Menu

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :: কানাডিয়ান সংস্থা গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্ন্যান্স (জিসিডিজি) এর উদ্যোগে “বাংলাদেশ এক সন্ধিক্ষণে: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাস ও নির্বাচন” শীর্ষক একটি সংসদীয় আলোচনা সভা যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্স-এ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সংসদ সদস্য বব ব্ল্যাকম্যান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লর্ড রামি রেঞ্জার এবং ব্যারোনেস ভার্মা। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্ন্যান্স-এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. হাবিব মিল্লাত।

ক্রিস ব্ল্যাকবার্ন-এর সঞ্চালনায় অন্যান্য আমন্ত্রিত বক্তাদের মধ্যে ব্যারিস্টার এস. এম. রেজাউল করিম, কাউন্সিলর পুষ্পিতা দাসগুপ্ত, তৌরুল আহসান, ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর, প্রসান্ত পুরকায়স্থ, আব্দুল ওয়াদুদ দারা, দেওয়ান গাউস সুলতান, রাজীব পারভেজ এবং ব্যারিস্টার মো. মনিরুল ইসলাম বক্তব্য প্রদান করেন। তারা গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক সংলাপ, আইনের শাসন এবং বাংলাদেশকে ঘিরে আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে পার্লামেন্ট সদস্যবৃন্দ, হাউস অব লর্ডস-এর সদস্য, নীতিনির্ধারণী বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনায় বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক ও মানবাধিকার পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়।

আলোচনার সময় একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যেখানে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।

উদ্বোধনী বক্তব্যে বব ব্ল্যাকম্যান এমপি বলেন, আদালতের মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা এবং দলটির নিবন্ধন স্থগিত করা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় মানবাধিকার পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটেছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, নারী ও শিশুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ এবং সংখ্যালঘুদের প্রভাব বিস্তারে বাধা দেওয়ার বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

লর্ড রামি রেঞ্জার বলেন, নাগরিকদের পছন্দের প্রার্থীকে প্রভাবের মাধ্যমে প্রতিহত করা গণতান্ত্রিক নীতিমালার পরিপন্থী এবং এতে নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা দুর্বল হয়।

গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্ন্যান্স-এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. হাবিব মিল্লাত মানবাধিকার পরিস্থিতির একটি সারসংক্ষেপ তুলে ধরে অভিযোগ করেন যে ১২৪ জন সংসদ সদস্যসহ হাজারো রাজনৈতিক কর্মী দীর্ঘ সময় ধরে বিচার ছাড়াই আটক রয়েছেন এবং তাদের জামিন প্রদান করা হচ্ছে না। তিনি দাবি করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো রাজনৈতিক প্রভাবের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় আটক ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্ন্যান্স (জিসিডিজি) একটি কানাডাভিত্তিক নিবন্ধিত অলাভজনক সংস্থা, যা বিশ্বব্যাপী গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, মানবাধিকার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করে আসছে।

প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬/এএ


Array