প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: টানা মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিতে রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের শঙ্কা বেড়েছে। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত মাত্র ৯ ঘণ্টায় জেলায় ১৯০.৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরের পর জেলা শহরের পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের সামনের সড়কের একটি অংশে ভাঙন দেখা দেয়। এছাড়া ভেদাভেদী মুসলিমপাড়া, চেঙ্গীমুখ ও পাবলিক হেলথ এলাকায় পাহাড়ের ছোট ছোট অংশ ধসে পড়েছে। অব্যাহত বৃষ্টিতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এদিকে কাপ্তাইয়ের বালুচর এলাকায় সড়কের ওপর মাটি ধসে পড়ায় প্রায় তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। খাগড়াছড়ির মহালছড়ি এলাকায় সড়কে পানি উঠে যাওয়ায় রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে প্রশাসন সকাল থেকেই মাইকিং করে সতর্কতা জারি করছে। শিমুলতলী, রূপনগরসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হলেও অনেকেই এখনও ঘর ছাড়তে রাজি হননি।
তবে প্রশাসনের অনুরোধে লোকনাথ মন্দির আশ্রয়কেন্দ্র ও যুব উন্নয়ন আশ্রয়কেন্দ্রে ইতোমধ্যে শতাধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, রাঙামাটি শহরে ১১টিসহ পুরো জেলায় মোট ৪৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যদিও পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে ঠিক কত মানুষ বসবাস করছেন, সে বিষয়ে প্রশাসনের কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। ধারণা করা হচ্ছে, জেলা শহরে ১৫ থেকে ২০ হাজার এবং পুরো জেলায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পাহাড়ের ঢাল, নিচ ও চূড়ায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন।
ভারী বৃষ্টির কারণে রাঙামাটি সরকারি কলেজসহ জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা স্থগিত করেছে।
রাঙামাটি সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আসলাম সারোয়ার বলেন, ‘আমরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে গিয়ে মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনুরোধ করছি। ইতোমধ্যে দুইটি আশ্রয়কেন্দ্রে কিছু মানুষ এসেছে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছি।’
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/০৭ জুলাই ২০২৬/এএ





