Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক ::‌  আকবর সাহেব ও রহিমা বেগমের ৫৩ বছরের সংসার জীবন। সুখ, দুঃখ, হাসি,কান্না সব একসাথে বয়ে নিয়ে হাতে হাত রেখে কাটিয়েছেন এই ৫৩ টি বছর। জীবনের শেষ বয়সে এসেও একে অপরের প্রতি কি তীব্র ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা। তাদের ভালোবাসা দেখলে হিংসে করার মতো। তবে তারাও হাজারটা রাগ অভিমান সঙ্গে নিয়েই ৫৩ টি বছর কাটিয়ে দিয়েছেন।

দাম্পত্য জীবনে রাগ-অভিমান বা ঝগড়া হবেনা, এটা সম্ভব না। দুনিয়াতে এমন কোনো দম্পতি নেই যারা ঝগড়া বিবাদ করেনি কখনো। অনেকে তো বলেই বসেন যে ঝগড়া ছাড়া কোনো দাম্পত্যকে সম্পূর্ণই বলা যাবেনা। ঝগড়া কেন হয় আসলে? যদি কোনো অভিযোগ, অভিমান থাকে তবেই হয়। যেখানে কোনো অভিমান বা অভিযোগ নেই, সেই দাম্পত্য যেন প্রাণহীন, তাতে কোনো গতিই নেই। বরং রাগ-অভিমান-ঝগড়ায় মোড়া দাম্পত্যই অনেক অনেক বেশি কাম্য। এতে করে যেন ভালোবাসা আরও বেড়ে যায়। টান আর আকর্ষণ আরও মজবুত হয়। কষ্ট বাস্তবতা শেখার ফলে পরবর্তী পথ চলায় পরস্পরের প্রতি আস্থা বাড়ে। সম্পর্কে সচেতনতার বৃদ্ধি ঘটে।

রাগ, অভিমান ও কষ্টের নেতিবাচক দিকগুলো তাহলে কি?

অতিরিক্ত রাগের ফলে দাম্পত্যে কলহ বাড়তে থাকে। রাগ ও কষ্ট পরস্পর শ্রদ্ধাবোধ নষ্ট করে, অনেক সময় মানসিক দিক থেকে উভয়কে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অভিমান ও রাগ থেকে সম্পর্কে প্রতিযোগিতা দেখা দেয়।অতিরিক্ত কষ্টের ফলে পরস্পরের সম্পর্কের প্রতি অনীহা কাজ করে।অনেক সময়ে দেখা যায়, জেদ বা রাগের বশে প্রায় জোর করেই একজন আরেকজনকে কষ্ট দেয়। আবার কখনো বা নিজেকেই কষ্ট দিয়ে বসে।

আবার অনেক সময় দেখা যায়, রাগ আর ক্ষোভের বশে একে অন্যকে অপমান অপদস্থ করে বসে। এতে তুমুল পর্যায়ে ঝগড়াও শুরু হয়ে যায়। কিন্তু অভিমান কেটে গেলেই শুরু হয় অনুশোচনা। তখন দেখা যায় সঙ্গীকে অপমান করে নিজেরই অপরাধবোধ শুরু হয়ে যায়। হয়তো কোনো কটু কথা বা খারাপ ব্যবহার করেও অনেক সময়ে চটিয়ে দেওয়া হয় সঙ্গীকে। কখনো ইচ্ছা করে, কখনো ইচ্ছা না করে। কখনো বা কোনো কারণ ছাড়াই।

অযথা কষ্ট নিতে নেই
সুখ-দুঃখের অঙ্গিনায় তৈরি হয় কষ্ট। কষ্ট যেকোনো কারণেই আসতে পারে। হতে পারে পারিবারিক বা ব্যক্তিগত কারণ। তবে কষ্ট ভাগাভাগি করে নিলে দাম্পত্য জীবনে এর প্রভাব অনেকটা কমে আসে।প্রতিদিন নয় যে দম্পতির দেখা হয় সপ্তাহের শেষেপ্রতিদিন নয় যে দম্পতির দেখা হয় সপ্তাহের শেষে

অহেতুক রাগ এড়িয়ে চলুন
রাগ হল মানুষের মনের হিংসাত্মক মনোভাব। রাগ বা ক্ষোভ মানুষের মনে বেশীদিন জমা থাকলে এক পর্যায়ে অপর ব্যক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এছাড়া যার মনে ক্ষোভ অনুভূতি কাজ করতে থাকে সে মানসিক দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাগ যে কারো প্রতি সৃষ্টি হতে পারে। তবে দাম্পত্যে জীবনে অতিরিক্ত রাগ এড়িয়ে চলা ভালো।

অভিমানের মূল্যায়ন বুঝতে হবে
অভিমান বিষয়টি দারুণ একটি অনুভূতি যা দাম্পত্য জীবনে থাকা প্রয়োজন। ‘অভিমান অনুভূতি’ মূলত কাছের মানুষের সাথেই ঘটে থাকে। অভিমান হয় অপর ব্যক্তির প্রতি ভালোবাসা ও প্রত্যাশা থেকে। তবে ব্যক্তির অভিমান কে সর্বক্ষণ অবহেলা করলে সম্পর্ক খারাপ দিকে যেতে পারে

সম্পর্কে রাগ, অভিমান, কষ্ট বিষয়গুলো ঠিক যেন টক, ঝাল, মিষ্টি স্বাদের মত যা দাম্পত্যে জীবনে উপভোগ করা দরকার। তবে এ বিষয়গুলো বেশীদিন মনে পুষে না রাখাই ভালো। এ পরিস্থিতি গুলোতে দুজন সমঝোতায় আসতে পারলে ভালোবাসা ও সম্পর্ক আগের চেয়ে মধুর হয়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য বলছে, কয়েক বছর ধরে তালাকের প্রবণতা বাড়ছে। শিক্ষিত স্বামী-স্ত্রীদের মধ্যে তালাক বেশি হচ্ছে। ২০১৯ সালের জুন মাসে প্রকাশিত বিবিএসের দ্য সিচুয়েশন অব ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে তালাকের ঘটনা বেড়েছে ১৭ শতাংশ। গত বছর ১৫ বছরের বেশি বয়সী প্রতি ১ হাজার নারী-পুরুষের মধ্যে গড়ে ১ দশমিক ৪টি তালাকের ঘটনা ঘটে।

আবার করোনা মহামারীর সময় এ সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছ। করোনার শুরুর বছর অর্থাৎ ২০২০ সালে বিশেষ করে ঢাকায় তালাক বা বিবাহবিচ্ছেদ বেড়েছিল কয়েকগুণ। এ বছরের জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ মাসে ঢাকায় বিবাহবিচ্ছেদ আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। এই সময়ে দৈনিক ৩৯টি তালাকের ঘটনা ঘটেছে, অর্থাৎ প্রতি ৩৭ মিনিটে একটি তালাক হয়েছে।এমন পরিসংখ্যান বাড়াতে যাতে আপনার রাগ অভিমান সাহায্য না করে সে খেয়াল রাখুন। তবেই সুস্থ থাকবে সম্পর্ক।

প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ১০ মার্চ ২০২৩ /এমএম


Array