Menu

অপরাধী দুর্নীতিবাজ শনাক্তে মাঠে গোয়েন্দারা

বাংলানিউজসিএ ডেস্ক :: সরকারের হাইকমান্ডের নির্দেশে দলের নাম ভাঙ্গিয়ে চলা অপরাধী ও দুর্নীতিবাজ নেতা এবং গডফাদার শনাক্তে নতুন করে মাঠে নেমেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। পুুরনো তালিকায় চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, অস্ত্রবাজ, ভ‚মিদস্যু ও মাদক কারবারিসহ নানা অপরাধে জড়িত অন্তত ৩০ ‘গডফাদার’ রয়েছে নজরদারিতে। তালিকায় যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষকলীগ, ঢাকার থানা ও ওয়ার্ড কমিটির নেতা ও সিটি কর্পোরেশনের কয়েকজন কাউন্সিলরের নাম রয়েছে। পেছন থেকে কলকাঠি নাড়া এসব ভয়ঙ্কর অপরাধীকে পর্যায়ক্রমে পাকড়াও করা হবে।

সরকারি দলের ছত্রছায়ায় থাকা এমন কথিত নেতাদের ধরতে র‌্যাবের অ্যাকশনের পর পুলিশও মাঠে নামছে বলে জানা গেছে। র‌্যাব ও পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে সবুজ সঙ্কেত পাওয়ার পরই অ্যাকশন শুরু হয়েছে। অপরাধী যে দলেরই হোক কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। অপরাধীদের শনাক্তকরণে গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। পুরনো তালিকার পাশাপাশি নতুন করে তালিকা করা হচ্ছে। এ কাজে বেশ কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা মাঠে কাজ শুরু করেছে। ওই কর্মকর্তারা জানান, সরকারি দলের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের পদ পদবি ব্যবহার করে সেব কনতা কাম গডফাদার সব ধরৃনর অএবধ বাণিজ¿ ও অপরাৃধ জড়িৃয় পৃড়ৃছ। এদের অনেকে গত এক যুগে শূন্য থেকে শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। র‌্যাবের ও পুলিশের গ্রেফতার তালিকায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ নেতা, কাউন্সিলরসহ অন্তত ৩০ জন প্রভাবশালী রয়েছেন; যাদের ওপর নজরদারি চলছে। পর্যায়ক্রমে তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, র‌্যাব পুলিশের তালিকায় থাকা অনেক প্রভাবশালীই গ্রেফতারের ভয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন। কেউ কেউ রাতে বাসায় ঘুমাচ্ছেন না। সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভ‚ঁইয়াকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে ঢাকার ক্যাসিনো বাণিজ্য, যুবলীগের টেন্ডারবাজি, র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার যুবলীগ নেতা জিকে শামীমসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে।

একই সূত্র মতে, জিজ্ঞাসাবাদে খালেদ মাহমুদ ভূইয়া ক্যাসিনোর অবৈধ ব্যবসার কোটি কোটি টাকার ভাগাভাগি, কারা এই টাকার ভাগ পায় এবং বিদেশে কিভাবে তারা অর্থ পাচার করে এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে প্রকাশ করেন। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানে নেমেছে র‌্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশ।

দায়িত্বশীল পুলিশ ও র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীতে আর জুয়ার আসর বসতে দেয়া হবে না। কোথাও অবৈধ জুয়ার আড্ডা, ক্যাসিনো চলতে দেয়া হবে না। এসব জুয়ার বোর্ড, ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িতরা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ কঠোর হবে। পুলিশ কিংবা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ যদি ক্যাসিনো ব্যবসায় জড়িত থাকে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। সূত্র জানায়, ক্যাসিনো পরিচালনা করেন এমন ব্যক্তিদের তালিকা করা হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িতদের অধিকাংশ যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগে অনুপ্রবেশকারী। অতীতে তারা যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল করতেন। এখন পর্যায়ক্রমে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।

জানা গেছে, রাজধানীর বহুতল ভবনের ছাদগুলোতে গড়ে তোলা হয়েছে ক্যাসিনো। গুলশান-বনানী-বারিধারা-উত্তরা-ধানমন্ডিসহ অভিজাত এলাকায় গেস্ট হাউজের নামে অবৈধ ক্যাসিনো চলে। ইতোমধ্যে অভিযোগ উঠেছে, পুলিশের একজন কর্মকর্তার একাধিক গেস্ট হাউজ রয়েছে গুলশান এলাকায়। রাত হলেই জমে উঠে ক্যাসিনোগুলো। দেশের বিভিন্ন এলাকার ধনাঢ্য জুয়াড়িরা ভিড় করেন সেখানে। জুয়াড়িদের পাশে বসে সঙ্গ দেন সুন্দরী তরুণীরা। তাদের অনেকে মডেল, অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, শুধু যুবলীগের নেতাকর্মীই নয়, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী যাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, অস্ত্রবাজিসহ বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ রয়েছে তাদেরও তালিকা করা হয়েছে। সূত্র বলছে, ঢাকার বহু থানা ও ওয়ার্ড কমিটির আওয়ামী লীগের নেতাদের নামে গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগের শেষ নেই। একই অবস্থা বেশ কয়েকজন সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলারও। এরাও এবার গ্রেফতার থেকে রক্ষা পাবেন না।

বাংলানিউজসিএ/ঢাকা/ ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯/ এমএম


Array