প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: অপেক্ষা ছিল দীর্ঘ ৫২ বছরের। নাম বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু স্বপ্নটা থেকে গিয়েছিল একই। অবশেষে সেই স্বপ্ন পূরণ করল কঙ্গো। প্লে-অফ ফাইনালের অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় জয়ে জ্যামাইকাকে হারিয়ে আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছে আফ্রিকার এই দল।
১৯৭৪ সালে ‘জাইর’ নামে একবার বিশ্বকাপে খেলেছিল তারা। এরপর দীর্ঘ বিরতি। এবার নতুন পরিচয়ে, নতুন দল নিয়ে ইতিহাসে ফেরার দরজা খুলে গেল তাদের সামনে।
বুধবার (০১ এপ্রিল) ভোর ৩টায় শুরু হওয়া প্লে-অফ ফাইনালটা ছিল শুরু থেকেই জমজমাট। ম্যাচের মাত্র চার মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত কঙ্গো, কিন্তু বাকাম্বুর হেড অফসাইডে বাতিল হয়। এরপরও আক্রমণ থামায়নি তারা। একের পর এক ক্রস আর লং বল দিয়ে চাপ তৈরি করে গেছে জ্যামাইকার রক্ষণে।
জ্যামাইকাও পিছিয়ে ছিল না। মাঝামাঝি সময়ে কেসি পামারের শট প্রতিহত করতে হয় কঙ্গোর ডিফেন্ডারদের। আর গোলরক্ষক ব্লেক বারবার বাঁচিয়েছেন দলকে, বিশেষ করে এলিয়ার একাধিক আক্রমণে।
প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও সুযোগের কমতি ছিল না। দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র। কঙ্গো বল দখলে রেখে আক্রমণ চালিয়ে গেছে, তবে শেষ মুহূর্তে ঠিকানা খুঁজে পাচ্ছিল না শটগুলো। জ্যামাইকা পাল্টা আক্রমণে ভয় দেখালেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে কঙ্গোর দিকেই ঝুঁকে যায়।
নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে কয়েকটি ভালো সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারেনি কেউ। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
সেখানেই আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। ১০১ মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে হেড করে জালে পাঠান তুয়ানজেবে। গোলটি নিশ্চিত হতে কিছুটা সময় নেয় ভিএআরের সিদ্ধান্তে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটিই হয়ে ওঠে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী মুহূর্ত।
গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে ওঠে জ্যামাইকা। শেষ দিকে কয়েকটি আক্রমণ তুললেও কঙ্গোর রক্ষণভাগ ভেঙে ফেলা যায়নি।
শেষ বাঁশি বাজতেই শুরু হয় উদ্যাপন। কঙ্গোর ফুটবলে নতুন অধ্যায়, বিশ্বমঞ্চে ফিরে আসার আনন্দ।
এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতা নয়, এটি এক দীর্ঘ ইতিহাসের পরিসমাপ্তি। ৫২ বছর আগে যে গল্প শুরু হয়েছিল, সেটিই আবার নতুন করে লিখতে প্রস্তুত কঙ্গো—এবার ভিন্ন নামে, ভিন্ন পরিচয়ে, কিন্তু একই স্বপ্ন নিয়ে।
প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/০২ এপ্রিল ২০২৬/এএ





