Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: অবশেষে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ চূড়ান্ত হলো। হামজা চৌধুরীদের দায়িত্ব নিতে ঢাকায় এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফুটবলার টমাস ডুলি। শুক্রবার সকালে নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ডুলিকে জাতীয় দলের নতুন প্রধান কোচ করার কথা জানায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন।

৬৫ বছর বয়সী ডুলিকে নিয়ে আশাবাদী বাফুফে। ফেডারেশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশ্ব ফুটবলে ৪৩ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে বাংলাদেশে আসছেন তিনি। দল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তার বিশেষ দক্ষতা আছে বলেও মনে করছে বাফুফে। একই সঙ্গে এশিয়ার ফুটবলের বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ ও সমর্থকদের আবেগ সম্পর্কেও ডুলির ভালো ধারণা আছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জন্মসূত্রে জার্মান হলেও ডুলির আন্তর্জাতিক ফুটবল পরিচয় যুক্তরাষ্ট্রের। খেলোয়াড়ি জীবনে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের হয়ে ৮১ ম্যাচে ৭ গোল করেছেন তিনি। রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে খেলা ডুলি ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে হওয়া বিশ্বকাপে স্বাগতিক দলের হয়ে প্রতিটি ম্যাচ খেলেছিলেন।

বাফুফের বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, ১৯৯৮ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র দলের অধিনায়কের দায়িত্বও পালন করেন ডুলি। ক্লাব ফুটবলেও তাঁর ক্যারিয়ার ছিল উল্লেখযোগ্য। বায়ার লেভারকুসেন ও শালকের মতো জার্মান ক্লাবে খেলেছেন তিনি। ১৯৯৭ সালে শালকের হয়ে জিতেছেন উয়েফা কাপ, যা এখন ইউরোপা লিগ নামে পরিচিত। এ ছাড়া এফসি কাইজারস্লাউটার্নের হয়ে ১৯৯০-৯১ মৌসুমে বুন্দেসলিগা শিরোপাও জিতেছেন ডুলি।

খেলোয়াড়ি জীবন শেষে কোচিংয়েও লম্বা পথ পাড়ি দিয়েছেন ডুলি। ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমানের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করেন তিনি। এরপর ফিলিপাইন জাতীয় দলের প্রধান কোচ হন। তার অধীনে ফিলিপাইন অপরাজিত থেকে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেয় এবং নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ফিফা র‍্যাংকিংয়েও ওঠে।

এশিয়ান ফুটবলের বাইরে ডুলি কাজ করেছেন ভিয়েতনামের ভি-লিগের ক্লাব ভিয়েতেলের স্পোর্টিং ডিরেক্টর হিসেবেও। ২০২২ সালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য আবারও ফিলিপাইনের ডাগআউটে ফিরেছিলেন তিনি। বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার আগে ছিলেন গায়ানা জাতীয় দলের প্রধান কোচ। বাফুফের তথ্য অনুযায়ী, তার অধীনে গায়ানা চার ম্যাচের সবকটিতেই জয় পেয়েছে।

নতুন কোচ হিসেবে ডুলির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশ দলকে দ্রুত সংগঠিত করা। হামজা চৌধুরীর অন্তর্ভুক্তির পর জাতীয় দলকে ঘিরে আগ্রহ বেড়েছে। সেই প্রত্যাশার চাপের মধ্যেই দায়িত্ব নিচ্ছেন ডুলি। বাফুফের আশা, বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলারদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় দলকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও সফল দলে পরিণত করতে পারবেন তিনি।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী রোববার থেকে জাতীয় দলের ক্যাম্পে দেখা যাবে ডুলিকে। তার অধীনে বাংলাদেশের প্রথম মিশন শুরু হতে পারে ৫ জুন। সান মারিনোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলতে দেশটিতে যাওয়ার কথা বাংলাদেশের। নতুন কোচের জন্য সেটিই হতে পারে বাংলাদেশ দলকে কাছ থেকে বোঝার প্রথম বড় সুযোগ।

প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/২২ মে ২০২৬/এএ


Array