Menu

বাংলানিউজসিএ ডেস্ক :: ‘বীর নারী’ খেতাবপ্রাপ্ত ১৯৭১ সালে পাকিস্তান বাহিনীর হাতে নির্যাতিতা নিপীড়িতা বীরাঙ্গণা আফিয়া খাতুন চৌধুরী ওরফে খঞ্জনী বেগম আর নেই।সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ৯টায় কুমিল্লা নগরীর বাগিচাগাঁওস্থ বড় মসজিদ বস্তিতে এক মাত্র মেয়ে রোকসানার বাসায় তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাহে রাজেউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি এক মেয়ে, জামাতা ও নাতি-নাতনীসহ আত্মীয় স্বজন রেখে গেছেন।

খঞ্জনী বেগমের মেয়ে রোকসানা বেগম মায়ের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছেন।এই বীর নারী ১৯৩৯ সালে ফেনী জেলার বরইয়া চৌধুরী বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা হাসমত আলী চৌধুরী ও মাতা মাছুদা খাতুন। ১৯৬৩ সালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথ দিঘি ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের রুহুল আমিন মানিক ওরফে হেকমত আলীর সাথে তাঁর বিবাহ হয়। ১৯৬৬ সালে স্বামী হেকমত আলী চট্রগ্রামের বৈদ্যুতিক শাখায় কর্মরত অবস্থায় মারা যান। তাদের সংসারে এক মেয়ে ও এক ছেলে ছিল।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক সাংবাদিক শাহাজাদা এমরান খঞ্জনী বেগমের বীরত্বের কথা বলতে গিয়ে জানান, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় খঞ্জনী বেগমের স্বামীর বাড়ি সংলগ্ন জগন্নাথ দিঘিতে ছিল হানাদার বাহিনীর ক্যাম্প। এই ক্যাম্প থেকে প্রায়ই সোনাপুর ও আশেপাশের গ্রামের বিবাহযোগ্য মেয়েদের ক্যাম্পে ধরে এনে নির্যাতন করা হতো। খঞ্জনী বেগম ছিলেন খুবই সুন্দরী।

ক্যাম্পের হাবিলদার একদিন খঞ্জনী বেগমকে দেখে স্থানীয় রাজাকারদের জানায়, এই বিধবা মেয়েকে যদি আমার হাতে তুলে দেওয়া হয় তাহলে এই গ্রামের আর কোন নারীকে ধরে নিয়ে যাওয়া হবে না। তখন গ্রামবাসী তাদের স্বার্থে জোর করে খঞ্জনী বেগমকে ধরে ক্যাম্পে নিয়ে হাবিলদারের হাতে তুলে দেয়। তখন ছিল জুন মাস। ৮ ডিসেম্বর কুমিল্লা মুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত খঞ্জনী বেগমকে এই হানাদার বাহিনীর ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়েছিল। খঞ্জনী বেগম দীর্ঘ সাত মাস ক্যাম্পে অবস্থান করেও হানাদার বাহিনীর সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে এলাকার গরীব মানুষদের নানারকম খাবার সরবরাহ করতেন।

কিন্ত ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ! দেশ স্বাধীন হওয়ার পর খঞ্জনী বেগমকে এলাকার লোক আর গ্রামে জায়গা দেয়নি। নষ্ট মহিলা বলে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে তাকে। পরে নানা স্থানে ঘুরে ঘুরে এক পর্যায়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন তিনি। সেই থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। ২০১৫ সালে এসে তাকে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক সাংবাদিক শাহাজাদা এমরান পত্র পত্রিকায় লেখালেখি করলে সরকারের নজরে আসে। একই সাথে স্থানীয় প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদও তার সাহায্যে এগিয়ে আসে।২০১৮ সালে সরকার তাকে বীর নারী হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।

বাংলানিউজসিএ/ঢাকা/ ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯ /এমএম


Array