প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে পটুয়াখালীর আলীপুর ও মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের পাইকারি বাজারে ইলিশের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় বড় সাইজের ইলিশ প্রায় দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে, ফলে বাজারে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা।
রোববার (১২ এপ্রিল) বিকালে দেশের অন্যতম বৃহৎ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ঘুরে ইলিশের সরবরাহ কম লক্ষ্য করা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সীমিত পরিসরে ছোট ও মাঝারি আকারের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। পাইকারি বাজারে ৯০০ থেকে ১১০০ গ্রামের ইলিশ প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায়। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশের দাম ৮০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা, ৪০০ থেকে ৬০০ গ্রামের ইলিশ ৬০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা এবং ছোট জাটকা ইলিশ ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে পাইকারি বাজারে দামের এই প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। শহরের নিউমার্কেট মাছ বাজারসহ জেলার বিভিন্ন বাজারে চড়া দামে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। এতে সাধারণ ক্রেতারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেকেই বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে বৈশাখে ইলিশ খাওয়া কেবলই স্বপ্ন হয়ে যাবে।
মহিপুরের ভাই ভাই আড়তের বিক্রেতা মো. শাহআলম হাওলাদার বলেন, সাগরে ইলিশের পরিমাণ কমে গেছে। এর সঙ্গে জ্বালানি তেলের সংকট যুক্ত হওয়ায় অনেক জেলে সাগরে যেতে পারছেন না, ফলে সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি সমস্যার পাশাপাশি ১৫ এপ্রিল থেকে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শুরু হবে। সব মিলিয়ে বাজারে সরবরাহ কম, কিন্তু চাহিদা বেশি—তাই দাম বেড়ে গেছে।
বাজারে ইলিশ কিনতে আসা নুরজামান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই দামে ইলিশ কেনা সম্ভব নয়। মনে হচ্ছে, এবার শুধু দেখেই ইলিশের স্বাদ নিতে হবে।
মহিপুর মৎস্য আড়ত সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি মো. ফজলু গাজী বলেন, চাহিদা অনুযায়ী সাগরে মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। বৈশাখের বাজার ধরার মতো পর্যাপ্ত ইলিশ নেই, তাই দাম বেড়েছে।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, প্রতি বছর বৈশাখকে কেন্দ্র করে ইলিশের চাহিদা বাড়ে। তবে এবার সরবরাহ কম থাকায় দামের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়েছে।
প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/১২ এপ্রিল ২০২৬/এএ





