প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: নিঃশ্বাস বা মুখের দুর্গন্ধ নিয়ে আমাদের মধ্যে অনেকেই চিন্তিত থাকেন। এটি আমাদের সামাজিক জীবনের জন্য একটি বাঁধা হিসেবে দাঁড়াতে পারে। এই সমস্যার জন্য হয়তো খুব অল্পতেই যে কেউ লজ্জিত হতে পারেন। কিন্তু খুব সহজ কয়েকটি নিয়ম মেনে চললেই পেতে পারেন সজীব ও সতেজ নিঃশ্বাস। আজকের প্রতিবেদনে জানাবো নিঃশ্বাস বা মুখের দুর্গন্ধ দূর করার কিছু কার্যকরী উপায় সম্পর্কে।
নিঃশ্বাস অথবা মুখে দুর্গন্ধ দূর করার উপায়
(১) নিয়মিত দাঁত মাজুন এবং ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করুন
নিঃশ্বাস বা মুখে দুর্গন্ধের প্রধান একটি কারণ হলো প্লাক। এটি এক ধরনের আবরণ যা দাঁতের উপর লেগে থাকে এবং এর ওপর ব্যাকটেরিয়া জমে থাকে। দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা খাবারের কণা এই সমস্যা আরো বাড়িয়ে দেয়। যদি আপনার নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত হন তাহলে নিয়মিত দাঁত মাজুন এবং ফ্লস ব্যবহার করুন। কিন্তু কখনই প্রয়োজনের অতিরিক্ত করবেন না। খুব জোর দিয়ে দাঁত মাজলে দাঁতের এনামেল ক্ষয় হয়ে যায়। ফলে আপনার দাঁত ক্ষয়ের সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।
(২) মুখে দুর্গন্ধ তৈরি করে এমন খাদ্য পরিহার করুন
পেঁয়াজ ও রসুন খাওয়ার ফলে নিঃশ্বাস বা মুখে দুর্গন্ধ তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে পেঁয়াজ বা রসুন খাওয়ার পরে শুধু দাঁত মাজলেই দুর্গন্ধ দূর হয় না। কারণ এগুলোর কিছু উপাদান রক্তের সাথে মিশে আমাদের ফুসফুস পর্যন্ত যায় ফলে নিঃশ্বাসের সাথে দুর্গন্ধ বের হয়ে আসে। এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণের উপায় হলো পেঁয়াজ ও রসুন না খাওয়া। বিশেষ করে কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে অথবা কাজে যাওয়ার আগে তো একেবারেই নয়।
(৩) জিহ্বা পরিষ্কার রাখুন
স্বাভাবিকভাবেই আমাদের জিহ্বার ওপরে এক ধরনের আবরণ তৈরি হয়। এই আবরণ দুর্গন্ধযুক্ত ব্যাকটেরিয়া তৈরি করে। আপনার টুথব্রাশের সাহায্যে এই আবরণ পরিষ্কার করে নিতে পারেন। অনেকের কাছেই টুথব্রাশের সাহায্যে জিহ্বা একদম পেছন পর্যন্ত পরিষ্কার করাটা কঠিন মনে হতে পারে যেহেতু জিহ্বার তুলনায় টুথব্রাশগুলো বড় হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে আপনি টাং স্ক্র্যাপার ব্যবহার করতে পারেন। প্রতিদিন সঠিকভাবে মুখগহ্বরের যত্নের জন্য টাং স্ক্র্যাপার এর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। জিহ্বার চারপাশে ব্যাকটেরিয়া, খাবারের কণা আর মৃত কোষগুলোকে দূর করার জন্য এটি বিশেষভাবে তৈরি। এটি টুথব্রাশের চাইতেও অনেক বেশি কার্যকরী। এটি ব্যবহারে নিঃশ্বাস অথবা মুখে দুর্গন্ধ দূর হয়ে যাবে।
(৪) মুখগহ্বর পরিষ্কার করা
নিঃশ্বাসের সতেজতা ধরে রাখার জন্য অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল মাউথওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন। কোনো কিছু খাওয়ার পর পরিষ্কার পানি দিয়ে কুলি করে ফেলুন। তাহলে দাঁত ও মুখে লেগে থাকা খাবারের কণা পরিষ্কার হয়ে যাবে।
(৫) ক্ষতিকর অভ্যাস পরিহার করুন
ধূমপান নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ তৈরি হওয়ার একটি উল্লেখযোগ্য কারণ। ধূমপানের ফলে মাড়ির টিস্যু ক্ষতিগ্রস্থ হয় আর দাঁতের ওপর দাগ তৈরি হয়। এই অভ্যাস মুখের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দেয়। ধূমপান করা থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে চাইলে চিকিৎসকের সাহায্য নিতে পারেন। দেহে নিকোটিনের চাহিদা কমিয়ে আনবে এমন ঔষধ গ্রহণ করতে পারেন।
(৬) দাঁতের মাড়ির যত্ন নিন
ব্যাক্টেরিয়ার মাধ্যমে দাঁতের মাড়ির বিভিন্ন রোগ হয় যা পেরিওডেন্টাল ডিজিজ নামে পরিচিত। এর কারণে মুখে দুর্গন্ধ তৈরি হয়। তাই সবসময় মাড়ির যত্ন নিন এবং পরিষ্কার রাখুন।
(৭) রাতের খাবারের পর মিষ্টি কিছু খাবেন না
ক্যান্ডি, চুইংগাম এবং যেকোনো মিষ্টি জাতীয় খাবার মুখের ভেতর দুর্গন্ধযুক্ত ব্যাকটেরিয়া প্রস্তুত ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। তবে চিনিমুক্ত চুইংগাম খেতে পারেন।
(৮) চিকিৎসকের পরামর্শ
নিয়ম মেনে চলার পরেও যদি মুখে দুর্গন্ধ হয় তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কারণ অনেক সময় সাইনাস ইনফেকশন, ফুসফুসের ইনফেকশন, লিভার ও কিডনির সমস্যার কারণেও মুখে ও নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ তৈরি হয়।
(৯) মুখগহ্বর যেন শুষ্ক না থাকে
যদি আপনার মুখের ভেতর শুকিয়ে যায় তাহলে প্রচুর পানি পান করুন। চিনিমুক্ত চুইংগাম খান অথবা চিনিমুক্ত ক্যান্ডি চুষে খাবেন। এর ফলে আপনার মুখের ভেতরের অংশ শুষ্ক হবে না।
প্রবাস বাংলা ভয়েস /ঢাকা/ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ /এমএম





