Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: গণভোটে অনুমোদিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার আন্দোলনে নামছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। এদিন শুরু হবে সপ্তাহব্যাপী গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ। আগামী শনিবার দেশের সব মহানগরে এবং পরের দিন সব জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ হবে। সোমবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে নাগরিক সমাজকে নিয়ে হবে জাতীয় সেমিনার।

গতকাল মঙ্গলবার মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। অভিযোগ করা হয়, বিএনপি গণভোটের ফল প্রত্যাখান করে জুলাই সনদের সঙ্গে ছলচাতুরী করছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমেদ আবদুল কাদের, এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চান, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আতহারী প্রমুখ।

মামুনুল হক বলেন, গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। নির্বাচিত সরকার গণভোটের রায় কার্যকরে ছলচাতুরী আশ্রয় নিচ্ছে। মানুষের ম্যান্ডেটকে শুধু উপেক্ষা নয়, উপহাস করে সংসদের ভেতরে ও বাইরে অপমানজনক বক্তব্য দিচ্ছে। অথচ প্রত্যাশ্যা ছিল, জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে অন্তত সংস্কারের বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য থাকবে।
গুম প্রতিরোধ, সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্তের ক্ষমতাসহ মানবাধিকার কমিশন, প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন কাউন্সিলের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগ, অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণে পৃথক সুপ্রিম কোট সচিবালয়, দুদক অধ্যাদেশসহ বিভিন্ন সংস্কারমূলক অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর না করায় হতাশা প্রকাশ করেন মামুনুল হক। তিনি বলেন, আবার ভিন্নরূপে ফ্যাসিবাদকে ফিরিয়ে আনতে চাই সরকার। ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন আমরা আবার যে কোনো মূল্যে রুখে দেব।

গণভোটে অনুমোদিত জুলাই সনদ আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের দাবি করে মামুনুল হক বলেছেন, সরকার গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করে একদলীয় শাসনব্যবস্থার দিকে যাচ্ছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই সনদের স্বাক্ষরকারী বিএনপি জাতিকে বিস্মিত করে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না। গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হওয়ার পর সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করছে না। তারা এখন নোট অব ডিসেন্টের কথা বলছে। কিন্তু গণভোটে চার কোটি ৮২ লাখ ভোটার হ্যাঁ ভোট দিয়ে তাদের নোট অব ডিসেন্ট খারিজ করে দিয়েছে। সংবিধান মানলে জনগণের এই অভিপ্রায়ই সর্বোচ্চ আইন।

বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদের প্রতি ইঙ্গিত করে গোলাম পরওয়ার বলেছেন, একজন ব্যক্তিই শুধু সংবিধান সম্পর্কে তাঁর ইচ্ছামতো ব্যাখ্যা দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করছেন। দেশে আইনজ্ঞ, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটাকে খণ্ডন করেছেন। গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, যে সংকট সংসদে সমাধান করা সম্ভব, সরকার তা রাজপথে ঠেলে দিতে চাইলে বিরোধী দলের আর পথ থাকবে না। রাজপথের আন্দোলন দমনের হুমকি, আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসিবাদী ভাষা।

প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/০৮ এপ্রিল ২০২৬/এএ


Array