প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: করোনার কারণে যেহেতু এ বছর পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না, তাই প্রমোশন দিয়ে শিক্ষার্থীদের পরের শ্রেণিতে পড়াশোনা শুরু করার ব্যবস্থা নিতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) ইটনা মিঠামইন অষ্টগ্রাম অলওয়েদার সড়ক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত ভার্চুয়াল পাঠেও শিক্ষার্থীদের মনোযোগী হতে হবে। করোনাজয় করেই এগিয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই।এ সময় তিনি আরও বলেন, হাওর এলাকায় কৃষির পাশাপাশি উৎপাদন বহুমুখী করতে মৎস্য ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।
এদিকে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফল মূল্যায়ন করে এইচএসসির ফলাফল নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে এক পরীক্ষার্থীর পক্ষ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আগামী ৩ দিনের মধ্যে নোটিশে উল্লেখিত দাবি মেনে না নিলে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে রেজিস্ট্রি ডাক যোগে শতাব্দী রায় নামের এক উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর পক্ষে এই নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান।ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ছাড়াও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক এবং ৯টি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করে এই নোটিশ পাঠানো হয়।
শতাব্দী রায় সাভারে অবস্থিত মোফাজ্জল-মোমেনা চাকলাদার মহিলা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী এবং ২০২০ সনের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার একজন পরীক্ষার্থী। নোটিশে তিনি দাবি করেছেন, জেএসসি ও এসএসসির ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফল প্রস্তত করলে তিনিসহ আরও অনেক শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিকে ভালো ফলাফল করার প্রস্তুতি থাকার পরেও পূর্বের জিপিএর কারণে ভাল ফলাফল বঞ্চিত হবেন।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, জেএসসি ও এসএসসির ফলাফলের গড় করার কারণে একদিকে যেমন অনিয়মিত, একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য, প্রস্তুতিহীন শিক্ষার্থীর জন্য সুযোগ তৈরি হবে, তেমনি কোনো কারণে জেএসসি কিংবা এসএসসিতে কম জিপিএ পাওয়া মেধাবী, পরিশ্রমী শিক্ষার্থীরা তাদের প্রচেষ্টা প্রমাণে ব্যর্থ হবে। পূর্বের ফলাফলের গড় করে পরবর্তী পরীক্ষার ফলাফল নির্ধারণ এক ধরনের জোরপূর্বক এবং বেআইনি বলে নোটিশে বলা হয়েছে, যা দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ আইনত করতে পারেন না।
উল্লেখ্য, গতকাল এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানান, জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফল মূল্যায়ন করেই এবারের এইচএসসির ফলাফল নির্ধারণ করা হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তাদের কাছে আমরা মতামত ও পরামর্শ নিয়েছি। পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে বিশ্বের অনেক দেশের পরিস্থিতি দেখে আমরা ২০২০ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সরাসরি পরীক্ষা বাতিল করে পরীক্ষার্থীদের জেএসসি-জেডিসি এবং এসএসসি-সমমান পরীক্ষার ফলাফলের ওপর মূল্যায়ন করে গ্রেড নম্বর নির্ধারণ করা হবে।
প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ০৮ অক্টোবর ২০২০/এমএম





