বাংলানিউজসিএ ডেস্ক :: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে নির্মিত ৭৮৭-৯ সিরিজের সম্পূর্ণ নতুন পঞ্চম ও ষষ্ঠ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ। আজ শনিবার বিকেল ৩টা ৪৫মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পঞ্চম ড্রিমলাইনার সোনার তরী অবতরণ করবে। আর মঙ্গলবার ষষ্ঠ ড্রিমলাইনার অচিন পাখি আসবে। এর মাধ্যমে বিমানবহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৮টি।আগামী ২৮ ডিসেম্বর ড্রিমলাইনার সোনার তরী ও অচিন পাখি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
যুক্তরাজ্যের লন্ডন ও ম্যানচেস্টার রুটেই চলবে বিমানের নতুন এসব ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ। ২০২০ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে নতুন করে ফ্লাইট পরিচালনা করতে যাচ্ছে বিমান। সোনার তরী অথবা অচিন পাখি দিয়েই এ রুট উদ্বোধন করা হবে। এছাড়াও অপরটি লন্ডন রুটে নিয়মিত ফ্লাইট যাতায়াত করবে। বিমান সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, ড্রিমলাইনার দুটি আনার জন্য ৪৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আমেরিকার সিয়াটলে গেছেন। এরমধ্যে ১৩ জন প্রকৌশলী, আটজন পাইলট, ১২ জন কেবিন ক্রু এবং সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশের (সিএএবি) দুজন বিশেষজ্ঞ রয়েছেন এই দলে। অন্য যে ১০ জন উড়োাজাহাজ আনার দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন তারা হলেন- অর্থ মন্ত্রণালয়ের দুজন কর্মকর্তা, আইন ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দুজন কর্মকর্তা, বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান, সিএএবির চেয়ারম্যান, বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুজন জনসংযোগ কর্মকর্তা।
জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বর মাসে চতুর্থ ড্রিমলাইনার উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছিলেন, বিমানের জন্য আরো নতুন দুটি ড্রিমলাইনার কেনা হবে। মূলত প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহেই এ দুটি উড়োজাহাজ কিনেছে বিমান। নতুন এ উড়োজাহাজের জন্য প্রায় ৪০টি নামের মধ্যে দুটি নাম পছন্দ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একটির নাম সোনার তরী, অন্যটি অচিন পাখি।
সূত্র আরো জানিয়েছে, বাংলাদেশ বিমানের উড়োজাহাজ কিনতে রিজার্ভ থেকে অর্থ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য সোনালী ব্যাংককে রিজার্ভ থেকে দেয়া হয় ৩১ কোটি ৫০ লাখ ডলার; যার পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় দুই হাজার ৬৫৮ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ৪০ পয়সা)। এ অর্থ দিয়ে বাংলাদেশ বিমানের জন্য দু’টি বোয়িং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজ কেনার দায় শোধ করা হয়। ১০ বছর মেয়াদে সোনালী ব্যাংককে রিজার্ভ থেকে এ অর্থ দেয়া হয়। এতে সোনালী ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংককে লাইবরের (লন্ডন ইন্টার ব্যাংক রেট) সাথে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ হারে সুদ পরিশোধ করবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগ জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৮ ডিসেম্বর নতুন দুই ড্রিমলাইনার এবং বিমানের মোবাইল অ্যাপস আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার জন্য সম্মতি দিয়েছেন। বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনারে আসন সংখ্যা থাকছে মোট ২৯৮টি। এর মধ্যে বিজনেস ক্লাস ৩০টি, প্রিমিয়াম ইকোনমি ক্লাস ২১টি এবং ২৪৭টি ইকোনমি ক্লাস। গত ১৭ নভেম্বর দুবাই উড়োজাহাজ প্রদর্শনীতে বিমান এবং বোয়িং ঘোষণা করে দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার কিনেছে বিমান। প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বিমানের উপ-মহাব্যবস্থাপক তাহেরা খন্দকার বলেন, ৭৮৭-৯ সিরিজের ড্রিমলাইনার সোনার তরী ও অচিন পাখির যে কোনো একটি দিয়ে ম্যানচেস্টার রুটে অপারেশন শুরু করা হবে। আর অপরটি চলবে লন্ডন রুটে। তিনি আরো বলেন, বিমানের মোবাইল অ্যাপস ব্যবহার করে যাত্রীরা নিজের মোবাইল থেকেই কিনতে পারবেন বিমানের সব গন্তব্যের টিকিট। মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন বিকাশ, রকেট কিংবা যে কোনো কার্ডের মাধ্যমে। গুগল প্লে স্টোর অথবা অ্যাপল অ্যাপস স্টোর অ্যাপটি ডাউনলোড করলে পৃথিবীর যে কোনো প্রান্ত থেকে বিমানের ফ্লাইট-সংক্রান্ত সব তথ্য পাওয়া যাবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, ২৮ ডিসেম্বর বিমানের উড়োজাহাজ দুটি উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। একই দিনে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালেরও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। তিনি বলেন, প্রতিটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার বর্তমান বাজারমূল্যের অর্ধেক দামে, অর্থাৎ ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের কমে কেনা হয়েছে। বিমান বহরে বর্তমানে উড়োজাহাজ রয়েছে ১৬টি। এর মধ্যে নিজস্ব উড়োজাহাজের সংখ্যা ১০। বাকি ৬টি লিজে আনা। নিজস্ব ১০টি উড়োজাহাজের সবই বোয়িং কোম্পানি থেকে কেনা। এর মধ্যে ৪টি ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৮, ৪টি ৭৭৭-৩০০ ইআর ও ২টি ৭৩৭-৮০০। নতুন দুটি ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজ নিয়ে বিমানের উড়োজাহাজ হবে ১৮টি। আগামী বছর কানাডা থেকে কেনা ৩টি ড্যাশ-৮ দেশে আসছে।
বাংলানিউজসিএ/ঢাকা/ ২১ ডিসেম্বর ২০১৯ /এমএম





