Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক ::‌ সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর মধ্যে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব, স্ন্যাপচ্যাট, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদি।সবাই এসব মাধ্যমের সঙ্গে যেভাবে জড়িয়ে যাচ্ছে, তা সত্যিই চিন্তার বিষয়। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়াটা আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অনেকের মধ্যে।অনেক চেষ্টার পরও অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের এসব অভ্যাস ছাড়াতে পারছেন না। ফলে সন্তানদের অনেকেই নানা পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যায় ভুগছে।

শিশু-কিশোরদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের কুফল নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বেশ কিছু চিকিৎসক ও শিশু কল্যাণ বিশেষজ্ঞও। ব্রিটেনের একজন চিকিৎসক রঙ্গন চ্যাটার্জী বলেছেন, কিশোর-কিশোরীদের মানসিক সমস্যা এবং তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের মধ্যে যে একটা সম্পর্ক আছে, তার অনেক প্রমাণ তিনি পেয়েছেন। একদল মার্কিন শিশু কল্যাণ বিশেষজ্ঞ ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গের কাছে একটি চিঠি লিখেছেন। এতে তারা ‘মেসেঞ্জার কিডস’ নামে বাচ্চাদের মেসেজিং অ্যাপটি বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বান জানান।

তারা বলেন, ‘১৩ বছরের কম বয়সিদের এই প্ল্যাটফরমটি ব্যবহার করতে উৎসাহিত করাটা দায়িত্বজ্ঞানহীন।’ তারা তথ্যপ্রমাণ পেয়েছেন, সামাজিকমাধ্যমের কারণে কিশোর-কিশোরীদের মানসিকতায় অস্বাভাবিক সব পরিবর্তন হচ্ছে। ২০১৭ সালে ‘রয়াল সোসাইটি অব পাবলিক হেলথ’ ১১ থেকে ১৫ বছর বয়স্ক দেড় হাজার কিশোর-কিশোরীর ওপর একটি জরিপ চালায়।

এতে দেখা যায়, স্ন্যাপচ্যাট ও ইনস্টাগ্রাম তাদের মনে সবচেয়ে বেশি হীনমন্যতা ও দুশ্চিন্তা সৃষ্টি করে। ১০ জনের মধ্যে ৭ জন বলেছে, ইনস্টাগ্রামের কারণে তাদের নিজেদের দেহ নিয়ে মন খারাপ হয়েছে। ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সের তরুণ-তরুণীদের অর্ধেকই বলেছে, ফেসবুকের কারণে তাদের মানসিক দুশ্চিন্তা ও অশান্তি বেড়ে গেছে। দুই-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা বলেছে, ফেসবুকের কারণে সাইবার বুলিং বা অনলাইনে অপমান-হয়রানি করার প্রবণতা গুরুতর আকার নিয়েছে।

রঙ্গন চ্যাটার্জী একবার ১৬ বছরের একটি কিশোরকে রোগী হিসাবে পেয়েছিলেন, যে তার নিজের হাত-পা কাটার কারণে তাকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পাঠানো হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমি প্রথমে ভেবেছিলাম তাকে বিষণ্ণতারোধী ওষুধ দেব।

কিন্তু তার সঙ্গে কথা বলার পর মনে হলো, সামাজিকমাধ্যম ব্যবহার করায় তার স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।’ ড. চ্যাটার্জী ছেলেটিকে একটা সহজ সমাধান দিয়েছিলেন-তাকে সামাজিকমাধ্যম ব্যবহার করা কমিয়ে আনতে হবে অর্থাৎ রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক ঘণ্টার বেশি নয়। তবে কয়েক সপ্তাহ পর এ সময় বাড়ানো যেতে পারে।

ছয় মাস পর তার অবস্থা লক্ষণীয়ভাবে ভালো হতে শুরু করে। ড. চ্যাটার্জী ছেলেটির মায়ের কাছ থেকে চিঠি পেলেন, সে স্কুলে গিয়ে অনেক আনন্দ পাচ্ছে এবং স্থানীয় লোকজনের সঙ্গেও মিশছে। ড. চ্যাটার্জী বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এটি একটি বড় সমস্যা এবং এ ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম করা অবশ্যই প্রয়োজন।’

ব্রিটেনের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ লুই থিওডোসিও বলেছেন, ‘দু-তিন বছর আগেও তার সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্টের মাঝখানে কোনো শিশু তাদের ফোন ব্যবহার করছে বা টেক্সট করছে এমন ঘটনা ছিল অস্বাভাবিক। কিন্তু এখন এটা খুব সাধারণ ব্যাপার হয়ে গেছে। শিশুরা তাদের ফোন নিয়ে খুব বেশি সময় কাটাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে টিনএজাররা বিষণ্নতা, দুশ্চিন্তা বা অন্যান্য মানসিক সমস্যায় ভুগছে।

এসব শিশু-কিশোর এক কল্পনার জগতে বাস করছে। এতে তাদের শারীরিক স্বাস্থ্য খারাপ হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অভিভাবকদের জন্য পরিস্থিতি খুব কঠিন হয়ে গেছে। তিনি এমন অভিভাবকের কথাও শুনেছেন, যারা ওয়াইফাই রাউটার নিজেদের সঙ্গে নিয়ে ঘুমান, যাতে সন্তানরা মাঝরাতে উঠে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে না পারে। বিশেষজ্ঞরা তাই অভিভাবকদের পরামর্শ দিচ্ছেন সন্তানদের ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর নজর রাখতে এবং তা সীমিত করতে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব ব্যাপারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ।

প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ১৬ জুলাই ২০২১ /এমএম