Menu

বাংলানিউজসিএ ডেস্ক :: প্রয়োজনে প্রতিবছর একাধিকবার বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম (ট্যারিফ ভ্যালু) পরিবর্তন অর্থাৎ কমাতে বা বাড়াতে পারবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এই বিধান রেখে ‘বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) আইন ২০১৯’-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্টি বিরাজ করছে সাধারণ মানুষের মাঝে। তারা মনে করছেন বছরে বারবার বিদ্যুতের দাম বাড়লে-বাড়ালে পরিবহন, পণ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে সব খাতে ব্যয় বাড়বে। এই বাড়তি ব্যয়ের প্রতিটি অর্থ আবার ব্যবসায়ীরা জনগণের কাছ থেকেই পণ্য ও সেবার দাম বাড়িয়ে আদায় করবেন। ফলে শেষ পর্যন্ত বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির মূল্য সাধারণ মানুষকেই দিতে হবে। ৮০ থেকে ৯০ ভাগ মানুষ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন আর লাভবান হবেন মাত্র ৫ থেকে ১০ ভাগ মানুষ।

বিদ্যুতের দাম বছরে বারবার বৃদ্ধির কোনো যৌক্তিতা নেই উল্লেখ করে সচেতন মহলের বেশ কয়েকজন বলেছেন, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়বে শিল্প খাতে। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে। দেশি পণ্যের দাম বেড়ে গেলে মানুষ বিদেশি পণ্যের দিকে ঝুঁকে পড়বে। ফলে অনেক শিল্পোদ্যোক্তা একসময় ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের ক্ষোভেরও সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছে সচেতন মহল। গ্রীন রোডের বাসিন্দা ফুটপাথের চা ব্যবসায়ী ফারুক মিয়া বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বার বার বাড়লে দেশের মানুষ বিপাকে পড়বে। বেড়ে যাবে আয়ের চেয়ে ব্যয়।

দিন দিন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ার ফলে নিম্ন আয়ের মানুষ পেটের দায়ে বিভিন্ন অপরাধেও জড়িয়ে পড়তে পারে। তাই সরকারকে বলব, জনসাধারণের স্বার্থটা আগে দেখুন, নিজেদের স্বার্থ নয়। ফার্মগেটের বেসরকারি ফার্মের কর্মচারী বেলাল মিয়া বলেন, বছরে বারবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি হলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব পড়বে। জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে আসবে। এমনিতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধিতে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে; অথচ সে হারে আয় বাড়েনি। বিশেষ করে নি¤œ ও মধ্যবিত্ত মানুষ খুবই কষ্টের মধ্যে আছেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বারবার বাড়লে উৎপাদন খরচ বাড়বে।

এতে বাজারে পণ্যের দাম বাড়বে। বাজার অস্থিতিশীল হবে। সীমিত আয়ের মানুষদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে। এগুলো থেকে কিভাবে মুক্ত হওয়া যায় সরকারকে সে ভাবনা ভাবতে হবে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সিস্টেম লস বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নিতে হবে। তাই সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বছরে বারবার জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি মানবকণ্ঠকে বলেন, আগের রেগুলেটরি কশিনের আইনে বছরে একবারের বেশি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা যেত না। এটা বর্তমান সরকারের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরকার তাদের ভুল নীতি, দুর্নীতি ও লুটপাটের উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়িয়ে চলছে। বিকল্প সাশ্রয়ি বিদ্যুৎ উৎদনের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তারা সে উদ্যোগ না দিয়ে বছরের একাধিকবার বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম (ট্যারিফ ভ্যালু) পরিবর্তনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে তারা ইচ্ছামতো বছরে বারবার বিদ্যুতের দাম বাড়াতে পারবে। তারা আইনিভাবে লুণ্ঠনের নীতিকে অনুমোদন করে নিল। এটা নিয়ে আমরা আন্দোলনে নামব।

গত সোমবার তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এসব অনুমোদন দেয়া হয়। মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং গ্যাস সম্পদ ও পেট্রোলিয়ামজাত পদার্থের সঞ্চালন, পরিবহন ও বাজারজাতকরণে বেসরকারি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি, এ খাতে ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা, ট্যারিফ নির্ধারণে স্বচ্ছতা আনয়ন, ভোক্তার স্বার্থ সংরক্ষণ ও প্রতিযোগিতামূলক বাজার সৃষ্টিতে কাজ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, আগের আইনটি ছিল ২০০৩ সালের। তাতে একটা প্রভিশন ছিল, কমিশনের নির্ধারিত ট্যারিফ কোনো অর্থবছরে একবারের বেশি পরিবর্তন করা যাবে না, যদি না জ্বালানি মূল্যের পরিবর্তনসহ অন্য কোনোরূপ পরিবর্তন ঘটে। তিনি বলেন, সংশোধিত আইনে এটাকে পরিবর্তন করা হয়েছে। ফলে কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত ট্যারিফ কোনো অর্থবছরে কমিশনের একক বা পৃথক পৃথক আদেশ দ্বারা, প্রয়োজন অনুসারে এক বা একাধিকবার পরিবর্তন করতে পারবে। সংশোধিত আইনে শুধু এটুকুই পরিবর্তন আনা হয়েছে। অন্যান্য যেসব বিধান ছিল তা আগের মতোই আছে।

এই পরিবর্তন আনার ব্যাখ্যা জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ওনারা (বিইআরসি) দেখছে অনেক সময়ই (বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম) পরিবর্তন করা প্রয়োজন হতে পারে। রিজিট না থেকে অপশন রইল, সে জন্যই। প্রয়োজনে ট্যারিফ চেঞ্জ (পরিবর্তন) করা লাগতে পারে। কিন্তু আগের আইনে রিজিট (অনমনীয়) ছিল, এখন বিষয়টি ফ্লেক্সিবল (নমনীয়) করা হলো। এর মানে এই আইন হলে বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডিজেল, পেট্রোলসহ জ্বালানির দাম বছরে একাধিকবার বাড়াতে পারবে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এক বা একাধিকবার পরিবর্তন করতে পারবে। বাড়াতে পারবে আবার কমাতেও পারবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বাংলানিউজসিএ/ঢাকা/ ০৩ জানুয়ারি ২০২০ /এমএম


Array