প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: এতদিন মা-বাবারা খানিকটা দুশ্চিন্তামুক্ত থাকলেও সাম্প্রতিক হিসাব বলছে, সময় হয়েছে আরো সাবধানতার। ঢাকা শিশু হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ৩৯৫ জন শিশু করোনায় শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষা হয়েছিল তিন হাজার ২০০ জনের। বহির্বিভাগে গত শুক্রবার পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছিল ৮৩৩ শিশুর। শনাক্ত হয়েছে ১৭০ জন।
শুক্রবার এক দিনে পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে ১০ শিশুর। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে শিশু হাসপাতালের করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯)-এর আক্রান্ত রোগী ছিল ১০। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সেটা হয়েছে ১৬। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ছিল পাঁচ আর নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ২৩ জন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু করোনা ইউনিটে এখন রোগী আছে ২৩ জন। একমাস আগেও ছিল ১২-১৩ জন।
ঢাকা শিশু হাসপাতাল সূত্রে আরো জানা যায়, এ হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া শিশুর সংখ্যা ১৪ জন। এই ১৪ জনের ভেতর চারজন করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। বাকিরা অন্যান্য যে সব শারীরিক সমস্যা নিয়ে এসেছিল সেসব রোগে মারা গেছে। তবে তারা করোনাতেও আক্রান্ত ছিল।
ঢাকা শিশু হাসপাতালের রোগতত্ত্ববিদ ডা. কিংকর ঘোষ বলেন, ‘এটা এখনই বলা যাচ্ছে না যে এসব শিশু শুধু করোনাতেই মারা গেছে। কিন্তু যেহেতু করোনা আক্রান্ত ছিল তাই এই তালিকাতেই রাখতে হবে। আবার যখন শিশু হাসপাতালে করোনার চিকিৎসা শুরু হয়নি, কিন্তু করোনার উপসর্গ নিয়ে রোগী এসেছিল, তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। তখন কিন্তু এমন অনেক শিশু রোগীর ফলোআপ আমরা পেয়েছি। তাদের পরিবারগুলো হাসপাতালে না নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। এমন ৬টি শিশু পরে বাসায় মারা গেছে।’
গত ১৩ জুলাই শিশু হাসপাতালে কোভিড ওয়ার্ড চালু হয়। এখন পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়েছে ১০৬টি শিশু। বেশিরভাগেরই বয়স পাঁচ বছরের নিচে।সম্প্রতি চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিএইচআরএফ) ও শিশু হাসপাতাল যৌথ উদ্যোগে এক গবেষণা করে ২৮ দিনের কম বয়সী শিশুদের নিয়ে। মার্চের শুরু থেকে ৮৪টি শিশুকে নিয়ে করা এ গবেষণায় দেখা যায় ২৬ জন শিশুর করোনা শনাক্ত হয়। এর মধ্যে মারা গেছে ৮ জন। এই ৮ জনের ভেতর ৪ জনই অপুষ্টিতে ভুগছিল।
শিশুরা কেন এত আক্রান্ত হচ্ছে জানতে চাইলে ডা. কিংকর ঘোষ বলেন, ‘পাঁচ বছরের কম বয়সীরা কিন্তু সাধারণত বাড়ির বাইরে যায় না, বেশিরভাগ আক্রান্ত হচ্ছে পরিবারের অন্য সদস্যদের মাধ্যমে। যদিও শিশুদের মৃত্যুহার খুব কম, সুস্থও হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু তাদের মাধ্যমে আবার বাড়ির বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছেন।’
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সাঈদা আনোয়ার জানালেন, ‘১০ মে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শিশু ইউনিট ১৪ বেড দিয়ে শুরু করলেও এখন সেখানে বেড রয়েছে ৪২টি। এই ইউনিটে ৫-১২ বছরের বয়সী শিশুর সংখ্যাই বেশি। তিন থেকে চার দিনের নবজাতকদেরও এখানে ভর্তি করা হয়েছে।’
কোভিড আক্রান্ত মায়ের সংর্স্পশে থাকার কারণেই নবজাতকরা আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানান তিনি। এখন পর্যন্ত এই ইউনিটে ভর্তি হয়েছে দেড় হাজারের বেশি শিশু। তবে এর মধ্যে মৃত্যুহার শতকরা দুই দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)-এর উপদেষ্টা ও মহামারী বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, যেকোনো বয়সের মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের মাধ্যমে তারা আক্রান্ত হচ্ছে কিনা সেটাই মূল কথা।
প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ২২ নভেম্বের ২০২০/এমএম





