Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক ::‌ লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত প্রিয় বাংলাদেশ। ডিসেম্বর এলেই দেশব্যাপী বিজয়ের ধ্বনি নতুন করে উচ্চারিত হয়। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস বাঙালি জাতিসত্তার আত্মমর্যাদা, বীরত্ব ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। বিজয়ের এ উদযাপন তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাগ্রত করে তোলে। স্বাধীনতার ৫১ বছরে দাঁড়িয়ে এ বাংলাদেশের আছে নানা অর্জন। বিজয়ের মাসে কী ভাবছেন তরুণরা? এমন প্রশ্নের জবাবে কয়েকজন তরুণ বিজয় দিবস নিয়ে জানালেন তাদের ভাবনার কথা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী সোহেল রানা সাব্বির বিজয় দিবস নিয়ে বলেন, ‘আমাদের জাতীয় জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত লাল সবুজের পতাকা। এ দেশের আপামর জনসাধারণ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন প্রিয় মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করে শোষণ-বঞ্চনার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেওয়ার জন্য।

বিজয় অর্জনের পাঁচ দশকে আমাদের দেশ অনেক এগিয়েছে। একের পর এক দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে চমকে দেওয়ার মতো সাফল্য যুক্ত হচ্ছে। সামাজিক অনেক সূচকে এশিয়ায় আমাদের অবস্থান বেশ ভালো। সীমাবদ্ধতাও আছে অনেক। দূর্নীতি পুরোপুরি দূর হয়নি, এখনো দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যের

সঙ্গে লড়াই করছেন। অর্জিত হয়নি শতভাগ সাক্ষরতা। আমাদের প্রত্যাশা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়, বিজয়ের মূলমন্ত্রে সোনার বাংলা বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।’ এশিয়ান মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী সানজানা শবনম বলেন, ‘সবাই পরাধীনতার শিকল থেকে মুক্ত হতে চায়। বাংলার দামাল ছেলেরাও চেয়েছিল। তাই অনেক ত্যাগের বিনিময়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কাছ থেকে ছিনিয়ে এনেছিল বাংলার স্বাধীনতা। বিজয় অত্যন্ত আনন্দের হলেও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শহিদদের স্মৃতি, স্বজন হারানোর আর্তনাদ আর যুদ্ধাহত ও ঘরহারা মানুষের দীর্ঘশ্বাস। তাই এদিন শুধু বিজয়ের দিন নয়, এটি আমাদের চেতনা জাগরণেরও দিন। তবে অনেক লক্ষ্যই এখনো পূরণ হয়নি। তাই

বিজয়ের পাঁচ দশক পর হলেও আমরা চাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বঙ্গবন্ধুর ‘সোনার বাংলা’ বিনির্মাণে সবাই নিঃস্বার্থভাবে কাজ করুক। তাই ব্যক্তি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রকে এ কাজের দায়িত্ব নিতে হবে। দেশপ্রেম বুকে ধারণ করে সৎ থেকে রাষ্ট্রের উন্নয়নে কাজ করলে একটা সময় বিজয়ের আনন্দ সত্যিই উপভোগ করা যাবে।’ ১৯৭১ সালে কোথায় ছিলাম আর আজ আমরা কোথায় আছি।

স্বাধীনতা অর্জনে যারা সরাসরি যুক্ত ছিলেন তাদের প্রত্যাশা এবং প্রাপ্তির মানদণ্ড কেমন? এমন প্রশ্নের জবাবে বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজি আব্দুর রব বলেন, ‘আমরা যারা মুক্তির সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছিলাম, যারা ভবিষ্যৎ বংশধরদের জন্য একটি অগ্রগামী দেশ গড়তে চেয়েছিলাম, তারা বর্তমান অর্থনৈতিক উন্নয়নকে সামনে রেখেই বলতে চাই, শুধু অর্থনীতির উন্নয়নই নয়-চাই মানবিক উন্নয়নও। দূর্নীতি, ঘুস, সুবিধাবাদিতা, অপরাজনীতি, নিপীড়ন, লুটপাটের কারণে বৃত্তবদ্ধ হয়ে পড়ছে দেশ। বিজয় দিবসে শুধু ফানুস উড়িয়ে, আলোক মালায় সজ্জ্বিত করে কিংবা পায়রা উড়িয়ে নয়-কিছু সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্য নিয়ে পালিত হোক বিজয় দিবস।

বিজয়ের প্রকৃত স্বাদ আস্বাদনের জন্যই। প্রতি বছর একটা বিষয় নির্ধারিত হোক সমাধানের লক্ষ্যে। আগামী বর্ষগুলো নির্ধারিত হোক শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নদী, নিরাপত্তা, নারী অধিকার, দুর্নীতি দমন-এমন সমস্যা সমাধানের। শুধু অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে বিজয় পালিত না করে বরং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলার অব্যাহত লড়াই করতে হবে। তবেই প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির মিল থাকবে।’

প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ১৩ ডিসেম্বর ২০২২ /এমএম