প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আরও একটি ট্রেন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচল করা মহানগর এক্সপ্রেসকে কক্সবাজার পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই ট্রেনটি নতুন রুটে চলাচল শুরু করতে পারে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক সুজিত বিশ্বাস এ তথ্য দিয়েছেন।
রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কক্সবাজারে ট্রেনযাত্রার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। সেই চাহিদা বিবেচনায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা থেকে কক্সবাজারে দুই জোড়া এবং চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারে দুই জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করছে। মহানগর এক্সপ্রেস যুক্ত হলে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ট্রেনের সংখ্যা আরও বাড়বে। মহানগর এক্সপ্রেস বর্তমানে ঢাকার কমলাপুর থেকে রাত ৯টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। পথে বিমানবন্দরসহ ১২টি স্টেশনে এর যাত্রাবিরতি রয়েছে। স্টেশনগুলো হলো নরসিংদী, ভৈরব বাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট, ফেনী ও কুমিরা। কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেনটি বাড়ানো হলে এসব এলাকার যাত্রীরাও সরাসরি পর্যটন শহরে যেতে পারবেন।
রেলওয়ের প্রস্তাবিত সময়সূচি অনুযায়ী, নতুন রুটে মহানগর এক্সপ্রেস ঢাকার কমলাপুর থেকে রাত সাড়ে ৮টায় ছাড়তে পারে। কক্সবাজারে পৌঁছাবে সকাল ৬টার দিকে। ফিরতি ট্রেনটি কক্সবাজার থেকে সকাল ৯টায় ঢাকার উদ্দেশে ছাড়বে। একদিকে যেতে সময় লাগবে প্রায় সাড়ে ৯ ঘণ্টা। বর্তমানে ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেস রাত ১১টায় ছেড়ে সকাল ৭টা ২০ মিনিটে পৌঁছায়। আর পর্যটক এক্সপ্রেস সকাল সোয়া ৬টায় ছেড়ে কক্সবাজারে পৌঁছায় দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে। তবে মহানগর এক্সপ্রেসের রুট বাড়ানোর আগে কিছু বিষয় যাচাই করছে রেলওয়ে। কক্সবাজারে ট্রেনটির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নতুন রুটে চলাচলের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতাগুলোও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ঢাকা-কক্সবাজার রুটে নতুন ট্রেন চালুর প্রস্তুতি চললেও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের ট্রেনগুলোর মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বর্তমানে এই পথে দুই জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করলেও একটি মাত্র রেক দিয়ে চারটি ট্রেন পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে প্রায়ই সময়সূচিতে বিঘ্ন ঘটছে এবং যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, এই রুটে চাহিদা বাড়লেও ট্রেনের বেশির ভাগ কোচ পুরোনো। বিশেষ করে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বগি ও কেবিনের সুবিধা না থাকায় অনেকেই ট্রেনে ভ্রমণে আগ্রহ হারাচ্ছেন। রেলওয়ের পরিকল্পনা ছিল পুরোনো কোচ সরিয়ে প্রতিটি ট্রেনে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কেবিন, সাধারণ কেবিন, শীতাতপনিয়ন্ত্রিত চেয়ারসহ উন্নত মানের কোচ যুক্ত করার। প্রতিটি ট্রেনে প্রায় ৭৫০টি আসন রাখার পরিকল্পনাও ছিল।
তবে রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আপাতত পুরোনো কোচ পরিবর্তন করে নতুন কোচ যুক্ত করার সম্ভাবনা নেই। ভবিষ্যতে নতুন কোচ আমদানি করা হলে তখন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের ট্রেনগুলোর কোচ পরিবর্তন করা হতে পারে।
রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক সুজিত বিশ্বাস বলেন, কক্সবাজার রুটে বিপুল যাত্রীর চাহিদা রয়েছে। এ কারণে মহানগর এক্সপ্রেসকে কক্সবাজার পর্যন্ত চালানোর প্রস্তুতি চলছে। এতে যাত্রীরা আরও স্বস্তি ও নিরাপদে পর্যটন শহরে যাতায়াত করতে পারবেন, পাশাপাশি রেলওয়ের আয়ও বাড়বে।
প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬/এএ





