প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আবদুল মুহিতকে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন কূটনৈতিক ও গণমাধ্যম সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর তৎকালীন হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিমকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে মেক্সিকোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলামকে যুক্তরাজ্যে নিয়োগ দেওয়া হলেও লন্ডনে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা ইস্যুতে বিতর্কিত হয়ে পড়ায় কয়েক মাস আগে তাকে সরিয়ে নেয় বর্তমান বিএনপি সরকার।
রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আবদুল মুহিতের পৈতৃক নিবাস মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায়। তিনি বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিসের ১১তম ব্যাচের বিসিএস (পররাষ্ট্র) ক্যাডারের কর্মকর্তা। ১৯৯৩ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেওয়ার পর তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি দেশের কূটনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কর্মজীবনে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক কূটনীতি—উভয় ক্ষেত্রেই তিনি অভিজ্ঞতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি শান্তিরক্ষা, টেকসই উন্নয়ন, উন্নয়ন সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরেন। ২০২৪ সালে তিনি জাতিসংঘের ইউএনডিপি, ইউএনএফপিএ ও ইউএনওপিএসের যৌথ নির্বাহী বোর্ডের সভাপতি এবং জাতিসংঘের পিসবিল্ডিং কমিশনের চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এর আগে তিনি অস্ট্রিয়া ও ডেনমার্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি হাঙ্গেরি, স্লোভেনিয়া, স্লোভাকিয়া, এস্তোনিয়া ও আইসল্যান্ডে সমবর্তী রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। এ ছাড়া ওয়াশিংটন ডিসি, রোম, দোহা, কুয়েত ও নিউইয়র্কে বাংলাদেশের বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন এই অভিজ্ঞ কূটনীতিক।
রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আবদুল মুহিতের জন্ম শ্রীমঙ্গল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী লামুয়া গ্রামে। তিনি শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক, প্রয়াত মো. আবদুল গফুরের সন্তান। তার বাবা দীর্ঘদিন শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত থেকে শ্রীমঙ্গলের শিক্ষা অঙ্গনে একজন সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি তিনি কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি ভাষায় ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং তার স্ত্রী রুবি পারভীন। এই দম্পতির দুই কন্যাসন্তান রয়েছে।
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে তার নিয়োগের খবরে শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজারে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষাবিদ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা এই নিয়োগকে জেলার জন্য গর্বের বলে উল্লেখ করে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে অসংখ্য বার্তা প্রকাশিত হচ্ছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে দক্ষতার কারণে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের স্বার্থ সংরক্ষণ ও দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারে রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আবদুল মুহিত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/০১ জুলাই ২০২৬/এএ





