Menu

দুর্ভোগকে সঙ্গী করে ঘরমুখো মানুষের স্রোত

বাংলানিউজসিএ ডেস্ক :: দরজায় কড়া নাড়ছে মুসলিম সম্প্রদায়ের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। ঈদের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাটে বাড়ছে ঘরমুখো মানুষের স্রোত। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার দিনভর মুষলধারে বৃষ্টি আর ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয়, সময়মতো বাস না ছাড়ার কারণে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে ঘরমুখী নগরবাসীকে। তারপরও চোখে-মুখে আনন্দের ছোঁয়া। কারণ ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করবেন স্বজনদের সঙ্গে।

গতকাল সকালে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ঈদ উদযাপনে গত ৩০ জুলাই যারা দীর্ঘলাইনে দাঁড়িয়ে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করেছিলেন তারা আজ দ্বিতীয় দিনের মতো ট্রেনে করে ঢাকা ছাড়ছেন। গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে নির্ধারিত সময়ের আগেই কমলাপুর স্টেশনে উপস্থিত হন যাত্রীরা। সকালে কমলাপুর স্টেশনে এসে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যেতে চাওয়া যাত্রীরা। ঈদ যাত্রার প্রথম দিনে ট্রেনের কিছুটা শিডিউল বিপর্যয় হলেও গতকাল বৃহস্পতিবার প্রায় সব ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় হয়। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনগুলোর প্রতিটিই বিলম্বে ছেড়ে যাবে বলে স্টেশনে রাখা স্ক্রিনে দেখা যাচ্ছে। একদিকে বৃষ্টি অন্যদিকে ট্রেনের বিলম্ব। ফলে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছেন ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা।

বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতে রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকাল ৬টা ২০ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও কমলাপুর ছেড়ে যায় প্রায় দুই ঘণ্টা পর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে। চিলাহাটীগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস সকাল ৮টায় ছাড়ার কথা থাকলেও স্টেশনে রাখা স্ক্রিনে সম্ভাব্য সময় দেয়া হয় ১০টা ২৫ মিনিট। বেলা ১১টায় এ ট্রেন ছাড়েনি। এ ছাড়া সকাল ৯টায় রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার সম্ভাব্য সময় দেয়া হয় সাড়ে ১০টায়, তবে বেলা ১১টা পর্যন্তও ছাড়েনি। দিনাজপুর-পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেস সকাল ১০টায় ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে যাবে বলে জানানো হয়েছে।

নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী বেলাল আহমদ বলেন, আজকের টিকিট সংগ্রহের জন্য গত ৩০ জুলাই ১৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকটা যুদ্ধ করে কাক্সিক্ষত টিকিট পেয়েছিলাম, কিন্তু আজ সময়মতো স্টেশনে উপস্থিত হয়ে জানতে পারলাম ট্রেন আড়াই ঘণ্টা লেট। সঙ্গে মা, স্ত্রী, ছোট ছোট সন্তান রয়েছে। একে দীর্ঘপথ আমাদের যাত্রা করতে হবে, অন্যদিকে যদি ট্রেন এত লেট হয়, তাহলে এই বিড়ম্বনা কীভাবে মেনে নেয়া যায়। রেল কর্তৃপক্ষ জানেই যে, ঈদের সময় ব্যাপক যাত্রীর চাপ সৃষ্টি হয়। সে অনুযায়ী, তারা আগে থেকে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করে না। আর সেই মাশুল দিতে হয় আমাদের মতো সাধারণ যাত্রীদের।

রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের পারভীন আক্তার বলেন, রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেন সকাল ৯টায় ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও সাড়ে ১০টাতেও ট্রেনটি আসেনি। আমার মতো হাজার হাজার মানুষ ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছে। স্টেশনে বসে এভাবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা যাত্রীদের জন্য খুবই বিরক্তিকর এবং বিড়ম্বনার। একবার টিকিট সংগ্রহের জন্য ১০-১২ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ানো, আবার সেই টিকিট অনুযায়ী ঈদযাত্রার সময় ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়, এই বিষয়গুলো যে কতটা ভোগান্তির, তা শুধু আমাদের মতো যাত্রীরাই উপলব্ধি করতে পারে।

ঈদযাত্রার সার্বিক বিষয়ে কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার আমিনুল হক বলেন, আজ ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিনে সারা দিনে কমলাপুর স্টেশন থেকে ৩টি স্পেশালসহ মোট ৫৫টি ট্রেন ছেড়ে যাবে। আমরা সার্বিক চেষ্টা করছি, ট্রেনগুলোর শিডিউল ঠিক রাখার। আসলে যে ট্রেনগুলো দেরি করে স্টেশনে এসে পৌঁছেছে, সেই ট্রেনগুলোই দেরিতে ছেড়েছে। বাকি ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়ই স্টেশন ছেড়ে গেছে।

অন্যদিকে রাজধানীর গাবতলী কল্যাণপুর, শ্যামলী, সায়েদাবাদ কমলাপুর টিটি পাড়া এবং মহাখালী থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যের বাস ছেড়ে যাচ্ছে। যানজট আর বৃষ্টির ভোগান্তি ঠেলে নির্ধারিত সময়ের আগে কাউন্টারে পৌঁছলেও গেলেও বাসেরই দেখা নেই। যারা আগাম টিকিট নেননি, তাদেরকে আবার গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। আগামীকাল শুক্রবার ঘরমুখো যাত্রীদের চাপ বেশি থাকবে বলে জানিয়েছেন বাসের টিকিট বিক্রির সাথে সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে যাত্রীরা অভিযোগ করছেন প্রথমে অগ্রিম টিকিট নেই বলা হলেও বেশি দাম দিলে এখনো কিছু টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। তবে প্রতি টিকিটে দাম নেয়া হচ্ছে তিনগুণ পর্যন্ত ।তবে বাস-ট্রেনের মতো অতিরিক্ত চাপ নেই লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে। এ সময় যে ব্যস্ততা থাকার কথা তার ছিটেফোঁটা নেই।

বাংলানিউজসিএ/ঢাকা / ০৯ আগস্ট ২০১৯/ এমএম


Array