প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: বগুড়ায় কাঁচা শাকসবজি কয়েক হাত ঘুরে ভোক্তাপর্যায়ে প্রায় দ্বিগুণ দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় ট্রাকে পরিবহণের সময় অন্তত হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়। বর্তমান বাজার দর অনুসারে কৃষকরা মোটামুটি লাভবান হলেও অধিক দামে কিনতে হওয়ায় সাধারণ ভোক্তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।সোমবার বগুড়ার সর্ববৃহৎ কাঁচা শাকসবজির মোকাম মহাস্থান হাটে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় আড়ৎদার ও ব্যবসায়ীরা কৃষকদের কাছে মানভেদে প্রতি কেজি পাকরি আলু ১৫ টাকা, কার্ডিনাল আলু ১৩ টাকা, পেঁয়াজ ৪৫-৫০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২৫-১৩০ টাকা, বেগুন ৪০-৪৫ টাকা, পটল ৪০-৪৫ টাকা, ঢেঁড়স ৪০-৫০ টাকা, করলা ৬০-৮০ টাকা, ধুন্দল ৪০ টাকা, মুলা ২৫-৩০ টাকা, কচুর বৈ ১৫-১৭ টাকা, শশা ৫০ টাকা, ঝিঙে ৫০ টাকা, কুমড়া প্রতি পিস ২০-৩০ টাকা ও লাউ ৩৫-৪০ টাকায় কিনছেন। এছাড়া লাল, পুঁই ও পালং শাক ২৫-৪০ টাকায় কিনছেন।
বগুড়া সদরের লাহিড়ীপাড়ার রেজাউল করিম, যশোপাড়ার সোহেল প্রামাণিক, মহিষবাথানের ঝন্টু শেখ, গাবতলীর মহিষাবান গ্রামের মন্তেজার রহমানসহ কৃষকরা জানান, বর্তমান বাজার দর অনুসারে তারা কাঁচা শাকসবজি বিক্রি করে মোটামুটি লাভবান হচ্ছেন।মহাস্থান কাঁচা বাজার ও আড়ৎ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং মুক্তি ফল ও বীজ ভাণ্ডারের মালিক রহেদুল ইসলাম জানান, তারা কয়েকজন ব্যবসায়ী কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি শাকসবজি কিনে স্বল্প লাভে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে ট্রাকযোগে পাঠিয়ে থাকেন। এতে তাদের প্রতি কেজি শাকসবজিতে ৫-৭ টাকা খরচ পড়ে। তবে চট্টগ্রামের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পণ্য পৌঁছাতে কেজিতে ৮-৯ টাকা খরচ পড়ে। প্রতিটি ট্রাকের ধারণ ক্ষমতা ১৪-১৬ মেট্রিক টন। এ খরচ বেপারিরা দিয়ে থাকেন।
তিনি আরও বলেন, তারা স্বল্প লাভে কাঁচা শাকসবজি বিক্রি করে থাকলেও খুচরা বাজারে দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। এতে খুচরা ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠে যায়।মহাস্থান হাটের বেপারি মোকছেদ আলী, সিরাজুল ইসলাম, মোস্তাফিজার রহমান প্রমুখ জানান, তারা বাজারের পাইকারি ক্রেতাদের কাছে কাঁচ শাকসবজি কিনে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বিভিন্ন মোকামে পাঠানোর জন্য ট্রাকে লোড দেন। মোকামে পৌঁছাতে ২২ হাজার টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা ভাড়া লাগে।তারা আরও বলেন, পথিমধ্যে বিভিন্ন জেলায় ট্রাফিক ও শ্রমিক সংগঠন, পৌরসভাসহ বিভিন্ন খাতে প্রতি ট্রাকে ৮০০ থেকে হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়। ট্রাকের চালকরা এ চাঁদা দিয়ে থাকেন।
অন্যদিকে সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বগুড়া শহরের সুলতানগঞ্জপাড়া, নামাজগড়, ফুলবাড়ি, কাইলার বাজারসহ বিভিন্ন খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি কেজি পাকরি আলু ২৪ টাকা, কার্ডিনাল আলু ২০ টাকা, পেঁয়াজ ৭০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬৪ টাকা, করলা ১০০ টাকা, ধুন্দল ৪৮ টাকা, মুলা ৩৫ টাকা, কচুর বৈ ৩২ টাকা, শশা ৬০ টাকা, ঝিঙে ৬০ টাকা, কুমড়া প্রতি পিস ৪০ টাকা ও লাউ ৫০ টাকায় কিনছেন। এছাড়া লাল, পুঁই ও পালং শাক ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।ব্যবসায়ী লিখন শেখ, মতি মণ্ডল, সিরাজুল ইসলাম, মন্টু মিয়াসহ কয়েকজন জানান, তারা প্রতি কেজিতে ২-৫ টাকা লাভে খুচরা বিক্রি করে থাকেন।
ভোক্তা পর্যায়ে দ্বিগুণ মূল্য প্রসঙ্গে ব্যবসায়ীরা জানান, গত কয়েক দিনের অবিরাম বৃষ্টিতে অনেক এলাকায় জমিতে শাক-সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নানা কারণে আমদানি কম হওয়ায় বাজারে কাঁচা শাকসবজির মূল্য বেড়েছে।বগুড়া শহরের বাদুড়তলার রেজাউল হক, সেউজগাড়ি শাহজাহান আলী, সুলতানগঞ্জপাড়ার আইরিন হক জানান, প্রতিদিনই কাঁচা শাকসবজির মূল্য বেড়েই চলেছে। বাজার করতে গিয়ে দোকানিদের সঙ্গে মাঝে মাঝে বাগবিতণ্ডা হয়ে থাকে।
প্রবাস বাংলা ভয়েস /ঢাকা/ ২৫ আগস্ট ২০২৫ /এমএম