প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় সপ্তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। অন্যদিকে রাজধানীর মধ্যে সবচেয়ে দূষিত বাতাস রেকর্ড করা হয়েছে গুলশান লেক পার্ক এলাকায়। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ঢাকার বায়ুমান সূচক (একিউআই) ছিল ১৬৬, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত।
আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্যানুযায়ী, বৈশ্বিক তালিকায় ২০১ একিউআই স্কোর নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ভারতের দিল্লি। ২০০ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। এরপর ১৯৯ স্কোর নিয়ে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর তৃতীয় ও ১৮১ স্কোর নিয়ে ভারতের মুম্বাই চতুর্থ স্থানে রয়েছে।
তালিকার পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে যথাক্রমে সিঙ্গাপুর (১৬৮) ও কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা (১৬৭)। ঢাকার সমান ১৬৬ স্কোর নিয়ে অষ্টম স্থানে রয়েছে ভারতের কলকাতা। এ ছাড়া ১৫৮ স্কোর নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা নবম ও ১৫৬ স্কোর নিয়ে বাহরাইনের মানামা ১০ম স্থানে রয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বায়ুমান পর্যবেক্ষণে দূষণের মাত্রায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে। আইকিউএয়ারের রিয়েল-টাইম তথ্য অনুযায়ী, গুলশান লেক পার্ক এলাকায় একিউআই স্কোর ১৭৯, যা রাজধানীর পর্যবেক্ষণ করা এলাকাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। এরপরের অবস্থানে রয়েছে বারিধারা লেকসাইড এলাকা। সেখানে একিউআই স্কোর ১৭৬। উত্তর বাড্ডার আবদুল্লাহবাগ এলাকায় ১৭৪ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
এ ছাড়া ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় একিউআই স্কোর ১৬৭ এবং বিআইডিএস আউটডোর এলাকায় ১৬৫। বেচারাম দেউড়িতে ১৬৩, বে’স এজওয়াটারে ১৬২ ও গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এলাকায় ১৫৮ স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে।
অন্যদিকে গুলশান-২-এর রব ভবনের সামনে একিউআই স্কোর ১৩৪, যা ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পড়ে। তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে খিলগাঁওয়ের গোড়ান এলাকা। সেখানে একিউআই স্কোর ৭৯, যা ‘মাঝারি’।
আন্তর্জাতিক বায়ুমান সূচকের মানদণ্ড অনুযায়ী, একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ হলে বাতাসকে ‘ভালো’ হিসেবে ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোরকে ‘মাঝারি’ এবং ১০১ থেকে ১৫০ হলে তা ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচিত হয়। আর সূচক ১৫১ থেকে ২০০-এর ঘরে পৌঁছালে সেই বাতাস সাধারণভাবে সব মানুষের জন্যই ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
একইভাবে সূচক ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকলে বাতাসকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে উঠলে তাকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বা মারাত্মক স্বাস্থ্যসংকট বলে ধরা হয়। এই পরিস্থিতিতে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টে ভোগা অসুস্থ ব্যক্তিদের ঘরের ভেতর অবস্থান করা এবং সাধারণ মানুষকে বাইরে চলাফেরা যথাসম্ভব সীমিত রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/২০ অক্টোবর ২০২৬/এএ





