প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে সুখ-সমৃদ্ধির প্রত্যাশায় নদীতে ফুল ভাসিয়ে গঙ্গা দেবীর পূজা করেছেন চাকমা সম্প্রদায়ের মানুষ। ভোরের আলো ফুটতেই দলবেঁধে ফুল সংগ্রহ করে নদীর পাড়ে পূজা দেওয়ার এই রীতি বহুদিনের। পূজার পর সেই ফুল দিয়ে ঘরবাড়ি, আঙিনা ও আসবাবপত্র সাজানোর প্রস্তুতি চলে।
রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে খাগড়াছড়ির চেঙ্গী নদীর পাড়ে শত শত নারী-পুরুষ, কিশোর-কিশোরী জড়ো হন হাতে বুনোফুলের ডালা নিয়ে। পূজা শেষে তারা নিজ নিজ ঘরে গিয়ে ভগবান বৌদ্ধের আরাধনা করেন।
চাকমা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি রাজীব চাকমা বলেন, ‘ভোরে ফুল তুলে নদীর পাড়ে গঙ্গা দেবীর পূজা এবং পরে ভগবান বৌদ্ধের আরাধনা—এই রীতিনীতি আমাদের পূর্বপুরুষদের থেকে পাওয়া। আমরা এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে চাই, যাতে নতুন প্রজন্মও তা লালন করে।’
উৎসবের দ্বিতীয় দিন সোমবার (১৩ এপ্রিল) চাকমা সম্প্রদায়ের ‘মূল বিজু’। এদিন পাহাড়ি নানা সবজি দিয়ে তৈরি করা হয় বিশেষ পদ ‘পাজন’ (পাচন)। একশর বেশি সবজির সমন্বয়ে রান্না করা এই খাবার দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই পাজন শরীরকে রোগমুক্ত রাখতে সহায়ক।
প্রয়া চাকমা নামে আরেকজন জানান, ভোরে দলবেঁধে ফুল সংগ্রহ করে গঙ্গা মাকে পূজা দিতে পেরে তারা আনন্দিত। ফুল বিজুর পরদিন মূল বিজুতে শতাধিক সবজি দিয়ে পাজন রান্না করে সবাই মিলে খাওয়া হয়। এরপর নতুন বছরের দিনে থাকে ঘোরাঘুরি ও আনন্দ-আয়েশ—এভাবেই তিন দিন ধরে বিজু উৎসব পালন করেন তারা।
উৎসবের তৃতীয় দিন বুধবার (১৫ এপ্রিল) নতুন বছরকে স্বাগত জানান চাকমারা। এদিন থাকে বিশ্রাম ও আনন্দের আয়োজন। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরে বেড়ানো, মুখরোচক খাবার খাওয়া—এই দিনটিকে ঘিরে থাকে স্বস্তি ও আনন্দের আবহ।
উল্লেখ্য, তিন দিনব্যাপী বিজু উৎসবে চাকমা পাড়াগুলো মুখর হয়ে ওঠে নানা আয়োজন—ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, নাচ-গান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এই উৎসব শুধু আনন্দের নয়, বরং তাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। চাকমা সম্প্রদায়ের মানুষের বিশ্বাস, পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া এই প্রথা ও রীতিনীতি টিকিয়ে রাখার মধ্য দিয়েই তাদের স্বকীয়তা অটুট থাকবে। তাই প্রতি বছরই উৎসব ঘিরে ঐতিহ্যবাহী পোশাক, খাবার ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে এই ধারার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/১২ এপ্রিল ২০২৬/এএ





