বাংলানিউজসিএ ডেস্ক :: সব নারীতে মাতৃরূপ উপলব্ধি করে শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্যতম আকর্ষণ কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৬ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন মণ্ডপে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। পূজা উপলক্ষে সজ্জিত করা হয় মন্দির।
কুমারী পূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিতে মণ্ডপ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশের তল্লাশি শেষে মন্দিরে প্রবেশ করতে হয়েছে সবাইকে। কুমারী পূজার পরে ১২টা পর্যন্ত চলে সন্ধিপূজা। পূজা শেষে ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।সকালে নির্দিষ্ট কুমারীকে স্নান করিয়ে নতুন কাপড় পড়িয়ে ফুলের মালা, চন্দন ও নানান অলংকার-প্রসাধন উপাচারে নিপুণ দেবী সাজে সাজানো হয়।
শনিবার ছিল দুর্গাপূজার মহাসপ্তমী। আজ রোববার মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা। কর্মসূচী অনুযায়ী, সকাল ১০টায় রাজধানীর গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ পূজামট মেয়েকে কুমারী হিসেবে মনোনীত করা হয়, যাকে দেবী দুর্গার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা অনুসারে তার একটি নামকরণও করা হয়। শাস্ত্রমতে- এক বছর বয়সে সন্ধ্যা, দুইয়ে সরস্বতী, তিনে ত্রিধামূর্তি, চারে কলিকা, পাঁচে সুভগা, ছয়ে উমা, সাতে মালনী, আটে কুব্জিকা, নয়ে কালসন্দর্ভা, দশে অপরাজিতা, এগারোয় রুদ্রানী, বারোয় ভৈরবী, তেরোয় মহালক্ষ্মী, চৌদ্দয় পীঠনায়িকা, পনেরোয় ক্ষেত্রজ্ঞা এবং ষোলো বছরে অন্নদা বলা হয়ে থাকে।
এরপর পুষ্পাঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণ শেষে দুপুর ২টা ২৬ মিনিট থেকে ৩টা ১৪ মিনিটের মধ্যে সন্ধিপূজা অনুষ্ঠিত হয়।আজ দেবীর প্রতীক হিসেবে যে কুমারী মেয়েটিকে পূজা করা হয়েছে, প্রথা ও নিরাপত্তার কারণে তার নাম ও পরিচয় পূজা শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রকাশ করা হয় না বলে জানিয়েছেন রামকৃষ্ণ মিশন কর্তৃপক্ষ। রাজধানী ছাড়াও রামকৃষ্ণ মিশনের নারায়ণগঞ্জ, দিনাজপুর, ফরিদপুরসহ কয়েকটি মঠ এবং কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী পূজামণ্ডপেও আজ কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রতিবারের মতো এ বছরও আমরা আজ সকালে কুমারী পূজার আয়োজন করেছি। পাঁচ থেকে ছয় বছরের বালিকাকে সাজানো হবে কুমারী মাতৃকারূপে। এ উপলক্ষ্যে রামকৃষ্ণ মিশন ও এর আশপাশে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কুমারী পূজা সম্পর্কে হিন্দুদের বৃহদ্ধর্মপুরাণে বলা হয়েছে, রাম-রাবণের যুদ্ধে রামকে জেতাতে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর একযোগে নেমে পড়েছেন। তখন শরত্কাল, দক্ষিণায়ন। দেবতাদের নিদ্রার সময়। তাই ব্রহ্মা দেবীকে স্মরণ করলেন। দেবী কুমারীর বেশে এসে ব্রহ্মাকে বললেন, বিল্ববৃক্ষমূলে (বেল গাছ) দুর্গার বোধন করতে। দেবতারা মর্ত্যে এসে দেখলেন, এক দুর্গম স্থানে একটি বেলগাছের শাখায় সবুজ পাতার রাশির মধ্যে ঘুমিয়ে রয়েছে একটি তপ্তকাঞ্চন বর্ণা বালিকা। ব্রহ্মা বুঝলেন, এই বালিকাই জগজ্জননী দুর্গা। তিনি বোধন স্তবে তাকে জাগরিত করলেন। ব্রহ্মার স্তবে জাগরিতা দেবী বালিকামূর্তি ত্যাগ করে চণ্ডিকামূর্তি ধারণ করলেন। তন্ত্রসার মতে, এক থেকে ষোলো বছর পর্যন্ত বালিকারা কুমারী পূজার উপযুক্ত। তাদের অবশ্যই ঋতুমতি হওয়া চলবে না।
১৯০১ সালে ভারতীয় দার্শনিক ও ধর্মপ্রচারক স্বামী বিবেকানন্দ সর্বপ্রথম কলকাতার বেলুড় মঠে ৯ জন কুমারী পূজার মাধ্যমে এর পুনঃপ্রচলন করেন। তখন থেকে প্রতিবছর দুর্গাপূজার অষ্টমী তিথিতে এ পূজা চলে আসছে।আগামীকাল সোমবার ৭ অক্টোবর মহানবমী। এরপর ৮ অক্টোবর বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনের দুর্গোৎসব।
বাংলানিউজসিএ/ঢাকা/ ০৬ অক্টোবর ২০১৯/ এমএম





