকদের মুগ্ধ করেছে সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রাচ্য-প্রতীচ্য-এর এ প্রযোজনা। দর্শকে পরিপূর্ণ মিলনায়তনে উপস্থিত নাট্যপ্রেমীরা নির্মল আনন্দের সঙ্গে নাটকটি উপভোগ করেন।
নাটক শেষে দর্শকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের নব্বই দশকের বিশিষ্ট নাট্যাভিনেত্রী আফরোজা বানু, নাট্যাভিনেত্রী লুৎফুন্নাহার লতা, নাট্যব্যক্তিত্ব মাহমুদুল ইসলাম সেলিম এবং প্রাচ্য-প্রতীচ্যের সহ-সভাপতি শিবু চৌধুরী।
দেওয়ান গাজীর কিসসার সূত্রধার, সুমন সাইয়েদ। গানের দলের অন্যান্য শিল্পী : মমতাজ মমতা, শিরিন চৌধুরী, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, হারুনুর রশীদ শ্যামল, জেসমিন আসগার মুনমুন, সোফিয়া হাবিব বিদিতা।
নির্দেশক ও গাজী চরিত্র -মাহমুদুল ইসলাম সেলিম। অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেন:
হিমাদ্রী রায়, মানবী মৃধা, শঙ্কু পুরকায়স্থ, প্রবাল চৌধুরী জেমস, পলি পোদ্দার, মাহমুদা কাওসার ত্বিষা, শারমিন শরিফ, শাপলা শালুক, ডালিয়া আহমেদ, শিরিন চৌধুরী, ইত্তেজা আহমেদ টিপু ও দেলওয়ার এলাহী।
মঞ্চ ব্যবস্থাপক : শারমিন শরিফ।
প্রযোজনা ব্যবস্থাপক : শিউলী চৌধুরী। প্রযোজনা উপদেষ্টা : লাভলী বেগম ও শিবু চৌধুরী। আলো ও শব্দ নিয়ন্ত্রণ : সারাহ বিল্লাহ। সহযোগী আলো ও শব্দ নিয়ন্ত্রণ অরুণিম আহমাদ ও সুকন্যা চৌধুরী। মেকাপ : অরুণা হায়দার। ভলান্টিয়ার : শালোমি হালদার দোলা, ইলোরা সাইদ, দিলারা নাহার বাবু, আনিসা রশীদ লাকি, আন্ড্রিয়া জামান নেহা, মন্ত্র মৃধা সিকদার, মুগ্ধ মৃধা সিকদার, সুজান চৌধুরী, সুস্ময় চৌধুরী, মেঘদীপ সেন বৃন্দা, রুদ্রনীল সেন তিশা, প্রতিজ্ঞা চৌধুরী চিত্তা।
নাটকটি সম্পর্কে মাহমুদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘ব্রের্টল্ড ব্রেখট ছিলেন একজন প্রগতিশীল নাট্যকার। তাঁর অধিকাংশ নাটকেই মানুষে মানুষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়নের বিষয়টি উঠে এসেছে, যা বাংলাদেশসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে এখনো বিদ্যমান। এই গভীর সত্যকে তিনি কেবল হাস্যরসের মাধ্যমে নান্দনিকভাবে দর্শকদের সামনে উপস্থাপনই করেননি, বরং তাঁদের চিন্তা করতেও উদ্বুদ্ধ করেছেন।’
নাট্যাভিনেত্রী আফরোজা বানু বলেন, ‘নাটকটি দেশীয় আবহে রচিত হলেও কোথাও এটিকে বিদেশি নাটকের রূপান্তর বলে মনে হয় না। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ঢাকার মঞ্চে সমান জনপ্রিয়তায় নাটকটি অভিনীত হয়ে আসছে।’ তিনি দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারাই নাটকের প্রাণ। প্রবাসে বাংলা নাটক মঞ্চায়নের ক্ষেত্রে আপনাদের সহযোগিতা ও উপস্থিতিই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি।’
বিশিষ্ট নাট্যাভিনেত্রী লুৎফুন্নাহার লতা বলেন, ‘দূর প্রবাসে নানামুখী ব্যস্ততার মধ্যেও মাহমুদুল ইসলাম সেলিমের নির্দেশনায় বাংলা নাটকের এমন সফল মঞ্চায়ন সত্যিই প্রশংসনীয়। নাটকের কলাকুশলীদের পাশাপাশি দর্শকরাও এ সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।’ তিনি প্রবাসে বাংলা নাটকের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রাচ্য-প্রতীচ্যের এ উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা একটি জটিল নাটক। হাস্যরসের আবহে মঞ্চস্থ হলেও এটি দর্শকের চিন্তার দুয়ার খুলে দেয় এবং সমাজকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়।’
উল্লেখ্য, ঢাকার মঞ্চে দীর্ঘদিন ধরে ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’ নাটকটিতে নিয়মিত অভিনয় করেছেন লুৎফুন্নাহার লতা।
প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/১৪ জুলাই ২০২৬/এএ




