Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: করোনাকালে বিশ্ব জুড়ে দীর্ঘদিন ধরে ভার্চুয়াল তথা অনলাইন ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। কিন্তু এল সালভাদরের গুয়াতেমালা সীমান্তবর্তী এলাকায় মোবাইল ফোনের সিগন্যাল পাওয়া খুব দুরূহ। তাই মোবাইলের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে অনলাইনে ক্লাস করতে সমস্যায় পড়েছেন ওই অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা।

কিন্তু থেমে নেই সেখানের মাতিলদে ও মারলিনে পিমেনতেল নামের দুই বোন। মধ্য আমেরিকার দেশ এল সালভাদরের ওই দুই তরুণী অনলাইন ক্লাসে যোগ দিতে প্রতিদিন পাহাড় বেয়ে গাছে চড়ছেন।

মাতিলদে ও মারলিনের বাড়ি এমন প্রত্যন্ত এলাকায় যেখানে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্কের সিগনাল পাওয়া যায় না বললেই চলে। ফলে নেটওয়ার্ক পেতে দূর পাহাড়ের উঁচু অলিভ গাছে ছড়ার কোনো বিকল্প নেই এই দুই কলেজ শিক্ষার্থীর।

২২ বছর বয়সী মাতিলদে বলেন, “আমরা যারা গ্রামে বাস করি, বেশির ভাগেরই পড়াশোনা করাটা কঠিন। এখানে কোনো ইন্টারনেট সংযোগ নেই।”

মাতিলদের ১৭ বছর বয়সী বোন মারলিনে বলেন, “এখানে সামান্য নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়। কিন্তু মাঝে মাঝে তাও পাওয়া যায় না।”

মাতিলদে গণিতের শিক্ষার্থী। মারলিনে পরিসংখ্যানের। উভয়ই পড়েন ইউনিভার্সিটি অব এল সালভাদররে। পরিবারের দশ সন্তানদের মধ্যে মাতিলতে সপ্তম ও মারলিনে অষ্টম। তারা দুজনই এত বড় পরিবারের মধ্যে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী।

পড়াশোনার বাইরে, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এই বোনেরা রুটি বিক্রি করে তাদের বাবাকে সাহায্য করেন। তার বাবা পেশায় কৃষক।

অনলাইনে ক্লাসে যোগ দিতে তাদের মর্মস্পর্শী চেষ্টার বিষয়টি প্রথম নজরে আসে পুলিশ অফিসার কাস্ত্রো রুইজের মাধ্যমে। ক্লাস করতে মাতিলদে ও মারলিনে প্রতিদিন যে এল টিগ্রে পাহাড়ে চড়েন সেখানেই টহল দিচ্ছিলেন তিনি।

একটি তরুণীকে অলিভ গাছে চড়তে দেখে বিস্মিত হয়ে গিয়েছিলেন বলে জানালেন রুইজ। এএফপিকে তিনি বলেন, “আমার প্রথম অভিব্যক্তি ছিল যে, তার মনে হয় কিছু একটা হয়েছে। আমি যখন তাকে জিজ্ঞেস করলাম, কী হয়েছে সে উত্তর দিল- ‘আমি কেবল পড়াশোনা করতে চাই’।”

দুই বোনের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহের বিষয়টি দেখে মনে দাগ কাটে পুলিশ অফিসারের। এই দৃশ্যের একটি ছবি তোলে ফেসবুকে শেয়ার করার পর তা ভাইরাল হয়ে পড়ে।

এদিকে, দেশটির রাজধানী সান সালভাদর থেকে ২০ কিলোমিটার পশ্চিমের এলাকা- ওজো দে আগুয়ার অধিবাসী, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী এরিক পালাসিয়াসকেও মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট সংযোগ পেতে পাথরে আকীর্ণ এক পর্বতের চূড়ায় উঠতে হয়।

‘এখানে আসি, কারণ, খেয়াল করেছি, এখানে এলে একটু পরিষ্কার সিগন্যাল পাওয়া যায়,’ বলছিলেন বেসরকারি হোসে মাতিয়াস দেলগাদো বিশ্ববিদ্যালয়ে কমিউনিকেশনস বিভাগে পড়ুয়া ২০ বছর বয়সী পালাসিয়াস।

তিনটা ইটের ওপর বসে, মাথার ওপর ছাতা মেলে ধরে অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে হয় তাকে। তাতেও স্বস্তি নেই; কেননা, মশার মারাত্মক উৎপাত।

তিনি ঠিক করেছেন ওই অঞ্চলের অন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে স্বাক্ষর সংগ্রহ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদনপত্র পাঠাবেন, যেন ওখানে ইন্টারনেট সেবা চালু করা হয়।

এল সালভাদরকে লম্বালম্বিভাবে প্রায় দুই ভাগ করে দিয়েছে অসংখ্য আগ্নেয়গিরি; আর এ কারণে মোবাইল ফোনের সিগন্যাল পেতে বিঘ্ন ঘটে।

উল্লেখ্য, ইন্টারনেট ওয়ার্ল্ড স্ট্যাটাসের তথ্যমতে, দেশটির ৬৬ লাখ অধিবাসীর মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী প্রায় ৬০ শতাংশ।

এদিকে, বুধবার ইউনিসেফ প্রকাশিত এক তথ্যসূত্রে জানা যায়, করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারিতে সারা পৃথিবীতে ৪৬ কোটি ৩০ লাখ শিশু অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে অক্ষম।

প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ৩১ আগস্ট ২০২০/এমএম


Array