Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক ::‌  বর্ষা এলেই রোগের প্রকোপ বাড়ে। ক্ষতিকারক সব ব্যাকটেরিয়া সক্রিয় হয়ে ডায়রিয়া, কলেরা, পেট খারাপ, বদহজম, ঠাণ্ডাজনিত সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত করে বাড়ির ছোটবড় সবাইকে। সেই সঙ্গে মশাবাহিত বিভিন্ন রোগ ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়া তো আছেই। শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বড়দের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম। তাই প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতার।

সর্দি-জ্বর: বৃষ্টির দিনগুলোতে বাতাসে নানা রকম জীবাণুর সংক্রমণ বেড়ে যায়। কখনো রোদ আবার কখনো বৃষ্টির ঠাণ্ডা-গরমে অনেক বাচ্চাই এ সময়ে অসুস্থ হয়ে যায়। বিশেষ করে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। অনেকের আবার সাধারণ ফ্লুও হয়ে থাকে। জ্বর, ক্লান্তি, গায়ে ব্যথা, কাশি, গলা ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা যায় ফ্লু-এ। কারও কারও আবার পেটের গোলমালও দেখা দেয়।

ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া: বর্ষায় মশার উৎপাত বাড়ে। সঙ্গে বাড়ে মশার কামড়ে সংক্রমিত রোগও। ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়ার মতো রোগ বেশি দেখা যায় বর্ষায়। প্রবল জ্বল, মাথাব্যথা, গাঁটে ব্যথা, বমি, পেটের গোলমাল, র‌্যাশের মতো সমস্যা দেখা যায় এই সব অসুখে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা, প্রচুর পরিমাণে পানি পান, পুষ্টিকর খাওয়াদাওয়া করা প্রয়োজন সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য।

বর্ষায় অনেক বাচ্চারই পেটে গোলমাল দেখা দেয়

খাদ্য ও পানি থেকে সংক্রমণ: বর্ষায় খাদ্য ও পানি দূষণের ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিভিন্ন রোগে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। এর মধ্যে টাইফয়েড, কলেরা, জন্ডিস অন্যতম। এই ধরনের জটিল রোগ সহজেই কাবু করে দিতে পারে বাচ্চাদের। সংক্রমিত খাবার বা পানি খেলেই অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। নানা রকম উপসর্গ দেখা যায় এ ধরনের রোগগুলোতে যার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়।

ত্বকের সমস্যা: বর্ষায় ছত্রাকজনিত সংক্রমণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে বৃষ্টির পানি বা জমে থাকা নোংরা পানি গায়ে লেগে বাচ্চাদের ত্বকে নানা রকমের ইনফেকশন বা র‌্যাশ হতে পারে। আরও হতে পারে অ্যাথলেট ফুট, টিনিয়াসিস বা দাদ, খোসপাঁচড়া, সেবোরিক ডারমাটাইটিস, একজিমা ও টিনিয়া ক্যাপিটিস। এ ধরনের চর্মরোগ থেকে রক্ষা পেতে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা খুব দরকার।বাচ্চাদের দুপুর বা রাতের খাবারে যেন পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন এবং সবুজ শাকসবজি থাকে সে দিকটাতে নজর রাখুন

কী করে সুস্থ রাখবেন বাচ্চাদের

পথেঘাটে নোংরা পানি যদি বাচ্চাদের ত্বকে লাগে তাহলে বাড়ি ফিরে দ্রুত ধুয়ে ফেলতে হবে। ভেজা কাপড় পাল্টে শুকনা কাপড় পরাতে হবে।বৃষ্টিতে ভিজে গেলে সঙ্গে সঙ্গে গোসল করিয়ে ভালো করে গা মুছে শুকনো পোশাক পরিয়ে দিন। স্যাঁতসেঁতে আধা ভেজা কাপড়চোপড় পরবেন না।হাত-পা নিয়মিত ধোয়ার অভ্যাস করান। খাওয়ার আগে ভালো করে হাত ধুতে শেখান।

বাইরের খাবার এই সময়ে একটু এড়িয়ে চলাই ভালো। দুপুর বা রাতের খাবারে যেন পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন এবং সবুজ শাকসবজি থাকে সে দিকটাতে নজর রাখুন। মৌসুমি ফল খাওয়াবেন। যাতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
খুব বেশি তেল ও মসলাযুক্ত খাবার না দেওয়াই ভালো। অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় খাবার কিংবা প্রসেস করা খাবারও বর্ষায় বাচ্চাদের খেতে দিবেন না।

সারাদিন পরিমাণ মতো পানি পান করাবেন বাচ্চাদের। শরীরে যেন কোনো ভাবেই শুকিয়ে না যায়। বাচ্চাদের ব্যক্তিগত চিরুনি, তোয়ালে, সাবান, বিছানা-বালিশ কারও সঙ্গে ভাগাভাগি করবেন না। ত্বক শুষ্ক রাখবেন, বিশেষ করে শরীরের ভাঁজগুলো।

প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ০৩ জুলাই ২০২২ /এমএম


Array