বাংলানিউজসিএ ডেস্ক :: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারিভাবে সর্বস্তরে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হলেও কোনো প্রভাব পড়েনি রাজধানীতে। সবকিছু চলছে আগের মতোই। মাস্ক ছাড়া ঘোরাফেরা ও দৈনন্দিন কাজ করছেন অনেকেই। বরং দিন দিন স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে উদাসীন হয়ে পড়ছেন বেশিরভাগ মানুষ। ফলে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি যেমন বাড়ছে, ঠিক তেমনি বাড়ছে সংক্রমণ ঝুঁকিও।
তবে মাস্ক না পরলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দেয়া হলেও জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে নেই কোনো শাস্তির বিধান। তাই শাস্তির কথা নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারির পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। তারা বলছেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মাস্ক ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। তাই যেভাবেই হোক সবার মাস্ক পরা নিশ্চিত করেত হবে।
এদিকে গত মঙ্গলবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সবার মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করে পরিপত্র জারি এবং তা বাস্তবায়নে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেয়া হলেও অনেকেই বলছেন নির্দেশনা সম্পর্কে তারা জানেন না। জানলেও অনেকে মানছেন না। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিশ্লেষকরা বলেন, মাস্ক নিয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা দরকার। এতেও পরিস্থিতির উন্নতি না হলে প্রশাসনের উচিত জেল-জরিমানা করা। তাহলে মানুষ ভয়ে নিয়মিত মাস্ক ফরে চলাফেরা করবে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল মানবকণ্ঠকে বলেন, মাস্ক পরা কিন্তু আমাদের জন্য সাংঘাতিক জরুরী। সবাই যদি মাস্ক পরে তাহলে কিন্তু ৯৯ ভাগ নিরাপদ থাকতে পারব। মনে করেন, আমি করোনায় আক্রান্ত কিন্তু আপনি আক্রান্ত নন। এখন আমি যদি মাস্ক পরি তাহলে আপনি ৭০ ভাগ নিরাপদ। আর আমি যদি মাস্ক না পরি, কিন্তু আপনি পরেছেন তাহলে আপনি ২৫ ভাগ নিরাপদ। আর আমরা যদি দুইজনই মাস্ক পরি তাহলে আপনি ৯৫-৯৭ ভাগ নিরাপদ। যাদের জরুরী প্রয়োজনে বাইরে বের হতে হচ্ছে, আসলে আমরা অনেকেই জানি না কে করোনায় আক্রান্ত। তাই আমাদের সকলকেই মাস্ক পরতে হবে। তাহলে আমরা সবাই নিরাপদ থাকতে পারব।
সরেজমিনে গতকাল রাজধানীর শাহবাগ, গ্রীন রোড, কাঁঠালবাগান, হাতিঝিল, গুলশান, বাড্ডা, ৩শ ফিটসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মাস্ক ছাড়া দেদারসে ঘুরছেন অনেকেই। কারো কারো মাস্ক থুতনিতে আটকানো। কেউ আবার নাকের নিচে মাস্ক নামিয়ে রেখে ঘোরাফেরা করছেন। কেউ কেউ আবার মাস্ক খুলে ধূমপান করতে করতে রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন। অধিকাংশ রিকশাচালক থেকে শুরু করে শপিংমলের বিক্রেতারাও মাস্ক না পরেই কাজ করছেন।
বিভিন্ন শপিংমল ও বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাস্কহীন ও শারীরিক দূরত্ববিধি লঙ্ঘন করেই চলছে বেচাকেনা। ক্রেতাদের বেশিরভাগের থাকলেও বিক্রেতাদের অনেকের মুখেই মাস্ক নেই। মাস্কের কথা তুলতেই তারা গরমের অজুহাত দেন। মাস্ক না পরার কারণ জানতে চাইলে পান্থপথের ফুটপাতের চা দোকানী বেলাল বলেন, বেশিক্ষণ মুখে মাস্ক রাখলে তার শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। তাই গরমের কারণে মাস্ক খুলে রেখেছি।
জনস্বাস্থ্য অধিকার রক্ষা কমিটির আহŸায়ক মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘মহামারী নিয়ে গাফিলতির সুযোগ নেই। সরকারি নির্দেশনা না মানলে প্রয়োজনে জেল-জরিমানা দিতে হবে। কারণ মাস্ক পরলে করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচা সম্ভব, অন্যকেও বাঁচানো সম্ভব।’
মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আব্দুল মান্নান বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ঘরের বাইরে ও অফিস-আদালতে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করে মন্ত্রণালয় থেকে পরিপত্র জারি করা হয়েছে। মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ এ ব্যাপারে কঠোর ভ‚মিকা পালন করবে।
মাস্ক পরার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্য সচিব বলেন, আমার স্ত্রীকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলাম। সেখানে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে আমার স্ত্রী করোনায় আক্রান্ত হন। এরপর করোনায় তার মৃত্যু হয়। সেখানে ওই আত্মীয় (নারী) এবং আমার স্ত্রী মাস্ক ছাড়া ছিলেন। একে-অপরের সঙ্গে মাস্ক ছাড়া মিশেছেন। মূলত ওই আত্মীয়ের কাছ থেকে আমার স্ত্রী সংক্রমিত হন। আমার স্ত্রী মারা গেলেও ওই আত্মীয় এখন সুস্থ। এখন আমার কাছে বার বার মনে হয় মাস্ক পরিহিত থাকলে আমার স্ত্রীকে হারাতে হতো না। আমরা মানুষকে সচেতন করছি। কোনো অবস্থায়ই মাস্ক ছাড়া ঘরের বাইরে যাবেন না। মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে আরো কঠোর হবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বাংলানিউজসিএ/ঢাকা/ ২৬ জুলাই ২০২০/এমএম





