Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক ::‌  রাজশাহী অঞ্চলের কৃষকরা যখন আমের বাজারজাতকরণ নিয়ে চিন্তিত, ঠিক তখনই চালু হলো ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন। লকডাউন অবস্থায় করোনা পরিস্থিতিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে চালু হয়েছে এই বিশেষ ট্রেন।

গত ২৭ মে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি এ ট্রেনটির উদ্বোধন করেন। এর মাধ্যমে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম চাষিরা সহজেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় আম সরবরাহ করতে পারবেন। নামমাত্র খরচে ঢাকায় আম পৌঁছাতে পেরে আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা আনন্দিত।

এ বছর তেমন ঝড় না থাকায় আমের কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার তীব্র খরায় ৩০ শতাংশ আমের গুটি ঝরে যায়। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় ৩৪ হাজার হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে।

এ বছর আম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পৌনে তিন লাখ মেট্রিক টন। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আম সংগ্রহ করতে পারলে এবার আয় হবে দেড় হাজার কোটি টাকা। এছাড়াও এবার রাজশাহী ও নওগাঁয় আমের ফলন ভালো হয়েছে। ফলে দেশে পুরোপুরি আমের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।

রাজশাহী অঞ্চলের আম যেন সারা দেশে ছড়িয়ে যেতে পারে সে উদ্দেশ্যেই ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেনের যাত্রা। যেখানে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে কেজিপ্রতি ১২ থেকে ১৫ টাকা খরচ হয়, সেখানে ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেনের মাধ্যমে কেজিপ্রতি মাত্র ১ টাকা ৩০ পয়সায় সহজেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকায় পরিবহণ করা যাবে আম।

ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেনটি প্রতিদিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বিকাল ৪টায় ছেড়ে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছবে ৫টা ২০ মিনিটে। সেখানে ৩০ মিনিট বিরতির পর ৫টা ৫০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবে। রাজশাহী অঞ্চলের ১০টি এলাকা থেকে ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেনের মাধ্যমে কৃষকরা আম ছাড়াও অন্যান্য কৃষিজাত পণ্য পাঠাতে পারবেন।

করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাধারণ মানুষের চেয়ে আম পরিবহণে বেশি দুশ্চিন্তায় পড়েন জেলার ৩০ হাজার বাগান মালিক, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা। দেশের সঙ্গে সড়ক ও রেলপথে চাঁপাইনবাবগঞ্জকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। সর্বত্র ‘লকডাউন’ কার্যকর থাকলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলছে ‘বিশেষ লকডাউন’।

ফলে সব ধরনের পরিবহণ বন্ধ রয়েছে। এতে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা চাঁপাইনবাবগঞ্জে সহজে আসতে পারছেন না। তারপরও অনেক ব্যবসায়ী বিভিন্ন মাধ্যমে আমের চাহিদা পাঠাচ্ছেন। এমন সময় ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেনের উদ্বোধন সত্যি আম চাষি ও ব্যবসায়ীদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কঠোর লকডাউনের মধ্যে থাকলেও আম সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ এর আওতামুক্ত। তবে ট্রেনের পরিবহণ ক্ষমতা বা ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি করলে রাজশাহী অঞ্চলের আম চাষিরা খুব সহজেই সারা দেশে বাগানের তাজা আম উপহার দিতে পারবেন।

যেহেতু চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রধান অর্থকরি ফল আম, তাই এখানে অতিরিক্ত বিশেষ ট্রেন কিংবা অন্য পরিবহণ মাধ্যম সরকারিভাবে চালু করা প্রয়োজন। আম পরিবহণ যেন চাঁদাবাজমুক্ত হয়, সেই ব্যবস্থাও করতে হবে সরকারকে।গত বছরের মতো এবারও সরকারিভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন চালুর বিষয়টি সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

এজন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ নিশ্চয়ই কৃতজ্ঞ। ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেনের মাধ্যমে শুধু ঢাকা-টাঙ্গাইল নয়, আম যেন সারা দেশেই ছড়িয়ে যায় সে প্রত্যাশা সমগ্র দেশবাসীর।কীভাবে আরও সহজে সারা দেশের চাহিদা মিটিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সুমিষ্ট আম পৃথিবীর অন্যান্য দেশে রপ্তানি করা যায়, তাও ভাবার সময় হয়েছে এখন।

প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ০৬ জুন ২০২১ /এমএম