Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক ::‌ করোনার কালো থাবায় দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বন্ধ থাকায় অনেকটা অলস সময়ই কাটিয়েছিলেন বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা। এরপর স্বাস্থ্যবিধি মেনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার পর দাপুটে ক্রিকেট খেলার মাধ্যমে বাংলাদেশ দল জিততে থাকে একের পর এক ম্যাচ। আর তাতেই ২০২১ সালে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জেতার রেকর্ড গড়েছে তামিম ইকবাল বাহিনী। কিন্তু টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টিতে ভরাডুবির মাধ্যমে বছরটা শেষ করল লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্বকারীরা।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ওয়ানডে ম্যাচ জয়

করোনাভাইরাসের কারণে ২০২১ সালে খুব বেশি এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ খেলা হয়নি। এ বছরে মোট ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়ে ৭৩টি। সবচেয়ে বেশি ১৫ ম্যাচ খেলেছে শ্রীলঙ্কা। তাদের পরে রয়েছে ১৪ ম্যাচ খেলা আয়ারল্যান্ড। আর বাংলাদেশ খেলেছে ১২টি ম্যাচ।

মাত্র ১২ ওয়ানডে খেলেই ৮টিতে জিতেছে রাসেল ডোমিঙ্গোর শিষ্যরা। চলতি বছরে যেকোনো দেশের হয়ে এটাই সর্বোচ্চ জয়ের রেকর্ড। মার্চে নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে তিনটি ও ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার কাছে পরাজয় এক ম্যাচে। এর বাইরে জিম্বাবুয়ে সফরে তিনটি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হোম সিরিজে তিনটি ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে জিতেছে দুই ম্যাচে।

২০২১ সালে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে বাংলাদেশ

বছরের প্রথম মাসেই বাংলাদেশ সফরে আসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল। ওই সিরিজে তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে দুদল। প্রথম ম্যাচে সাকিব আল হাসান, হাসান মাহমুদ আর মোস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে সফরকারীদের ৬ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে ৭ উইকেটের জয় নিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করে টাইগাররা। আর তৃতীয় ম্যাচে তামিমের, সাকিবের, মুশফিকের এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ফিফটির সুবাদে ১২০ রানের বড় জয় নিয়ে ক্যারিবীয়দের হোয়াওয়াশ করে রাসেল ডোমিঙ্গোর শিষ্যরা।

এরপর নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে হোয়াইটওয়াশ হয়ে ফিরে আসে দল। সেখানেও তিনটি ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। এরপর ২০২১ সালে আরও পাঁচটি ম্যাচ খেলে মাত্র একটি হেরেছে টাইগাররা। জিতেছে বাকি পাঁচটি ম্যাচে।

জিম্বাবুয়ের মাটিতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে ম্যাচের প্রত্যেকটি জিতে রোডেশীয়দের বাংলাওয়াশ করা করেছে বাংলাদেশ। পরে ঘরের মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিনটি ম্যাচ খেলে স্বাগতিকরা। সেখানে প্রথম দুই ম্যাচ জিতে আগেই সিরিজ নিজেদের করে ফেলে বাংলাদেশ কিন্তু পরের ম্যাচ আর জেতা হয়নি।

২০২১ সালে আন্তর্জাতিক টেস্ট ম্যাচে বাংলাদেশ

২০২১ সালে মুমিনুল হকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দল মোট সাতটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে মোট পাঁচটি ম্যাচেই হেরেছে টাইগাররা। আর একটি করে ম্যাচে জিতেছে ও ড্র করেছে।

বছরের শুরুতে ওয়েস্ট ইনিংসের বিপক্ষে দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছিলো বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত ওই দুই টেস্ট ম্যাচের কোনোটিতেই জেতা হয়নি টাইগারদের। প্রথম ম্যাচে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হলেও অভিষেক ম্যাচে কাইল মেয়াসের অপরাজিত ডাবল সেঞ্চুরির কল্যাণে জিতে নেয় ক্যারিবয়রা। পরের ম্যাচেও জেতা হয়নি স্বাগতিকদের।

অবশ্য বছরের তৃতীয় ম্যাচেই জয়ে ফেলে মুমিনুল হকরা। জিম্বাবুয়ের মাটিতে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে ২২০ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পায় দল। পরের সিরিজে শ্রীলঙ্কার মাটিতে একটি ম্যাচ ড্র করলেও হেরেছে অন্যটি। আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাটিতে খুব বাজেভাবে দুটি ম্যাচ হেরেছে মুমিনুলরা।

৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। বাংলাদেশ জিতেছে ২-১ ব্যবধানে। প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ১৫২ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ জিতে নেয় ৮ উইকেটের ব্যবধানে।

এই ম্যাচ জয়ের মধ্য দিয়ে ওয়ানডে এবং টেস্টেও পর শততম টি-টোয়েন্টিতেও জয়ের দেখা পেলো বাংলাদেশ। শততম ওয়ানডেতে ভারতকে, টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছিল টাইগাররা।

২০২১ সালে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বাংলাদেশ

২০২১ সালে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে মোট ২৪টি ম্যাচ খেলেছে। যেখানে জিতেছে মাত্র ৯টি ম্যাচে। বাকি ১৫টি ম্যাচেই হেরেছে বাংলাদেশ। চলতি বছর প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। সেখানে সফরে গিয়ে তিন ম্যাচ সিরিজের সবকটিতেই হেরেছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বাহিনী।

এরপরের দুই সিরিজ অবশ্য জিতেছে বাংলাদেশই। ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে ৪-১ ব্যবধানে। এর কয়েকদিন পরেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জিতেছে ৩-২ ব্যবধানে। এরপর ছিল টাইগারদের বিশ্বকাপ মিশন। সেখানে প্রথমপর্বে দুটি ম্যাচ জেতার পর হেরেছে সবকটিতেই। আর বিশ্বকাপের পর পাকিস্তানের কাছে ঘরের মাঠে হেরেছে তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মিশন

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ও ওমানে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দুই দলকে সিরিজ হারিয়ে ভালো কিছু করার আত্মবিশ্বাস পায় রাসেল ডোমিঙ্গোর শিষ্যরা। কিন্তু বিশ্বকাপে নিউজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৬ রানে হারলে মূলপর্বে উঠা নিয়েই ঝামেলার সৃষ্টি হয়। পরে অবশ্য স্বাগতিক ওমান এবং পাপুয়া নিউগিনিকে হারিয়ে কোনোমতো সুপার টুয়েলভে জায়গা করে নেয় টাইগাররা। সুপার টুয়েলভে অবশ্য কারও কাছে পাত্তাই পায়নি মাহমুদউল্লাহ। পাঁচ ম্যাচের সবকটিতে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ে।

আইসিসির মাস সেরা ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম

মে মাসে ব্যাট হাতে অনবদ্য মুশফিকুর রহিম। এর স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে আইসিসির মাসসেরা পুরস্কার ওঠে তার হাতে। লঙ্কানদের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ৭৯ গড়ে ২৩৭ রান করেন মুশফিক। পরে পাকিস্তানের হাসান আলি ও শ্রীলঙ্কার প্রবীণ জয়াবিক্রমাকে হারিয়ে সাবেক ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার ও সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক এবং ভক্তদের ভোটে মে মাসের সেরা নির্বাচিত হন তিনি।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের টেস্ট থেকে অবসর

প্রায় দেড় বছর পর জিম্বাবুয়ে সফরের একমাত্র টেস্ট দলে ডাক পান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ১৬ মাস পর টেস্ট দলে ফিরেই মাহমুদউল্লাহর বাজিমাত। দলকে খাদের কিনারা থেকে উদ্ধার করে ১৫০ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন। কিন্তু জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটাই ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ হয়ে রইল। হঠাৎ অবসরের গুঞ্জন ওঠে। সতীর্থরা তাকে ম্যাচের শেষ দিনে গার্ড অব অনারও দেন। যদিও মাহমুদউল্লাহর সেই অবসর নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি।

সফরে অবশ্য বাজিমাত টাইগারদের। একমাত্র টেস্ট জয়ের পর ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ জিতেও নিজেদের দখলে। টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে সফর শেষ করে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

আইসিসির মাস সেরা ক্রিকেটার সাকিব

জিম্বাবুয়ে সফরে অপ্রতিরোধ্য সাকিব। অস্ট্রেলিয়ার মিচেল মার্শ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের হেইডেন ওয়ালশ জুনিয়রকে পেছনে ফেলে আইসিসির জুলাই মাসের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার হাতে তোলেন এই অলরাউন্ডার। সফরের একমাত্র টেস্টে ব্যাটিংয়ে সুবিধা করতে না পারলেও বল হাতে নেন ৫ উইকেট। প্রথম ওয়ানডেতে ৫ উইকেটসহ ৩ ম্যাচ সিরিজে ৮ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক হন সাকিব। এক ম্যাচে খেলেন অপরাজিত ৯৬ রানের দুর্দান্ত একটি ইনিংস।

প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ৩১ ডিসেম্বর  ২০২১ /এমএম


Array