Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অর্থায়ন বন্ধ করতে আইসিসিকে অনুরোধ করার খবর অস্বীকার করেছেন সাবেক বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। এক ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেছেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটের ক্ষতি হয় এমন কোনো অনুরোধ তিনি কখনো করেননি।

সম্প্রতি ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আমিনুল ইসলাম আইসিসিকে প্রায় ১৪ পৃষ্ঠার একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে তিনি বিসিবির বর্তমান বোর্ডের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্য আইসিসির অর্থায়ন স্থগিতের অনুরোধ করেছেন বলে দাবি করা হয়।

এই খবরের পর ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন আমিনুল। তিনি বলেন, ‘একটা খবর দেখলাম যে আমি নাকি আইসিসিকে রিকোয়েস্ট করেছি বাংলাদেশের ফান্ডিং বন্ধ করে দেওয়ার জন্য। সেটা কখনোই সম্ভব না এবং সেটা আমার দ্বারা কখনো হয়নি, ঘটেওনি। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা।’

আমিনুলের দাবি, তার বিরুদ্ধে একটি গোষ্ঠী নিয়মিত মিথ্যা প্রচার চালিয়ে আসছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে কাজ করার সময়ও প্রতিদিন তাকে বিরক্ত করা হতো এবং বিভিন্ন মিথ্যা কথা প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করা হতো। তার ভাষায়, আগেও সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, এবারও ব্যর্থ হবে।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, দেশে থাকার সময় প্রতিদিন তাকে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার গুঞ্জন ছড়ানো হতো। কখনো বলা হতো তিনি অস্ট্রেলিয়া চলে যাচ্ছেন, কখনো অন্য কোথাও যাচ্ছেন। পরে সেসব খবর মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে বলেও দাবি করেন সাবেক এই বিসিবি সভাপতি।

আইসিসির অর্থায়ন বন্ধের অনুরোধ করার অভিযোগ অস্বীকার করে আমিনুল বলেন, বাংলাদেশের ক্ষতি হয় এমন কোনো অনুরোধ তিনি কখনো করবেন না। তার বক্তব্য, ‘আইসিসির কাছে আমি কখনো এমন কোনো রিকোয়েস্ট করব না, যাতে বাংলাদেশের কোনো ক্ষতি হয়।’

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আইসিসির সঙ্গে তার এমন কোনো সরাসরি প্রভাব বা প্রবেশাধিকার নেই, যার মাধ্যমে তার কথায় আইসিসি কোনো সিদ্ধান্ত নেবে। আমিনুলের ভাষায়, ‘আমার কথা আইসিসি কেন শুনবে? আইসিসির সঙ্গে সেই অ্যাকসেসটা আমার নেই এখন।’

বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রতি নিজের অবস্থানও পরিষ্কার করেছেন আমিনুল। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে তারা আছেন এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট এগিয়ে যাক, ভালো হোক, সেটিই তারা চান।

গত এপ্রিলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আমিনুল ইসলাম নেতৃত্বাধীন বিসিবি বোর্ড ভেঙে দেয়। আগের বোর্ড নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানানো হয়েছিল। এরপর তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়। পরে জুনে বিসিবি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং তামিম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হন।

এই প্রেক্ষাপটেই আইসিসিতে চিঠি পাঠানো নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে আমিনুলের দাবি, তাকে ঘিরে যে খবর ছড়ানো হয়েছে, সেটি মিথ্যা এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটের ক্ষতি করার মতো কোনো পদক্ষেপ তিনি নেননি।

এখন পর্যন্ত আইসিসি বা বিসিবির পক্ষ থেকে আমিনুলের ভিডিও বক্তব্য নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাই বিষয়টি আপাতত ক্রিকবাজের প্রতিবেদন, আমিনুলের অস্বীকার এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সম্ভাব্য ব্যাখ্যার পর্যায়েই আছে।

প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/২৬ জুন ২০২৬/এএ


Array