বাংলানিউজসিএ ডেস্ক :: প্রতিদিনই ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। বলা হচ্ছে, ঢাকা থেকে এলাকায় ফিরে যাওয়া ব্যক্তিরাই আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। জেলার হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হচ্ছে ডেঙ্গু রোগীরা। তবে অনেকে হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছে।
নাটোর: গত শনিবার থেকে আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সাত দিনে নাটোর জেলায় ১৮ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে গত পাঁচ দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত চারজন নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি। তাদের মধ্যে একজন নারী। হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসার জন্য আলাদা কোনো কর্নার করা হয়নি। সাধারণ ওয়ার্ডে মশারির মধ্যে রাখা হয়েছে। অন্য রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে।
নাটোর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, রোগীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়েছে। ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য অনেকেই আসছে। তবে বেশির ভাগই আসছে আতঙ্ক থেকে। তাদের লক্ষণ বুঝে মনে হয়নি তারা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। তাই সবার পরীক্ষা করানো হচ্ছে না। গত দুই দিনে একজনকেও পরীক্ষা করা হয়নি।
সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান জানান, ডেঙ্গু পরীক্ষা ও চিকিৎসার সব রকম ব্যবস্থা সদর হাসপাতালে চালু আছে। এ জন্য একজন চিকিৎসককে দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার): ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে কমলগঞ্জ উপজেলার তিন রোগী মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁরা তিনজনই ঢাকা ফেরত বলে জানা গেছে।
মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা রত্নদ্বীপ বিশ্বাস আজ শুক্রবার সকালে জানান, গত ২৫ জুলাই কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর চা–বাগানের রাজ কুমার (১৮) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। রাজ কুমার ঢাকার একটি বাসায় কাজ করতেন। গত বুধবার কমলগঞ্জের পতনউষার ইউনিয়নের বৃন্দাবনপুর গ্রামের আবদুল মালিক (৪৯) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তিনি ব্যক্তিগত কাজে ঢাকায় গিয়েছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার কমলগঞ্জের রহিমপুর ইউনিয়নের চৈত্রঘাট গ্রামের সেলিম আহমদ (২৮) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সেলিম আহমদও ঢাকায় একটি বাসায় কাজ করতেন।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় শহরে সচেতনতা মূলক লিফলেট বিতরণ করছে স্কাউট সদস্যরা। গতকাল কিশোরগঞ্জ শহরের কালীবাড়ি মোড় এলাকা থেকে ছবিটি তোলা হয়। ছবি: তাফসিলুল আজিজডেঙ্গু মোকাবিলায় শহরে সচেতনতা মূলক লিফলেট বিতরণ করছে স্কাউট সদস্যরা। গতকাল কিশোরগঞ্জ শহরের কালীবাড়ি মোড় এলাকা থেকে ছবিটি তোলা হয়। ছবি: তাফসিলুল আজিজকমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা জান্নাতুল ফাইম প্রথম আলোকে জানান, কোনো রোগী সরাসরি তাদের কাছে আসছে না। ডেঙ্গু শনাক্তকরণের কোনো ব্যবস্থা নেই এ হাসপাতালে। রোগী এলে লক্ষণ বুঝে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠাবেন তাঁরা।
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার): মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় তিনজন ডেঙ্গু রোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে দুজনকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। একজন কিছুটা সুস্থ।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের তথ্য অনুসারে, গত ২৯ জুলাই শফিকুল ইসলাম (৩৬), ৩১ জুলাই কামাল মিয়া (৩২) ও পল্লবী উড়িয়া (১৩) নামের তিন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে আসে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ডেঙ্গু রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখতে হয়। রোগীর অবস্থা অনেক সময় অনেক খারাপ হয়ে যায়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরঞ্জাম দিয়ে এই রোগী সামাল দেওয়া কঠিন। তাই রোগীদের মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গল পৌরসভার শহর পরিকল্পনাবিদ এবং মশকনিধন ও পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা রক্ষা পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘শ্রীমঙ্গলে তিনজন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ায় এখানে এডিস মশা থাকতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি। আমরা পৌরসভার বিভিন্ন জায়গায় পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতার কাজ করছি। কাল শনিবার থেকে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আশপাশ পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সবাইকে বলে আসব। মশা মারার ওষুধ এখনো ছিটানো হয়নি। ওষুধ ছিটানোর পরিকল্পনা রয়েছে।’ তিনি জানান, পরিচ্ছন্নতা কাজের জন্য পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বাংলানিউজসিএ/ঢাকা / ০২ আগস্ট ২০১৯/ এমএম





