বাংলানিউজসিএ ডেস্ক :: বঙ্গবন্ধু জন্মেছিলেন বাঙালির মুক্তির তাগিদেই। এসেছিলেন মানবমুক্তির কেতন উড়িয়ে। সারা জীবন আন্দোলন সংগ্রাম জেল-জুলুম সহ্য করেছেন। মুক্তির জন্য লড়াই করেছেন। বাঙালির জন্য এনে দিয়েছেন মহান স্বাধীনতা। স্বাধীনতার পর যুদ্ধ-বিধ্বস্ত একটি দেশকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন আলোর নিশানা দেখিয়ে। ঠিক তখনই আগস্ট নামে অন্ধকার নেমে আসে বাঙালির জীবনে। ১৯৭৫ সালের আগস্টের কালরাতে একদল বিপথগামী সেনাকর্মকর্তা নির্মমভাবে হত্যা করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবারের সদস্যদের। দেশের বাইরে থাকায় সে সময় তার দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বেঁচে যান। সেই শোকাবহ আগস্টের সপ্তম দিন আজ।
লেখক-সাংবাদিক জাফর ওয়াজেদ তার এক লেখায় লিখেছেন- ‘১৯৭৫ সালের ৭ আগস্ট ছিল বৃহস্পতিবার। এদিন সকাল সাড়ে ৯টায় সুইজারল্যান্ডের নয়া রাষ্ট্রদূত পরিচয়পত্র পেশ করেন বঙ্গবন্ধুর কাছে। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে ‘প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ডে’ রূপান্তর করার যে স্বপ্ন দেখেন, তা তার কাছে ব্যক্ত করেন। পরদিন সংবাদপত্রে তা ছাপাও হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী নুরুল ইসলাম চৌধুরী, ১১টায় বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী দেওয়ান ফরিদ গাজী সাক্ষাৎ করেন।
এরা দু’জনে পরে মোশতাকের মন্ত্রী হন। বেলা ১২টায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন বিদেশ সফরের প্রাক্কালে সাক্ষাৎ করেন, যা ছিল শেষ সাক্ষাৎ। এই দিন বিকেল সাড়ে ৫টায় ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার সমর সেন সাক্ষাৎ করেন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে। এই সাক্ষাৎকালে মিস্টার সেন সতর্ক করেছিলেন বঙ্গবন্ধুকে নানা ষড়যন্ত্র সম্পর্কে। প্রতিক্রিয়াশীল চক্র মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলে তাদের কাছে তথ্য ছিল।’
কিন্তু বঙ্গবন্ধু কারো কথা শোনেননি। যে বাঙালির জন্য তিনি সারা জীবন সংগ্রাম করেছেন। পাকিস্তানি হায়েনাদের হাতে বন্দি থাকার সময়ও যিনি বলেছেন- আমার লাশটা আমার বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছে দিও। যে বাঙালিকে তিনি নিজের জীবনের চেয়ে বেশি ভালোবাসতেন। সেই বাঙালি তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে! তাকে হত্যা করতে পারে; এমনটা কখনো বিশ্বাস করতে পারতেন না বঙ্গবন্ধু। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকের বুলেট নিভিয়ে দিয়েছে ‘স্বাধীনতার সূর্য’ বঙ্গবন্ধু নামে প্রদীপ।
এখনো সূর্য ওঠে রোজ রোজ। নতুনের কেতন উড়িয়ে মানুষ স্বপ্নজয়ের প্রত্যয়ে এগিয়েও চলে নিত্যদিন। তবুও সে স্বপ্নে অপূর্ণতা রয়ে যায়। সে অপূর্ণতা যেন শুধ্ইু স্বাধীনতার প্রাণপুরুষ বঙ্গবন্ধুকে হারানোর। বঙ্গবন্ধু একটা কথা বারবার বলেছেন, সোনার বাংলা গড়তে হলে সোনার মানুষ চাই। আমরা যদি সোনার মানুষ না হই, আমরা যদি জনগণের আস্থাভাজন সেবক না হই, আমরা যদি জনগণের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা অর্জন করতে না পারি তাহলে ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তদান ব্যর্থ হয়ে যাবে। আমাদের স্বাধীনতা ব্যর্থ হয়ে যাবে।
বাংলানিউজসিএ/ঢাকা/ ০৭ আগস্ট ২০২০/ এমএম





