বাংলানিউজসিএ ডেস্ক :: রাষ্ট্রায়ত্ত এয়ারলাইনস সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে চতুর্থ ড্রিমলাইনার যুক্ত হয়েছে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে। ড্রিমলাইনারগুলো বহরে যুক্ত হওয়ার পর থেকে বিমানকে লাভজনক করতে মহাপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। নতুন কেনা উড়োজাহাজ দিয়ে তিনটি নতুন আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ। রুট তিনটি হচ্ছে ঢাকা-গুয়াংজু, ঢাকা-মদিনা ও ঢাকা-কলম্বো। তিনটি রুটেই প্রতিদিন ফ্লাইট পরিচালনা করবে বলে জানিয়েছে বিমানে একাধিক সূত্র। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে লোকসানের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া দিল্লি রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু করা হয়েছে। শিগগিরই বিমানের ঢাকা-চীনের গুয়ানজু, ঢাকা-দক্ষিণ কোরিয়া-জাপান রুট চালু হতে যাচ্ছে। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, ইতালির রোম, শ্রীলঙ্কার কলম্বো, ভারতের মুম্বাই, মালদ্বীপের মালে এবং সৌদি আরবের মদিনা শহরে বিমানের রুট চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এভাবে সিডনি, টরেন্টো ও জাকার্তা আন্তর্জাতিক রুট চালু করতে চাচ্ছে বিমান মন্ত্রণালয়। কারণ ওসব শহরে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি যাত্রী নিয়মিত যাতায়াত করে থাকেন। আর এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্নিষ্ট দেশের বিমান মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে। বছর তিনেকের মধ্যে সরকারের নেয়া মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
সূত্র মতে, নতুন রুট হিসেবে চীনের গুয়াংজু শহরে, সিউল-জাপান রুটে বাংলাদেশ বিমান চলাচলে ইতিবাচক সম্মতি পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে চীনের কেন্দ্রীয় বিমান কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, জিএসএ নিয়োগ এবং পেয়েছে সরকার। তবে উড়োজাহাজ কম থাকায় এতদিন ওই রুটে বিমান উড়তে পারেনি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস মনে করছে, ওই রুটে সপ্তাহে তিনটি বিমানের ফ্লাইট চালু হলে বিপুলসংখ্যক যাত্রী হবে। একইভাবে সৌদি আরবের মদিনায়, শ্রীলঙ্কার কলম্বো ও মালে রুটে সপ্তাহে ২-৩টি ফ্লাইট চালু করলে লাভবান হবে বিমান।
তবে নতুন রুট খোঁজা এবং পুরনো রুট পুনরায় চালু হলে সেটি লাভজনক হবে কিনা- এসব নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। নতুন রুট হলে কতগুলো উড়োজাহাজ নতুন যুক্ত হবে সেটিও পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পুরনো রুটগুলো কী কারণে বন্ধ হয়েছিল, ওসব বৈঠকে তার নিবিড় বিশ্নেষণ হয়। আবার নতুন করে এসব রুট চালু হলে কতটুকু সফলতা পাওয়া যাবে সেটিও বিবেচনায় আন হয়। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশি অধ্যুষিত দেশগুলোকে প্রাধান্য ও জনবহুল শহরকে বাছাই করবে কর্তৃপক্ষ।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশ বিমানের লাভ-লোকসান নির্ধারণে স্বল্প, মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। ওই প্রেক্ষিতে রাজশাহী, সৈয়দপুর, যশোরসহ অন্যান্য বিমানবন্দরে সংস্কারের কাজ জোরেশোরে চলছে। পাশাপাশি যাত্রীসেবার মান বাড়াতে নতুন উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে যোগ হয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির চারটি ড্রিমলাইনার। এ প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব মহিবুল হক বলেন, মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে বিমানকে আরো লাভজনক অবস্থায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। বিমান এখন লাভজনক পর্যায়ে রয়েছে। বিমানকে গতিশীল ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিমানের উন্নয়নের জন্য নেয়া মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজও শুরু হয়েছে। তিনি আরো বলেন, যেসব দেশে বহুসংখ্যক বাংলাদেশি বাস করছেন, সেসব দেশে আন্তর্জাতিক রুট চালুর জন্য অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। শিগগির নতুন নতুন রুটে বিমান চালু করা হবে বলেও জানান তিনি।
বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে নিজস্ব উড়োজাহাজ রয়েছে দশটি। এর মধ্যে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর মডেলের উড়োজাহাজ আনা হয় ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে। বর্তমানে এগুলো পালকি, অরুণ আলো, আকাশ প্রদীপ ও রাঙা প্রভাত নামে চলমান রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ২০১৫ সালের নভেম্বরে আনা হয় বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের নতুন আরো একটি উড়োজাহাজ, যার নাম দেয়া হয়েছে ‘মেঘদূত’। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে বিমানের বহরে যোগ হয়েছে বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ ‘ময়ূরপঙ্খী’। গত বছর বিমানবহরে যুক্ত হয় নতুন দুটি ড্রিমলাইনার। এগুলোর নাম রাখা হয়েছে ‘আকাশবীণা’ ও ‘হংসবলাকা’। এ বছর আসে দুটি ড্রিমলাইনার ‘গাঙচিল’ ও ‘রাজহংস’। নিজস্ব উড়োজাহাজের পাশাপাশি বিমানের বহরে লিজ নেয়া উড়োজাহাজ রয়েছে ছয়টি। এর মধ্যে বোয়িং ৭৩৭ রয়েছে চারটি ও ড্যাশ-৮ রয়েছে দুটি।
বাংলানিউজসিএ/ঢাকা/ ২০ অক্টোবর ২০১৯/ এমএম





