Menu

বাংলানিউজসিএ ডেস্ক :: সামান্য জরিমানা দিয়েই সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, নতুন আইন কেউ প্রথমবার ভঙ্গ করলে তাকে সামান্য জরিমানা করার পাশাপাশি একটি লিফলেট দেয়া হবে। যাতে পরবর্তীতে একই অপরাধ করলে তাকে আইন অনুযায়ী পুরো জরিমানা বা শাস্তি ভোগ করতে হবে।

গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সড়ক আইন ২০১৮-এর প্রয়োগ বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ঢাকার পুলিশ প্রধান।রাজধানীর অনেক সড়কে ফুট ওভারব্রিজ বা জেব্রা ক্রসিং নেই। সেক্ষেত্রে করণীয় সম্পর্কে মো. শফিুকল ইসলাম বলেন, যেসব জায়গায় জেব্রা ক্রসিং নেই, সেখানে ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা পথচারীদের রাস্তা পারাপারে সাহায্য করবেন। মামলার ধারাগুলো নিয়ে তিনি বলেন, এই মামলায় কিছু বৈচিত্র্য আছে। এখানে সাজার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে। ভয়ে হলেও মানুষের মধ্যে আইন মানার প্রবণতা সৃষ্টি হবে। উন্নত বিশ্বের মতো আইন ভঙ্গের জন্য পয়েন্ট কাটার সিস্টেম করা হয়েছে। পথচারীরা জেব্রা ক্রসিং বা ফুট ওভারব্রিজ দিয়ে পার না হলে নতুন আইনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান থাকলেও আগের আইনে ছিল ২০০ টাকা।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ১ নভেম্বর গেজেট পাশের মাধ্যমে আইন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে নতুন আইন প্রয়োগ নিয়ে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। নতুন ধারা সম্পর্কে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের ৮০০ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইন সম্পর্কে নতুন একটি বই বাজারে এসেছে। সব কর্মকর্তাকে এক মাসের মধ্যে নতুন আইন সম্পর্কে বিস্তারিত জানার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আইন সম্পর্কে সার্জেন্টদের দেয়া বইয়ের ওপর পরীক্ষা নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন এক সপ্তাহ নতুন আইনে কোনো মামলা হবে না। এরপর থেকে রশিদের মাধ্যমে মামলা নেয়া শুরু হবে। মেশিনের সার্ভার আপডেট করার পরে এ পদ্ধতিতে মামলা নেয়া শুরু হবে। নতুন ট্রাফিক আইনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য সাজার পরিমাণ বৃদ্ধি। এর ফলে সবার মধ্যে আইন মানার প্রবণতা বাড়ার পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থা আরো উন্নত হবে বলে মনে করেন ডিএমপি কমিশনার।

পুলিশ কমশিনার বলেন, ট্রাফিক পুলিশের কোনো কর্মকর্তা যদি মামলা না দিয়ে অন্য কোনোভাবে সুবিধা নিতে চায়। আর কেউ যদি অভিযোগ করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা সার্জেন্টদের ক্যামেরা দেব। তাদের ক্যামেরা যদি বন্ধ থাকে, তাহলে ধরে নেয়া হবে তিনি অবৈধ কাজের জন্য তা বন্ধ রেখেছিলেন। সেক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ছাড়া নতুন আইনের কোনো ধারায় যদি কাউকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হয়, তাহলে সে বিষয়ে শুনানির ব্যবস্থা রয়েছে।

বর্তমানে ৯৯ ভাগ সার্জেন্ট ও ট্রাফিক পুলিশ হেলমেট পরেন না। এই আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ স্বচ্ছ থাকবে। আমরা পুলিশের সবাইকে বলে দিয়েছি ট্রাফিকের লোকজন যদি আইন অমান্য করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেব। তিনি বলেন, আগে ডিএমপিতে পজ মেশিনের মাধ্যমে মামলা দিতাম। সফটওয়্যার আপডেটের কারণে মেশিনে মামলা দেয়া আপাতত বন্ধ আছে। আমরা আগের নিয়মে কাগজের কেস সিøপ বই প্রিন্ট করেছি। সেটা দিয়ে আপাতত মামলা দেয়া হবে।

মামলার কাগজ তুলতে ভোগান্তি রোধে নতুন কোনো উদ্যোগ আছে কিনা জানতে চাইলে পুলিশ কমিশনার বলেন, আমরা মামলা দিলে সংশ্লিষ্ট ডেপুটি কমিশনারের কার্যালয়ে তার দায়িত্বে কাগজ দেই। অন্য কোথাও কাগজ দেই না। তার কাছে গেলেই ভোগান্তি ছাড়া গাড়ির কাগজপত্র পাওয়া যাবে।

বাংলানিউজসিএ/ঢাকা/ ০৫ নভেম্বর ২০১৯ /এমএম


Array