Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: শীতের বাতাসে চলে এসেছে নতুন ঋতুর ঘ্রাণ। গাছের ডালে ডালে উঁকি দিচ্ছে সবুজ কচি পাতা। ভোরের আলোর সঙ্গে বিদায় নিচ্ছে কুয়াশা আর আড়মোড়া ভেঙে গাছে গাছে সেজে উঠছে রঙিন ফুলের মেলা। ঋতুরাজ বসন্ত এসেই যেন প্রকৃতিকে গুছিয়ে নিয়েছে নিজের মতো করে।

তাই বুঝি বসন্তের আগমনে সুরে সুরে ভেসে আসে ‘আকাশে বহিছে প্রেম, নয়নে লাগিল নেশা। কারা যে ডাকিল পিছে! বসন্ত এসে গেছে’। আসলেই প্রকৃতিতে বসন্তের আগমনে প্রাণে জাগে নতুনের ছোঁয়া। চারপাশে পাখির কলকাকলি আর রক্তিম কৃষ্ণচূড়া সবুজের মাঝে সৃষ্টি করে এক অপরূপ সৌন্দর্য।

তাই প্রকৃতি প্রেমী মানুষটিও নিজেকে কোনোভাবেই দূরে রাখতে পারে না। সাজিয়ে নেয় নিজেকে বসন্তের সাজে। ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে নিজেকে সাজাতে তাই চলে নানা প্রস্তুতি। শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, চুড়ি, খোঁপার ফুল থেকে শুরু করে হাত ভর্তি চুড়িতে নারী নিজেকে সাজিয়ে তোলে বসন্তের সাজে। তবে বসন্ত মানেই কিন্তু শীতের বিদায়। তাই গরমের শুরুতে বসন্তের পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে রাখতে হয় বিশেষ নজরদারি। এ ক্ষেত্রে সুতি কিংবা কটন কাপড়ের পোশাক বেশ আরামদায়ক।

গরমের ঘাম যেমন এ ধরনের কাপড় খুব সহজেই শুষে নেয় তেমনি আপনাকেও রাখে বেশ ফুরফুরে। তবে রোদের আঁচ যেহেতু বেশি তাই কালো রং বেছে না নেওয়াই ভালো। আর বসন্ত মানেই যেহেতু রঙের ছটা তাই পোশাকের ক্ষেত্রেও এর দিকে নজর রাখতে হবে। বসন্তের আগমনে তাই হলুদ, কমলা, লাল, বেগুনি, বাসন্তী রঙের ক্যানভাসে নিজেকে সাজিয়ে তুলতে পারেন।

এ ক্ষেত্রে অনেকেই হলুদ আর কমলা রঙের প্রাধান্য দিয়ে থাকে। এক রঙা শাড়িতেও বাঙালি নারী নিজেকে অপরূপা করে তোলে। শাড়ির ক্ষেত্রেও আছে ভিন্নতা। এক সময় রঙের দিকটাই ছিল ভাবনার বিষয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যুক্ত কয়েছে কারুকাজ। বসন্তের শাড়ি মানেই এখন আর বাসন্তী, হলুদ কিংবা কমলা নয়।

নানা রঙের সঙ্গে হাতের কাজ কিংবা শাড়িতে লেখা বসন্তকে ঘিরে নানা কবিতা দৃষ্টি কাড়ে এখন। শাড়ির সঙ্গে সঙ্গে অন্য একটি বিষয়েও দেখা যায় পরিবর্তনের ছোঁয়া। শাড়ির সঙ্গে রঙের মিল রেখে ব্লাউজের বাছাই চলে দীর্ঘ সময়জুড়ে। ব্লাউজের ডিজাইনেও এসেছে সংযোজন। ঘটি হাতা, চোলি কাট, কোলি কাট, ফুল হাতা, ম্যাগি হাতা, হাতা কাটা থেকে শুরু করে হাতের কাজের কারুকাজ চোখে পড়ে এসব ব্লাউজে।

এর পাশাপাশি এক রঙা কাচের চুড়ি আর সঙ্গে ফুলের সমাহার সাজে নারীকে এই বসন্তে সাজিয়ে তোলে নতুনভাবে। সালোয়ার-কামিজের ক্ষেত্রেও রঙের পাশাপাশি ডিজাইনের নানা দিক লক্ষ করা যায়। হাতার কাজেও এসেছে পরিবর্তন। শাড়ি আর সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে মানিয়ে কেউ বেছে নিচ্ছেন স্লিপার আবার কেউ হিল আর তাতে রঙের আঁকিবুঁকির ভিন্নতার ছোঁয়া নিয়ে।

মেয়েদের পাশাপাশি বসন্তের সাজে পিছিয়ে নেই ছেলেরা। ঋতুরাজ বসন্তের আগমে নিজেকে সাজিয়ে নিচ্ছেন পাঞ্জাবির সঙ্গে। রঙের ক্ষেত্রেও করছেন না কার্পণ্য। এক রঙা পাঞ্জাবির সঙ্গে তাই দেখা মিলছে চেক, বাটিক কিংবা হাতের কাজের বাহারি ডিজাইন আর নানা রঙের পাঞ্জাবির পসরা। এসব পাঞ্জাবিকে আরেকটু আকর্ষণীয় করে তুলতে বোতামের ক্ষেত্রেও নানা ডিজাইন রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে পাঞ্জাবির সঙ্গে মিলিয়ে বেছে নিচ্ছেন চুড়িদার পায়জামা কিংবা ধুতি পায়জামা।

এসব পায়জামার কাপড়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো কটন কিংবা সুতি কাপড়। এতে পায়জামাগুলো দীর্ঘসময় যেমন আরামে পরা যায় তেমনি গরমেও আরাম মেলে। পায়জামা-পাঞ্জাবির সঙ্গে মিলিয়ে বেছে নিতে হয় জুতা জোড়া। আর এভাবেই বসন্তের আগমনে নিজেকে সাজিয়ে তুলতে নতুনের আগমনে ভাগাভাগি করে নিতে হয় আনন্দ আর ভুলিয়ে দিতে হয় পুরোনো সব গ্লানি।

প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১ /এমএম