Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: দেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা আজ শুক্রবার (১ মে)। উৎসবটি যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দেশে পালিত হচ্ছে।

গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বোধিলাভ ও মহাপরিনির্বাণ—এই তিনটি স্মরণীয় ঘটনা বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে সংঘটিত হয়েছিল বলে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কাছে দিনটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তাই দিনটি বুদ্ধপূর্ণিমা নামে পরিচিত।

বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধবিহারগুলোতে বুদ্ধপূজা, প্রদীপ প্রজ্বালন, শান্তি শোভাযাত্রা, ধর্মীয় আলোচনা সভা, প্রভাতফেরি, সমবেত প্রার্থনা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া গোটা মানবজাতির সর্বাঙ্গীণ শান্তি ও মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হবে।

‘জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক’—এই অহিংসার বাণীর প্রচারক গৌতম বুদ্ধের আবির্ভাব, বোধিপ্রাপ্তি বা পরম জ্ঞানলাভ আর নির্বাণ লাভের স্মৃতিবিজড়িত দিনটিকে বুদ্ধপূর্ণিমা হিসেবে পালন করেন বুদ্ধভক্তরা। বৌদ্ধধর্ম মতে, আড়াই হাজার বছর আগে এই দিনে মহামতি গৌতম বুদ্ধ আবির্ভূত হয়েছিলেন। তার জন্ম, বোধিলাভ ও মহাপ্রয়াণ হয়েছিল বৈশাখী পূর্ণিমার দিনে। এ জন্য বুদ্ধপূর্ণিমাকে বৈশাখী পূর্ণিমাও বলা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেছেন, মহামতি বুদ্ধ সারা জীবন মানুষের কল্যাণে অহিংসা, সাম্য, মৈত্রী ও করুণার বাণী প্রচার করেছেন। শান্তি ও সম্প্রীতির মাধ্যমে আদর্শ সমাজ গঠনই ছিল তার একমাত্র লক্ষ্য। বুদ্ধের পঞ্চনীতি আত্মিক, পারিবারিক ও সামাজিক উন্নয়নে অনন্য এক দিকনির্দেশনা।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বর্তমান বিশ্বে যখন সংঘাত, বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতা নানা সংকট সৃষ্টি করছে, তখন গৌতম বুদ্ধের সহমর্মিতা, মানবিকতা ও শান্তির বাণী আমাদের জন্য গভীর প্রেরণা হয়ে উঠতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৌদ্ধধর্মাবলম্বীসহ সব ধর্মের মানুষের সার্বিক কল্যাণ, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে। ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার।

এ উপলক্ষে বাংলাদেশ বৌদ্ধ ফেডারেশন (বিবিএফ) রাজধানীর মেরুল বাড্ডার আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহারে দিনব্যাপী আলোচনা সভা ও ধর্মীয় কর্মসূচির আয়োজন করেছে। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

অনুষ্ঠানে ধর্মীয় নেতা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিচ্ছেন। বক্তারা গৌতম বুদ্ধের জীবনাদর্শ, শান্তির বাণী এবং মানবকল্যাণমূলক দর্শন নিয়ে আলোচনা করবেন।

বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিকগুলো বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এবং বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো দিনটির তাৎপর্য ও ইতিহাস তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করছে।

প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/০১ মে ২০২৬/এএ


Array