বাংলানিউজসিএ ডেস্ক :: গতকাল ছিল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এ দিবসটির তাৎপর্য অনেক। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক দুই কারণেই। অভ্যন্তরীণ কারণটি হল, ১৯৫২ সালের এই দিনেই আমরা প্রথমবারের মতো আমাদের স্বাতন্ত্র্য ও স্বকীয়তা সম্পর্কে উপলব্ধি করেছিলাম।আমাদের যে ঐতিহ্য আছে, চাহিদা আছে, ভবিষ্যৎ রূপরেখা আছে- এ বিষয়গুলো আমরা প্রথমবারের মতো গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম। এদিন আমরা ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই, বিশেষত তরুণ সমাজ শহীদ দিবসের তাৎপর্যের প্রতি একাত্মতা বোধ করে। এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।
১৯৯৯ সালে আন্তর্জাতিক ভাষা ইন্সটিটিউট আমরা প্রতিষ্ঠা করেছি। তবে এই প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব আমরা কতটা উপলব্ধি করতে পেরেছি সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ। আমরা আমাদের মাতৃভাষাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছি বটে, তবে আরও যে গুরুত্বপূর্ণ কাজ সেটা এখনও করার বাকি।সেটা হল ভাষাকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করা। আমরা পৃথিবীর সব ভাষার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে চাই। প্রত্যেক ভাষাভাষী মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে থাকতে চাই।
ভাষা মানুষে মানুষে যোগাযোগের সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। অন্য কোনো মাধ্যমে অপরের প্রতি এত সহজে ঘনিষ্ঠ হওয়া যায় না। আমরা যদি আমাদের বাণিজ্য, জনশক্তি রফতানি, বিদেশি বিনিয়োগ ইত্যাদি বিষয়ে সফল হতে চাই, তাহলে ভাষা হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।আন্তর্জাতিক ভাষা ইন্সটিটিউটের মাধ্যমে এ কাজটি আমরা সহজেই করতে পারি। যেমন ধরা যাক, বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনে বিদেশি ভাষায় ক’টা অনুষ্ঠান হয়? আমরা বেতার ও টেলিভিশনে বিদেশি ভাষায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারি।
এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক ভাষা ইন্সটিটিউট সহযোগিতা করতে পারে। অন্যের ভাষার প্রতি সম্মান দেখাতে পারলে সেই ভাষাভাষীরা আমাদের সঙ্গে আরও একাত্মবোধ করবে সন্দেহ নেই। আর এভাবেই গড়ে উঠতে পারে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক।
বাংলানিউজসিএ/ঢাকা/ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ /এমএম





