Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক ::‌ দরজায় কড়া নাড়ছে মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদ সামনে রেখে প্রস্তুতি চলছে কোরবানির পশু বিক্রির। করোনার কঠিন সময়েও থেমে নেই এ প্রস্তুতি। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের মাঝে বিরাজ করছে উৎসাহ। কোরবানিকে ঘিরে প্রতিবছর দেশে প্রায় ৪০-৫০ লাখ গরু জবাই হয়ে থাকে। তবে অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, এ ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে একদল অসাধু ব্যবসায়ী দুর্নীতির আশ্রয় নেয়।

যে উৎসবে কোরবানি করা হবে মহান রবের সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে, সে উৎসবেও থেমে থাকে না দুর্নীতি। এজন্যই হয়তো বলা হয়, ‘চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনি।’ পেশাদার সৎ খামারিদের বিপরীতে অল্প সময়ে অসদুপায় অবলম্বন করে কোরবানির পশু মোটাতাজাকরণে মগ্ন থাকে একদল ব্যবসায়ী। তারা অধিক মুনাফা লাভের স্বার্থে স্টেরয়েড-জাতীয় ওষুধ খাইয়ে মোটাতাজা করে কোরবানির পশু।

বলা যায়, গরু মোটাতাজাকরণের অসুস্থ এক প্রতিযোগিতা চলছে দেশে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এসব স্টেরয়েড পশুর মাংসে রয়ে যায়। সেই মাংস খেলে মানব শরীরে নানারকম মারাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। যেমন- কিডনি বিকল, ক্যানসার, হার্ট ফেইলিওর, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকির পরিমাণ বহুগুণ বেশি। এছাড়াও কোমলমতি শিশুদের মস্তিষ্ক ও যৌনাঙ্গ গঠনে সমস্যা হয়।

কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজা করা গরু শনাক্তকরণে বিশেষজ্ঞরা কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। যেমন- এভাবে মোটা করা গরুর শরীরে আঙুল দিয়ে চাপ দিলে অনেক ডেবে যায় এবং তা স্বাভাবিক অবস্থায় আসতে সময় লাগে। কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজা করা গরু দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করে এবং একটু হাঁটলেই হাঁপিয়ে যায়। তখন খুবই ক্লান্ত দেখায়। এসব গরুর রানের মাংস স্বাভাবিক গরুর রানের মাংসের চেয়ে অনেক তুলতুলে থাকে। যেসব গরুর মুখে বেশি লালা বা ফেনা থাকে, সেসব গরু কৃত্রিম উপায়ে মোটা করা পশু হতে পারে। সুস্থ গরু একটু চটপটে থাকে। কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজা করা গরু শরীরে পানি জমার কারণে নড়াচড়া কম করে। বেশি চকচক করা গরু বা ছাগলের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি থাকে। গরুর শরীরে হাত দিয়ে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মনে হলে বুঝতে হবে গরুটি অসুস্থ বা কৃত্রিম উপায়ে স্বাস্থ্যবান করা হয়েছে।

এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে গরু ক্রয় করলে ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। আমরা সচেতন হলে এবং সতর্কতার সঙ্গে গরু ক্রয় করলে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুবিধা করতে পারবে না। ফলে অসদুপায় অবলম্বন করা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করবে তারা। আমাদের একটু সচেতনতাই পারে সারা দেশের অসাধু ব্যবসায়ী বা খামারিদের দমিয়ে দিতে।

লেখক : শিক্ষার্থী, দারুন্নাজাত সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা, ঢাকা

প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ১৩ জুলাই ২০২১ /এমএম