প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: রুপালি পর্দার রোমান্টিক ‘চকলেট বয়’ ইমেজ এখন অতীত। রণবীর কাপুর এখন তপোবনে মগ্ন এক আধুনিক ঋষি, যার ধ্যানে শুধুই রামায়ণ। পর্দার শ্রীরামচন্দ্র হয়ে উঠতে গত কয়েক মাস ধরে নিজেকে নিংড়ে দিচ্ছেন তিনি। কিন্তু রণবীরের এই কঠিন যাত্রার নেপথ্যে কোনো নামী পরিচালক বা চিত্রনাট্যকার নন, বরং কাজ করছে তার একমাত্র আদরের মেয়ে রাহা কাপুর।
শুটিংয়ের সেট আর ঘরের জীবন কীভাবে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে, সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে সেই আবেগঘন অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন রণবীর। তিনি জানান, শুটিং শেষে বাড়ি ফিরলেই শুরু হয় রাহার অন্তহীন কৌতূহল।
এ বিষয়ে রণবীর বলেন, ‘রাহা এখন শুটিং থেকে ফিরলে আমাকে জিজ্ঞেস করে, ‘আজ কি তুমি হনুমানের সঙ্গে শুটিং করলে? কিংবা আজ সীতার সঙ্গে কী করলে? মেয়ের এই নিষ্পাপ কৌতূহল আমাকে আবেগপ্রবণ করে তোলে। প্রতিদিন ওকে রামায়ণের গল্প শোনানো এখন আমার রুটিন।
এদিকে শুনতে অবাক লাগলেও, শুরুতে এই ছবির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন রণবীর নিজেই। তার মনে হয়েছিল, রামচন্দ্রের মতো এমন এক গাম্ভীর্যপূর্ণ এবং পবিত্র চরিত্রের ভার বইতে তিনি মানসিকভাবে প্রস্তুত নন। কিন্তু রাহার জন্মের পর বদলে যায় তার জীবনদর্শন। মেয়ের চোখে এক আদর্শ বাবার প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠার তাগিদ থেকেই শেষ পর্যন্ত রাজি হন নিতেশ তিওয়ারির এই প্রজেক্টে।
পরিচালক নিতেশ তিওয়ারির এই ‘রামায়ণ’ কেবল একটি ছবি নয়, এটি ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেটের ছবি হতে চলেছে এটি। প্রায় ৪০০০ কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত এই ছবিটি হতে যাচ্ছে ভারতের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ব্যয়বহুল সিনেমা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ছবির প্রথম পর্ব ২০২৬ সালের দীপাবলিতে এবং দ্বিতীয় পর্ব ২০২৭ সালে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে।
এদিকে চলচ্চিত্রটির টিজার প্রকাশের পর থেকেই বলিউড পাড়ায় শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। বিতর্ক উসকে দিয়েছেন নির্মাতা সঞ্জয় গুপ্ত। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি একটি রহস্যময় পোস্টে লেখেন, ‘পাহাড় খুঁড়ে ইঁদুর বেরোল।’ নেটিজেনদের ধারণা, রামায়ণের টিজার দেখেই তিনি এমন খোঁচা দিয়েছেন।
প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/০৯ এপ্রিল ২০২৬/এএ





