Menu

আহসান রাজীব বুলবুল, প্রধান সম্পাদক, প্রবাস বাংলা ভয়েস :: কানাডার আবাসন বাজারে প্রত্যাশিত গতি ফিরছে না। বাড়ির বন্ধকি ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও উচ্চ আবাসন ব্যয়ের কারণে ক্রেতাদের মধ্যে সতর্কতা বাড়ছে। এর প্রভাবে ২০২৬ সালে বাড়ি বিক্রির পূর্বাভাস আবারও কমিয়েছে কানাডিয়ান রিয়েল এস্টেট অ্যাসোসিয়েশন (সিআরইএ)।

গত ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত সংস্থাটির সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালের তুলনায় চলতি বছরে কানাডায় আবাসিক সম্পত্তি বিক্রি ৫ দশমিক ২ শতাংশ কমতে পারে।

সিআরই’এর হিসাবে, ২০২৬ সালে কানাডায় প্রায় ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৫৩০টি আবাসিক সম্পত্তি বিক্রি হতে পারে। বছরের শুরুতে সংস্থাটি বিক্রিতে ৫ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল। পরে পূর্বাভাস সংশোধন করে এপ্রিল মাসে ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এবং জুলাইয়ে ১ দশমিক ৪ শতাংশ পতনের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। সর্বশেষ হিসাবে বিক্রি কমার পূর্বাভাস আরও বেড়েছে।

সিআরইএর সর্বশেষ মাসিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে আগের মাসের তুলনায় বাড়ি বিক্রি ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় প্রকৃত বিক্রির সংখ্যা কমেছে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ। একই সময়ে নতুন করে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত বাড়ির সংখ্যা আগস্টের তুলনায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে।

সেপ্টেম্বরে কানাডায় বাড়ির জাতীয় গড় বিক্রয়মূল্য দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬৬ হাজার ৫৩৮ কানাডীয় ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ মূল্য ১ দশমিক ৬ শতাংশ কম। অন্যদিকে, বাড়ির ধরন ও বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য বিবেচনায় নিয়ে হিসাব করা জাতীয় সমন্বিত আবাসন মূল্যসূচক এক বছরে কমেছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ।

আবাসন বাজারের মন্থরতার অন্যতম কারণ হিসেবে বন্ধকি ঋণের সুদের হার বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেছে সিআরইএ। বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি নিয়ে অনিশ্চয়তার পাশাপাশি কানাডার কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কাও ক্রেতাদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে। বাড়ি কেনার সামর্থ্য আগে থেকেই চাপে থাকায় অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা আপাতত কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন।

বিক্রি কমার আশঙ্কা থাকলেও সারা দেশে বাড়ির দাম একই হারে কমবে, এমন পূর্বাভাস দেয়নি সিআরইএ। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৬ সালে কানাডায় বাড়ির জাতীয় গড় বিক্রয়মূল্য বছরে ০ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৬ লাখ ৮১ হাজার ৬৮১ ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে অঞ্চলভেদে পরিস্থিতি আলাদা। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় গড় মূল্য ০ দশমিক ৮ শতাংশ এবং অন্টারিওতে ৩ শতাংশ কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, কয়েকটি প্রদেশে মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

সিআরইএ আগামী বছর আবাসন বাজারে কিছুটা গতি ফেরার প্রত্যাশা করছে। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালে বাড়ি বিক্রি ৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ২৩৫টিতে পৌঁছাতে পারে। একই বছরে জাতীয় গড় বিক্রয়মূল্য ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৬ লাখ ৮৯ হাজার ৯০৯ ডলার হতে পারে। তবে এ পূর্বাভাস নির্ভর করছে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং ঋণের সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা কমার ওপর।

সব মিলিয়ে, কানাডার আবাসন বাজারে বর্তমানে ক্রেতাদের চাহিদা দুর্বল হয়ে পড়লেও পরিস্থিতি সর্বত্র এক নয়। কোথাও বাড়ির দাম কমছে, আবার কোথাও তা বাড়ছে। ফলে বাড়ি কেনা বা বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাজারদর, বন্ধকি ঋণের ব্যয় এবং বিক্রির জন্য থাকা সম্পত্তির সংখ্যা বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/১৮ অক্টোবর ২০২৬/এএ


Array

এই বিভাগের আরও সংবাদ