বাংলানিউজসিএ ডেস্ক :: ডেঙ্গুসহ আরও কয়েকটি রোগের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ঢাকার ছয়টি সরকারি হাসপাতালকে প্রায় ২৭১ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। চলতি অর্থবছরের বাজেটে ছয়টি হাসপাতালকে প্রথমে ২৩৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। তবে সম্প্রতি ডেঙ্গু রোগীর চাপ অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় ওষুধসহ অন্য সব সামগ্রী বিনামূল্যে দিতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলো হিমশিম খায়।
এ ব্যয় মেটাতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে বাজেটের বাইরে আরও ৩৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা চাওয়া হয়। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় অর্থমন্ত্রীকে চিঠি দেয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার অর্থ বিভাগ অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের অনুমোদন দেয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
অর্থমন্ত্রী মোস্তফা কামাল জানান, বৈশ্বিক কারণে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। এটি সেপ্টেম্বরের আগে শেষ হবে না। বিদেশ থেকে ওষুধ কেনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে। সব ধরনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানান, ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য কয়েক লাখ কিটস আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যে এক লাখ কিটস আসার কথা রয়েছে। দু-একদিনের মধ্যে বাকিগুলোও চলে আসবে। তিনি বলেন, নতুন হাসপাতালে বেড বাড়ানো হয়েছে এবং প্রয়োজনে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউট এবং শেখ রাসেল ইন্সটিটিউট স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সিটি কর্পোরেশন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সব সরকারি সংস্থা কাজ করছে। আশা করছি, খুব অল্প দিনের মধ্যে তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব।
জানা গেছে, ছয়টি হাসপাতালের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ৬০ কোটি টাকা, শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটকে ৩০ কোটি টাকা, স্যার সলিমুল্লাহ কলেজ হাসপাতালকে ২৬ কোটি টাকা, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ৩৩ কোটি টাকা, মুগদা জেনারেল হাসপাতালকে ২২ কোটি টাকা ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালকে ৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ১৭ হাজার ১৬৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। ৩১ জুলাই পর্যন্ত ১২ হাজার ৩৬৬ জন ছাড়পত্র নিয়ে চলে গেছে। বর্তমানে হাসপাতালে চার হাজার ৯০৩ জন ভর্তি রয়েছে। সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগে ১৪ জন মারা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাব মতে, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭১২ জন ভর্তি হয়েছেন। শুধু রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে এক হাজার ১৪৭ জন ভর্তি হয়েছে।
ঢাকার বাইরে হাসপাতালে ৫৬২ জন ভর্তি হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, সরকারি হাসপাতালগুলোতে ২৫ জুলাই ৫৪৭ জন, ২৬ জুলাই ৩৯০ জন, ২৭ জুলাই ৬৮৩ জন, ২৮ জুলাই ৮২৪ জন এবং ২৯ জুলাই ১০৯৬ জন, ৩০ জুলাই ১৩৩৫, ৩১ জুলাই ১৪৭৫ জন রোগী ভর্তি হয়। আর ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) হাসপাতালগুলোতে এক হাজার ৪৭৭ জন ডেঙ্গু রোগীর ভর্তি সংখ্যা হয়েছে।
অধিক রোগীর চাপে হাসপাতালগুলোর ব্যয় বেড়ে যায়। ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বেড়ে যাওয়ায় সরকারি হাসপাতালে এ রোগের পরীক্ষা ও ওষুধপত্র বিনামূল্যে করার ঘোষণা দেয় স্বাস্থ্য অধিদফতর।
এ কারণে সরকারের নির্ধারিত ছয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাড়তি অর্থ বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে। পরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে এ দাবি উপস্থাপন করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে। সেখানে বলা হয়, সারা দেশে বিশেষ করে ঢাকা মহানগরীতে ডেঙ্গু মারাত্মকভাবে বিস্তার লাভ করেছে। রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর উপচেপড়া ভিড়। হাসপাতালের সংশ্লিষ্টরা ডেঙ্গু রোগ চিকিৎসায় আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে।
অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের বাজেটের অপ্রত্যাশিত খাত থেকে আরও ৩৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ছয়টি হাসপাতালকে বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ১৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা টাকা, শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটকে চার কোটি ১০ লাখ টাকা, স্যার সলিমুল্লাহ কলেজ হাসপাতালকে তিন কোটি ৭০ লাখ টাকা, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ছয় কোটি ৬২ লাখ টাকা, মুগদা জেনারেল হাসপাতালকে দুই কোটি ৯০ লাখ টাকা ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালকে তিন কোটি ৫৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।
বাংলানিউজসিএ/ঢাকা / ০২ আগস্ট ২০১৯/ এমএম





