প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে ডিজিটাল ডিভাইসের দিকে ঝুঁকতে হয় প্রত্যেককে। দৈনন্দিন জীবনে সব ধরনের কাজেই এসব ডিভাইস ব্যবহার করতে হয়। গান শোনা, খবর জানা, বই পড়া অথবা নাগরিক সুবিধা পেতে ইন্টারনেটের শরণাপন্ন হন সবাই। যেকোনো ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারে বয়োজ্যেষ্ঠরা বরাবরই এ ব্যাপারে পিছিয়ে থাকেন। অবশ্য আজকাল তারা স্মার্টফোন ব্যবহারে পারদর্শী হয়ে উঠতে শুরু করেছেন। ফলে আপনার সঙ্গে যোগাযোগের পথটিও সহজ হয়ে উঠেছে। কিন্তু এখনও অনেকেই সঠিকভাবে কম্পিউটার ব্যবহার করতে শিখেননি। বলা যায়, এই যন্ত্রটিকে তারা কিছুটা ভয় পান। কি করতে গিয়ে কি হবে তাই যেন বুঝে উঠতে পারেন না। অথচ কম্পিউটার যন্ত্রটি দিয়ে অনেক কিছুই সহজে করে ফেলা সম্ভব।
সম্প্রতি বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রযুক্তির সঙ্গে সংযুক্ত করার সংস্কৃতি সবার মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। প্রযুক্তির সবকিছু যে মন্দ নয় কিংবা কম্পিউটার ব্যবহার করলেই যে তরুণ প্রজন্ম বিপথগামী হন না সেকথা বোঝানোর জন্যেই তাদের কম্পিউটারে হাতেখড়ি দেওয়া প্রয়োজন। তবে কম্পিউটার শেখানোর কাজটি বেশ কঠিন। কম্পিউটারে অনেক ফাংশন আছে যা আপনার অনেক কাজ দ্রুত ও সহজ করে তোলে। তাই বয়োজ্যেষ্ঠরা দ্রুত শিখতে পারেন না। ধৈর্য নিয়ে আপনাকে তাদের শিখিয়ে দিতে হবে। কিন্তু কিভাবে? এ নিয়েই আজ রইলো আমাদের কিছু পরামর্শ।
বাবা-মার আগ্রহ জাগিয়ে তুলুন
যেমনটা বলছিলাম, বয়স্কদের জন্য কম্পিউটারের প্রক্রিয়াগুলো শেখা জটিল দেখায়। এত ফাংশনের মাঝে খেঁই হারিয়ে ফেলেন বলে তারা দ্রুতই ক্ষান্তি দেন। জটিলতার ভয় থেকেই তারা কয়েকদিন পর ছেড়ে দেন। কিন্তু আপনাকেই এখানে তাদের আগ্রহ জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করতে হবে। সেজন্য আপনি কম্পিউটারের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ফাংশনের সঙ্গে তাদের পরিচয় করিয়ে দিন। অনেকে মনে করেন, চমকদার সব ফাংশনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। কিন্তু যেমনটা বলেছি, আপনার কাছে যা সহজ পূর্ববর্তী প্রজন্মের কাছে তা নাও হতে পারে।
তাদের আচরণ লক্ষ্য করুন
যখন কম্পিউটারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবেন, তখন তাদের আচরণ লক্ষ্য করবেন। একটানা প্রশিক্ষণের মধ্যে রাখবেন না। তাদের মাঝেমধ্যে সেই কাজের প্রক্রিয়াটুকুর উপকারী দিক আলোচনা করবেন। এক্ষেত্রে আপনি তাদের বোঝাবেন, কখনও জরুরি প্রয়োজনে আপনার তাদের সাহায্য প্রয়োজন হতে পারে। এভাবে নানাভাবে নিজের প্রয়োজন বুঝিয়ে তাদের শেখার আগ্রহ বাড়িয়ে ফেলবেন।
কম্পিউটার চালু করা শেখানো সবচেয়ে সহজ
বয়োজ্যেষ্ঠরা কম্পিউটার শিখতে চান না চালু করতে পারবেন না বলে। পাওয়ার বাটনটি থেকেই তাদের সকল ভয়। সেই ভয় ভাঙাতে হবে। সেজন্য কম্পিউটারের বিভিন্ন অংশ কি তা নিয়ে আলোচনা করার কোনো প্রয়োজন নেই। কিভাবে কম্পিউটারের তারগুলো সংযুক্ত করে ফেলা যায় এবং চালু করা যায় সহজে তা দেখিয়ে দিন। অতিরিক্ত জটিল বিষয় উল্লেখ করে তাদের দ্বিধাগ্রস্ত করবেন না। শুধু চালানোর প্রক্রিয়াটি দেখিয়ে দিন। এভাবেই প্রথম ভয়টি তাদের ভেঙে ফেলুন। একথাও মনে রাখতে হবে, কম্পিউটারে অনেক পোর্ট আর বাটন থাকে। অনেক সময় এসব বাটন দেখে দ্বিধাগ্রস্ত হতে পারেন তারা। সেজন্য ছোট ছোট স্টিকারে চিহ্নিতকরণ নাম লিখে লাগিয়ে নিন। যেমন পাওয়ার বাটনের জন্য একটি স্টিকার, পোর্টের নাম লিখে আরেকটি স্টিকার লাগিয়ে দিতে পারেন।
তারপর কি-বোর্ডের পালা
কম্পিউটার চালু করানোর পর আপনাকে কি-বোর্ডের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। কারণ কম্পিউটারে কি-বোর্ড ছাড়া কিছুই করা সম্ভব না। সেজন্য আপনাকে কি-বোর্ড বদলে নিতে হতে পারে। এমন কি-বোর্ড কিনবেন যাতে টাইপ করা সহজ এবং সহজেই বাটন শনাক্ত করা যায়। অনেক কিবোর্ডে টাইপ করতে বেশি জোর প্রয়োগ করতে হয়। আপনার বাবা-মার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে মাউস ও কিবোর্ড রাখবেন। এমনকি কম্পিউটার মনিটরটিও যেন ভালো থাকে। এসব নিশ্চিত করে তাদের কিবোর্ডের হাতেখড়ি দেবেন। সচরাচর টাইপিং এর যে প্রক্রিয়া সবাই অনুসরণ করে সেসব দেখানোর প্রয়োজন নেই। তাদের শুধু নিজের মতো টাইপ করতে দিন। আপনি আশেপাশে এত মনোযোগ দিয়ে ঘুরঘুর করবেন না। তারা কিছু জিজ্ঞেস করলে দেখিয়ে দেবেন। তারা যেভাবে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন সেভাবেই কি-বোর্ড ব্যবহার করতে দিন। যখন কিছুটা হাতে আসবে তখন কি-বোর্ডের ফাংশনগুলো শেখাবেন।
টাস্কবারে অ্যাপ্লিকেশন পিন করে দিন
আপনার বাবা-মা কম্পিউটার ব্যবহার শিখলেও তা সামান্য কয়েকটি অ্যাপ্লিকেশনে সীমাবদ্ধ থাকবে। সেজন্য তারা যে অ্যাপ্লিকেশন বেশি ব্যবহার করেন সেগুলো তাদের চোখের সামনে রেখে দিন। কম্পিউটারের প্রায় সকল অ্যাপ্লিকেশন স্টার্ট বারে থাকে। কিন্তু সেখানে অ্যাপ্লিকেশন খুঁজে নেওয়া কঠিন। আবার ডেস্কটপে অ্যাপের শর্টকাট রেখে দিন। সবচেয়ে ভালো হয় যদি অ্যাপ্লিকেশনগুলো পিন করে দিতে পারেন তাহলে ভালো হয়।
ব্রাউজার সুরক্ষিত করুন
কম্পিউটার ব্যবহারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ব্রাউজার। ব্রাউজার ব্যবহারের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কম্পিউটার ব্রাউজারের কিছু সমস্যা থাকে। প্রথমত ব্রাউজারের ট্যাব কিভাবে পরিচালনা করতে হয়, কিভাবে ব্রাউজার চালাতে হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করলে লগিন-লগ আউট এসব বিষয় থাকে। তাছাড়া কিছু ডাউনলোড করলে কিভাবে ফাইল খুঁজে বের করবে এসবও শিখিয়ে দিতে হবে। ব্রাউজারের কিছু প্রাথমিক ব্যবহার বাদেও সুরক্ষার বিষয়ে জোর দিতে হবে। ব্রাউজারে এখন ডিজিটাল বিজ্ঞাপন দেখানো হয়। সেসব ডিজিটাল বিজ্ঞাপন অনেক সময় বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সেজন্য এডব্লকার ব্যবহার করুন। আবার অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কিংবা বাজে ওয়েবসাইটে ভুলে প্রবেশ যেন করতে না পারেন তার জন্য নিরাপত্তা সেটিংস নির্ধারণ করে দিন। এমনকি কোন কোন কাজ ব্রাউজারে করা যাবে না কিংবা কিভাবে অনলাইনের ঝুঁকি এড়ানো যাবে তা শিখিয়ে দিন। ব্রাউজার সুরক্ষিত করে তাদের ব্রাউজারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিন।
ব্রাউজারে বুকমার্ক রাখুন
ব্রাউজারের ভেতরেও শর্টকাট বানিয়ে নিন। তারা কোন কোন ওয়েবসাইট কিংবা প্লাটফর্মে বেশি যাবেন তা জেনে নিন। সেগুলো বুকমার্ক কিংবা শর্টকাট হিসেবে রেখে তাদের শনাক্ত করিয়ে দিন। এমন করলে খুব সহজেই তারা ব্রাউজার ব্যবহার করতে পারবেন।
ডায়াগ্রাম বানিয়ে নিন
বয়স হলে ভুলে যাওয়াটা স্বাভাবিক। বাবা-মার ক্ষেত্রে বিষয়টি খুব স্বাভাবিক। তাদের বোঝার সুবিধার জন্য একটি নির্দেশিকা কাগজে বানিয়ে রাখুন। কিংবা ডায়াগ্রাম বানিয়ে নিন। কম্পিউটারের পাশে কিংবা দেয়ালে সহজেই তাদের চোখে পড়ে এমন স্থানে রাখুন এসব।
লেখালেখির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিন
মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের ব্যবহার শিখিয়ে দিলে তারা লেখালেখির প্রক্রিয়া চিনে নিতে পারবেন। কম্পিউটার শেখানোর সময়ে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে পারলে তারা দ্রুত কিবোর্ড আয়ত্ত করতে পারবেন।
সর্বোপরি, মনে রাখতে হবে, কম্পিউটার শেখানোর কাজটি সহজ নয়। বিশেষত বয়স্করা যে সময়ের প্রতিনিধিত্ব এই সময়ে করছেন, সেই সময় বিবেচনায় কাজটি বেশ কঠিন। তাই আপনাকেই ধৈর্য্যধারণ করতে হবে। বিরক্ত হওয়া চলবে না। আর একবার শিখিয়ে নিতে পারলে আপনিও অনেক কিছুতে তাদের সংযুক্ত করতে পারবেন।
প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ০২ জানুয়ারি ২০২৩ /এমএম





